Home / Alertnews.tv / দুর্ঘটনার কবলে ২৪ গাড়ি দিল্লির মহাসড়কে ধোঁয়াশা, (ভিডিও)

দুর্ঘটনার কবলে ২৪ গাড়ি দিল্লির মহাসড়কে ধোঁয়াশা, (ভিডিও)

যেন গাড়ির স্তূপ রাস্তা নয় । কোনওটা সম্পূর্ণ উল্টে গিয়েছে। কোনওটা একদিকে হেলে রয়েছে। দুমড়ে মুচড়ে ভয়াবহ অবস্থা। সেই সঙ্গে মানুষজনের আর্তনাদ আর চিৎকার। গতকাল মঙ্গলবার সকালে দিল্লির যমুনা এক্সপ্রেসওয়ের দৃশ্য ছিল কার্যত এটাই।

গত দুই দিন ধরেই ধোঁয়াশা গ্রাস করেছে দিল্লির আকাশকে। ধোঁয়াশার চাদরে মুখ ঢেকেছে রাজপথগুলিও। গতকাল সকালে তারই বলি হয়েছে অন্তত ২৪টি গাড়ি। ধোঁয়াশার চাদর এতটাই মোটা যে, রাস্তা ঠাওর  করতে না পেরে একটার পর একটা গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। পরস্পরকে ধাক্কা মারতে মারতে একে অপরের ওপরেও উঠে যায়। ঘটনায় আহত হয়েছেন বহু মানুষ। গুরুতর জখম বেশ কয়েকজন চালক।

স্থানীয়েরা তাদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যায়। গোটা ঘটনাটাই ভিডিওবন্দি হয়ে ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ধোঁয়াশামোড়া দিল্লির এই পরিস্থিতি দেখে শিউরে উঠেছে গোটা দেশ।

বায়ু দূষণের প্রকোপে কার্যত অচল দিল্লি। প্রতিবছর এই সময় দূষণের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়। তার ওপর  দিওয়ালির উৎসবে আতশবাজির ধোঁয়া কুয়াশার সঙ্গে মিশে দৃশ্যমানতা কমিয়ে দিয়েছে অনেকটাই। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই বছর দিওয়ালিতে আতশবাজি বিক্রির ওপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। যদিও তাতে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

সরকারি তথ্য বলছে, এই বছর বাতাসে ধূলিকণা এবং অন্যন্য ক্ষতিকর উপাদানের পরিমাণ অনেকটাই বেড়েছে।

পরিবেশবিদেরা জানাচ্ছেন, বাতাসে ক্ষতিকর উপাদানের বাড়া কমার ওপর নির্ভর করে ‘এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স’ বা বাতাসের গুণমানের সূচক। ক্ষতিকর উপাদানের পরিমাণ বাড়লে এই সূচকের মান বাড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সূচকের মান ১০০-র নিচে থাকলে সেই এলাকা দূষণমুক্ত থাকে। কিন্তু ৫০০-র ওপরে উঠে গেলে বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই বছর সূচকের মান ৪৫১। তাই দিল্লির পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ে চরম সতর্কতা জারি করেছে ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন।  রাজধানীর বাতাসে দূষণের মাত্রা এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে দিল্লির সমস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি সরকার। এমনকী, দরকার না থাকলে পূর্ণবয়স্কদেরও ঘর থেকে না বেরনোর পরামর্শ দিয়েছে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*