Home / আর্ন্তজাতিক / জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কড়া নিন্দা রোহিঙ্গা দমনের বিরুদ্ধে

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কড়া নিন্দা রোহিঙ্গা দমনের বিরুদ্ধে

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমারে সহিংসতার বিরুদ্ধে কড়া নিন্দা জানিয়েছে । সেখানকার রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ বন্ধ নিশ্চিত করতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মানবাধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।  রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর নৃশংস নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘের প্রেসিডেন্সিয়াল এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। সোমবার এ বিবৃতি দেয়া হয়। এতে আন্তঃসম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বন্ধ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের প্রতিনিধিরা জোর দিয়ে বলেছেন, এ সঙ্কট সমাধানের জন্য বিবৃতি মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারবে না।

 এটা অযৌক্তিকও। এরই মধ্যে সহিংসতার কারণে দেশ ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার। তা বাস্তবায়নের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, এ নৃশংসতার শিকার মানুষগুলোকে মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। নভেম্বরের জন্য নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি ইতালি। এ দেশের সেবাস্তিয়ানো কারডি সোমবার বিকেলে মিয়ানমার ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতি পড়ে শোনান। এ বিষয়ে স্থানীয় সময় বিকাল ৩টা ৬ মিনিটে বৈঠক শুরু হয়। তা শেষ হয় বিকাল ৩ টা ৩০ মিনিটে। ২৫ শে আগস্ট মিয়ানমারের নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের ওপর আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির হামলারও নিন্দা জানানো হয়েছে। ওই ঘটনার পর জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে কমপক্ষে ৬ লাখ ৭ হাজার মানুষ পালিয়ে এসেছে বাংলাদেশে। এর বেশির ভাগই রোহিঙ্গা। এই জনগোষ্ঠীর ওপর চালানো হয়েছে পর্যায়ক্রমিক হত্যাকা-, যৌন সহিংসতা, ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে তাদের বাড়িঘর। এসব মানুষকে রক্ষা করা মিয়ানমার সরকারের প্রাথমিক দায়িত্ব। এ কথা উল্লেখ করে স্বৈরশাসন থেকে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় নিরাপত্তা ও বিচারিক খাতে সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে নিরাপত্তা পরিষদ। শরণার্থীদের নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে তাদের বাড়িঘরে স্বেচ্ছায় ফেরা অনুমোদন করে বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েঁেছ মিয়ানমারের প্রতি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে ২৪ শে অক্টোবর সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। তার ভিত্তিতে শরণার্থীদের ফেরা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। মানবিক সহায়তা, পুনর্বাসন ও রাখাইনের উন্নয়নে মিয়ানমার ‘ইউনিয়ন এন্টারপ্রাইজ মেকানিজম’ প্রতিষ্ঠার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাকে স্বাগত জানিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। এ কথা উল্লেখ করে রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরা ও সেখানে জাতিসংঘের সব এজেন্সির অবাধ প্রবেশাধিকার দেয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে মিয়ানমার সরকারের প্রতি। এর প্রেক্ষিতে সরকার ও মানবাধিকার বিষয়ক সব অংশীদারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে নারীদের প্রতি, বিশেষ করে যারা যৌন সহিংসতার শিকার হয়ে বেঁচে আছেন তাদের বিষয়ে বিশেষভাবে মনোযোগ দিতে। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বাধীন এডভাইজরি কমিশন অন রাখাইন স্টেট-এর সুপারিশ বাস্তবায়নে মিয়ানমার সরকার যে সমর্থন দিয়েছে তাকেও স্বাগত জানিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। বিবৃতিতে কোনো বৈষম্য ছাড়া, চলাচলের অবাধ স্বাধীনতা অনুমোদন করে, মৌলিক সেবা পাওয়ার অধিকার, পূর্ণাঙ্গ নাগরিকত্বের সমান সুবিধা বজায় রাখার যেসব মানবাধিকার আছে তা সুরক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে মানবাধিকারের বিরুদ্ধে সহিংসতার স্বচ্ছ তদন্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে এসব অপরাধের জন্য যারা দায়ী তাদেরকে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে। মানবাবিক সহায়তা, বাংলাদেশ ও আঞ্চলিক অন্য দেশগুলো ও সংগঠনের সংলাপ উদ্যোগকে সমর্থন দেয়ার ক্ষেত্রে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ মহাসচিব অ্যান্টনিও গুতেরাঁর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সরাসরি মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে অব্যাবহ যোগাযোগ রাখতে। তাকে উৎসাহিত করা হয়েছে মিয়ানমার বিষয়ক একজন স্পেশাল এডভাইজর নিয়োগ দিতে। তবে নিরাপত্তা পরিষদের এ বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মিয়ানমারের প্রতিনিধি। তিনি বলেছেন, ২৫ শে আগস্ট আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির (আরসা) সন্ত্রাসী হামলা একটি ভয়াবহ ট্রাজেডির জন্ম দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে বাইরের কোনো সন্ত্রাসীও। মিয়ানমারের প্রতিনিধি বলেন, এ সমস্যা সমাধানে তার সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। দু’দেশ এরই মধ্যে সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষর করেছে। নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্সিয়াল বিবৃতির কিছু অংশ প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার। তা সত্ত্বেও তারা বলেছে, রাখাইন রাজ্যে স্থিতিশীল একটি সমাধানের জন্য তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। শান্তি ও উন্নয়নের জন্য জাতিসংঘ সহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে অব্যাহতভাবে কাজ করে যাবে মিয়ানমার সরকার। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এই বিস্তৃত এই বিবৃতির জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের প্রতিনিধি। তিনি বলেছেন, এটা সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা এখন প্রয়োজন ছিল। এক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কয়েক লাখ শরণার্থীকে সাহায্য দেয়া অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ এবং এ সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের সঙ্গে অব্যাহতভাবে যোগাযোগ রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধি বলেছেন, নিরাপত্তা পরিষদের এই বিবৃতি পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করবে। এক্ষেত্রে যেসব বিষয়কে অগ্রাধিকারে রাখা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছেÑ পর্যাপ্ত সাহায্য, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোয় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি, রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার ও মর্যাদা রক্ষা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*