Home / ফিচার / পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা যেন ফিরতে না পারে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের : প্রধানমন্ত্রী

পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা যেন ফিরতে না পারে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে এখনও দেশবিরোধী, পাকিস্তানের প্রেতাত্মা, তাদের পদলেহনকারী ও তোষামোদকারী রয়ে গেছে মন্তব্য করে তারা যেন ক্ষমতায় না আসতে পারে, সে জন্য সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন । তিনি বলেছেন, এটা প্রমাণিত হয়েছে যে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নতি হয়।

শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কো বিশ্ব প্রামাণ্য ঐহিত্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় এই নাগরিক সমাবেশের ডাক দেয়া হয়।

৭ মার্চের ভাষণকে স্বীকৃতি দেয়ায় ইউনেস্কোর প্রতিনিধির কাছে একটি ধন্যবাদপত্রও হস্তান্তর করা হয় সমাবেশে।

বিশিষ্টজনরা বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ওই ভাষণেই স্বাধীনতার পরোক্ষ ঘোষণা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর সেই দিনের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুত করার কথা জানান সমাবেশের সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

শিক্ষাবিদ জাফর ইকবাল বলেন, এই ভাষণকে স্বীকৃতি দিয়ে নিজেই সম্মানিত হয়েছে ইউনেস্কো। কারণ, তারা এখন বলতে পারবে, পৃথিবীর সেরা ভাষণটি এখন তাদের।

এই সমাবেশের মধ্যমণি ছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। তিনি ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ভাষণ দেয়ার আগে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়িতে নেতাদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর পরামর্শের কথা ‍তুলে ধরে বলেন, অনেকেই অনেক পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু বলেছেন তার মতো করে।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ৭ মার্চের ভাষণে মুক্তিযুদ্ধের সব দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল, এমনকি তার অবর্তমানে কী করতে হবে, তাও বলে দেয়া হয়েছিল। কারণ, তিনি জানতেন কিছু একটা হতে যাচ্ছে।

এই ভাষণকে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি দেয়ায় সমগ্র বাংলাদেশ সম্মানিত হয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ভাগ্য, এই বাংলাদেশে এই ভাষণকে বন্ধ করার চেষ্টা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে।’

তবে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইতিহাস যতই মোছার চেষ্টা করা হোক, ইতিহাসও প্রতিশোধ নেয়, শিক্ষা দেয়। আজ ৭ মার্চের ভাষণ স্বীকৃতি পেয়েছে।’

১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সরকারিভাবে বঙ্গবন্ধু ভাষণটি কখনও প্রচার করা হয়নি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে ফেরার পর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনগুলোতে এই ভাষণ বাজান হয়। পাশাপাশি জাতীয় দিবসগুলোতে সারা দেশেই ভাষণটি ব্যাপকভাবে বাজায় বিভিন্ন সংগঠনও ব্যক্তি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর কোন ভাষণ এতদিন, এত ঘণ্টা প্রচারিত হয়নি। যতই বাধা এসেছে ততই মানুষ জাগ্রত হয়েছে। ’

শেখ হাসিনা বলেন ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে ইউনেস্কো। অথচ একসময় এই ভাষণ নিষিদ্ধ ছিল। যারা এই ভাষণ নিষিদ্ধ করেছিলো, তাদের কি লজ্জা হয় না, তাদের কি দ্বিধা হয় না?’।

‘জানি না এদের লজ্জা আছে কি না। তারা পাকিস্তানি বাহিনীর প্রেতাত্মা; স্বাধীন বাংলাদেশে থাকলেও তারা পাকিস্তানের লেজুড়বৃত্তি তোষামোদকারী ও চাটুকারের দল। তাদের জন্যই একটি বিজয় জাতি বিজয়ের ইতিহাস জানতে পারেনি, এর চেয়ে দুর্ভাগ্য হয় না।’

স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি যেন আবার ক্ষমতায় না আসতে পারে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘পাকিস্তানের প্রেতাত্মা, পাকিস্তানি বাহিনীর পদ লেহনকারী, তোষামোদি, চাটুকারির দল যেন আর ইতিহাস বিকৃত করতে না পারে, সতর্ক থাকতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকলে মানুষের যে উন্নতি হয়, তা তো প্রমাণ করেছে আওয়ামী লীগ। ২১ বছর পর ক্ষমতায় আসার পরই মানুষের ‍উন্নতি হয়েছে। এখন ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয় না। বাজেটের ৯৮ শতাংশ এখন নিজেদের টাকায় বাস্তবায়নের সক্ষমতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি আবার ক্ষমতায় আসলে এই অর্জন হারিয়ে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমরা আজ সারা বিশ্বের গর্বিত জাতি। এই গর্বিত, উন্নত শীর যেন কখনও পদানত না হয়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*