Home / খবর / বিপুল সংবর্ধনা প্রধানমন্ত্রীকে

বিপুল সংবর্ধনা প্রধানমন্ত্রীকে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিপুল সংবর্ধনা দিয়েছেন বিশিষ্ট নাগরিক ও দলের নেতাকর্মীরা জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিয়ে দেশে ফেরায় । জাতিসংঘে রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রস্তাব পেশ ও এ ইস্যুতে বিশ্ববাসীর প্রশংসা অর্জন করায় প্রধানমন্ত্রীকে এ সংবর্ধনা দেয়া হয়। গতকাল সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ সংবর্ধনা জানান দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা। পরে বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। সংবর্ধনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর দোয়া চেয়ে বলেছেন, নিজের জন্য নয়, এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে রোহিঙ্গা ইস্যু ও পদ্মা সেতু দৃশমান হওয়ার প্রসঙ্গটি আনেন। পদ্মা সেতু দৃশমান হওয়াকে মিথ্যা অপবাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত জবাব উল্লেখ করে তিনি বলেন, যিনি বাংলাদেশের দুর্নীতির বিষয়ে সে সময় সবচেয়ে সরব ছিলেন তার নিজেরই ৪০ হাজার পৃষ্ঠার দুর্নীতির খতিয়ান প্রকাশ পেয়েছে। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা ঘিরে সকালে রাজধানীর কয়েকটি সড়ক যান চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে এ সংবর্ধনা দেয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সময় পুরো সড়ক বন্ধ করে দেয়ায় আটকে ছিল দূরপাল্লার যানবাহনও। সংবর্ধনা উপলক্ষে বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত সড়ক সাজানো হয়েছিল নানা ব্যানার ফেস্টুনে। এসব ব্যানার ফেস্টুনজুড়ে প্রধানমন্ত্রীকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ উল্লেখ করে লেখা ছিল শুভেচ্ছা স্লোগান। বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে দেয়া সংবর্ধনায় বিশিষ্ট নাগরিক, সিনিয়র সাংবাদিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে আবারো বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ সরকারের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একে কেন্দ্র করে তার সরকার এবং পরিবারকে নিয়ে কুৎসা রটনা করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। স্বার্থান্বেষী মহল একে কেন্দ্র করে আমাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ দেয়ার চেষ্টা করে এবং অতি উৎসাহী মহল জনগণকেও বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে।
অনেকেই মনে করে যখন একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা এমন অভিযোগ করছে, কাজেই এটি সত্যি হতে পারে। কিন্তুু আমার আত্মবিশ্বাস ছিল যে, এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যই আমার এই দেশে আসা, নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য নয়।
ওই সময়ের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাই আমাদের এমনভাবে দেখতে আরম্ভ করে, যেন আমরা না কী অন্যায় করে ফেলেছি। আন্তর্জাতিক সংস্থাটি সে সময় অপপ্রচার শুরু করে এবং দুর্নীতির অভিযোগে পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়। দুর্নীতির তদন্তে একটি কমিটিও গঠন করে তারা।
আমি তখন বলেছি, প্রকল্পে কোনো দুর্নীতি হয়নি। আর যদি হয়ে থাকে তাহলে তা প্রমাণ করতে হবে। কিন্তু তারা এই অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়। অথচ, যিনি বাংলাদেশের দুর্নীতির বিষয়ে সে সময় সবচেয়ে সরব ছিলেন তার নিজেরই ৪০ হাজার পৃষ্ঠার দুর্নীতির খতিয়ান প্রকাশ পেয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, অনেকেই তখন বিশ্বাস করতে পারেনি সরকার নিজস্ব অর্থে এই সেতু নির্মাণে সক্ষম হবে। মন্ত্রিসভার অনেকের মধ্যেও তখন সে বিশ্বাস ছিল না। কিন্তু আমার প্রতিজ্ঞা ছিল, নিজস্ব অর্থেই পদ্মা সেতু নির্মাণ হবে। অনেকেই তখন আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল, যেহেতু পদ্মা সেতু এলাকার সঙ্গে তার নির্বাচনী এলাকা সম্পর্কিত, সেহেতু তার নির্বাচনী আসনের কী হবে, তখন আমি বলেছিলাম, আমরা ক্ষমতায় যাওয়ার লোভে বা নির্বাচনে বিজয়ের জন্য এটা করছি না।
প্রধানমন্ত্রী দেশের দক্ষিণ জনপদকে যুক্তকারী এই সেতু নির্মাণে তাকে অকুণ্ঠ সমর্থনের জন্য দেশ-বিদেশে অবস্থানকারী সব বাংলাদেশিদের অভিনন্দন জানান। নিজস্ব অর্থায়নে এই সেতু নির্মাণে সমর্থ হওয়ায় সরকার দেশ ও জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনে সক্ষম হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের চেয়ে বড় আর কিছু একজন রাজনীতিকের জীবনে হতে পারে না। আর এটাই সব থেকে বড় উপহার, যা আমি অর্জন করেছি।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় কর্তব্য হিসেবে মিয়ানমারের এই মুসলিম জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশে আমরা আশ্রয় দেয়ার সিদ্ধান্ত নেই। রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ে প্রথমে দ্বিধায় ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথমে আমরা দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম। খোঁজ নিয়ে দেখলাম, যে অত্যাচার হয়েছে পৃথিবীতে বহু এরকম ঘটনা ঘটে। অনেকে দরজা বন্ধ করে রাখে। রেহানা বললো, ১৬ কোটি লোককে খাওয়াচ্ছো, আর ৫ থেকে ৭ লাখ লোককে খাওয়াতে পারবে না? আমি সেখানে গেলাম, সবাইকে ডেকে বললাম, আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে। এ মানুষগুলোকে আশ্রয় দেওয়া ও খাওয়াতে হবে। আমরা তাদের আশ্রয় না দিলে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যেতো না। তিনি বলেন, মানুষ মানুষের জন্য, বিপন্ন মানুষকে আশ্রয় দেয়া মানুষের কর্তব্য। আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে বলেই আমরা এই চ্যালেঞ্জটা নিয়েছি।
