Home / অন্যান্য / অপরাধ / সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় করা হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের দুই মামলায় আসামিদের সাফাই সাক্ষ্য শেষে যুক্তিতর্কের দিন ঠিক হয়েছে। আগামী ২৩ অক্টোবর থেকে যুক্তি উপস্থাপন শুরু হবে।

বুধবার মামলা দুটিতে সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ায় ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নুরুদ্দিন ২৩, ২৪ ও ২৫ অক্টোবর যুক্তি উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন।

আজ মামলা দুটিতে কারাগারে থাকা আসামি মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে মাসুম বিল্লাহ ওরফে খাজা ওরফে আবু জান্দালের সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এদিন আসামি আবু জান্দালকে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌশলী সৈয়দ রেজাউর রহমান অবশিষ্ট জেরা শেষ করেন।

এর আগে গত ১২ জুন মামলাটিতে জামিনে ও কারাগারে থাকা ৩১ আসামির আত্মপক্ষ শুনানি শুরু হয়, যা গত ১১ জুলাই শেষ হয়। আত্মপক্ষ শুনানিতে ৩১ আসামির সবাই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। এরপর শুরু হয় সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ। কারাগারে থাকা ২৩ আসামির মধ্যে ২০ আসামি সাফাই সাক্ষ্য দেন।

উল্লেখ্য, মামলাটিতে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৮ আসামি পলাতক রয়েছে। এর আগে গত ৩০ মে মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়।

মামলাটিতে ২০০৮ সালের ১১ জুন ২২জনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রথম চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি। ওই বছর ২৯ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে ট্রাইব্যুনাল। ২০০৯ সালের ৯ জুন পর্যন্ত ৬১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল।

২০০৯ সালের ৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। ২০১১ সালের ৩ জুলাই অধিকতর তদন্ত শেষে তারেক রহমানসহ আরও ৩০ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি।

২০১২ সালের ১৮ মার্চ তারেক রহমানসহ সম্পূরক চার্জশিটের ৩০ আসামির অভিযোগ গঠন করে ফের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

মামলাটিতে আসামি খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা, শহিদুল হক ও খোদা বক্স চৌধুরী এবং মামলাটির তিন তদন্ত কর্মকর্তা সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সিআইডির সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান, এএসপি আব্দুর রশীদ ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম জামিনে আছেন।

অন্যদিকে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ২৩ জন কারাগারে রয়েছে। মামলার আসামি জামায়াত নেতা আলী আহসান মুহাম্মাদ মুজাহিদের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এবং সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর উপর হামলার মামলায় হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নান ও শরিফ শাহেদুল ইসলাম বিপুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভায় গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন মারা যান। গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত হন কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও শ্রবনশক্তি হারান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*