তিনি বলেন, এখন তারা যেভাবে আছে, সেভাবে থাকতে পারে না। আমি যাওয়ার আগেই নেভিকে টাকা দিয়ে গিয়েছিলাম। ভাসান চরে দুটি সাইক্লোন সেন্টার ও আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। নোয়াখালীর লোকজন বলে ঠেঙ্গার চর, আর চিটাগাংয়ে বলে ভাসান চর। যেহেতু, এরা ভাসমান, তাই আমি বললাম, ভাসান চর নামটাই থাকুক। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। তারা (রোহিঙ্গা) যেন স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করতে পারে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। রোহিঙ্গা সংকটের মধ্যে মিয়ানমারের প্ররোচনায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের একেবারে প্রতিবেশী। একটা পর্যায়ে এমন একটা ভাব দেখালো, আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ বেধেই যাবে। আমাদের সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড, পুলিশসহ সকলকে সতর্ক করলাম যেন কোনোমতেই কোনো রকম উসকানির কাছে তারা বিভ্রান্ত না হয়। যতক্ষণ পর্যন্ত আমি নির্দেশ না দিই।
সড়কে নেতাকর্মীদের ঢল: প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া সংবর্ধনা উপলক্ষে সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা গণভবন থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন। তারা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন বহন করেন। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে স্লোগান দেন। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন শাখা, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, কৃষক লীগ ও জাতীয় শ্রমিক লীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা সংবর্ধনায় অংশ নেন। রাজধানী ও আশপাশের জেলা থেকে বাস ও ট্রাকে করে তারা নিজ নিজ নির্ধারিত স্থানে জমায়েত হন। দলীয় সভানেত্রীকে অভিনন্দন জানাতে খোলা ট্রাকে বাউল সংগীতের আয়োজন করেন। বাউল শিল্পীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গানের মাধ্যমে পরিবেশন করেন। সকাল নয়টার মধ্যে বিজয় সরণি মোড় থেকে গণভবনের প্রবেশদ্বার পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। বিজয় সরণি মোড়ে সকাল সাতটা থেকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীরা রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে যান। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী জাদুঘরের সামনে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)’র সহ-সভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন খলিফার নেতৃত্বে বিএমএ’র নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান।
এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসাহাক আলী খান পান্না, সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন, বদিউজ্জামান সোহাগসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। কৃষকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ কৃষকলীগ, আওয়ামী হকার্স লীগ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্মচারী লীগ, বাংলাদেশ গণপূর্ত অধিদপ্তর শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা লীগ, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ, গণতন্ত্রী পার্টি, বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন, যুব মহিলা লীগ ও সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উড়োজাহাজ ক্রসিংয়ে জাতীয় পার্টি (জেপি)’র নেতা-কর্মীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান। ক্রিসেন্ট লেক সংলগ্ন উড়োজাহাজ ক্রসিং থেকে গণভবনের প্রবেশ পথ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, নারায়নগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ, কেরানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলানগর থানা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রাস্তার দুপাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান।
সড়কে দুর্ভোগ: এদিকে সংবর্ধনা ঘিরে সকালেই প্রধান কয়েকটি সড়কে যানজট তৈরি হয়। এসব সড়কে যান ও সাধারণ মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করায় অনেকে দুর্ভোগে পড়েন। সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে সকালে দূরপাল্লার বাস নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যেতে পারেনি। অফিসগামী লোকজনকেও বিপাকে পড়তে হয়। সকাল সোয়া ১০টা পর্যন্ত উত্তরামুখী সড়কটি খোলা থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর বের হওয়ার আধা ঘণ্টা আগেই দুপাশের সড়কই আটকে দেয়া হয়। এতে অফিসমুখী মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ে। পৌনে ১০টার দিকে হজ ক্যাম্পের দিক থেকে আসা রাস্তাটিও বন্ধ করে দেয়া হয়। জনসাধারণের গতিরোধ করা হয়। উত্তরা যেতে মহাখালীর আমতলী এলাকায় বাসের অপেক্ষারত সোহেল বলেন, দুই ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি, কোনো গাড়ি পাচ্ছি না। ৯টায় অফিসে থাকার কথা থাকলেও বেলা সাড়ে ১০টা পেরিয়েও অফিসে যেতে পারিনি। পৌনে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর বিমানবন্দরের সামনের সড়কটি খুলে দেয়া হলেও রাস্তার ওপর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অবস্থানের কারণে আরও কিছু সময় গাড়ি চলাচল করতে পারেনি। উত্তরাবাসীকে গাড়িতে আটকা পড়ে থাকতে হয়, একই সময়ে খিলক্ষেত, কুড়িল বিশ্ব রোড, কাওলা, বনানী এলাকায় মানুষকে গাড়ির অপেক্ষায় থাকতে হয় দাঁড়িয়ে। কুড়িলে অপেক্ষারত তানজির আরেফিন নামে এক ব্যক্তি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেয়া হবে, ভালো কথা। কিন্তু সেটা নির্দিষ্ট একটা জায়গায় দিলে আমাদের ভোগান্তি হয় না। এদিকে শাহবাগ থেকে ফার্মগেট হয়ে মিরপুর ও উত্তরাগামী যানবাহনও বিজয় সরণি থেকে কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখায় যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। প্রধানমন্ত্রী গণভবনে পৌঁছার পর এসব সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*