Home / ফিচার / বিএনপি নিজের ধ্বংস ডেকে আনছে বঙ্গবন্ধুকে অশ্রদ্ধা করে

বিএনপি নিজের ধ্বংস ডেকে আনছে বঙ্গবন্ধুকে অশ্রদ্ধা করে

অকৃতজ্ঞতা ও বেয়াদবি কি আমাদের জাতিগত সমস্যা? কেয়ামত পর্যন্ত এমন মানহানিকর প্রশ্ন নিজেদেরকে করতেই হবে। কারণ যে ব্যক্তি আমাদের স্বাধীন রাষ্ট্র কায়েমের সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁকে আমাদেরই একদল মানুষরূপী হায়েনা হত্যা করেছে। হ্যাঁ, এই অভিশাপের ভার আমাদের বইতে হবে আজীবন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন দেশে কিছু বখাটে আর্মি অফিসার হত্যা করেছে। এই খুনিদের পেছনে এবং সাথে ছিল স্থানীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা। কোথায় আমরা সেই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করব, জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধায় মাথা নোয়াব, তা না করে এখনো একদল মানুষ, জাতির পিতাকে নিয়ে, এমনকি ঐতিহাসিক সাত মার্চের ভাষণ নিয়ে অশ্রদ্ধা প্রকাশ করছেন, বেয়াদবি করছেন। বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু সাত মার্চের ভাষণ নিয়ে যা বলেছেন, যেভাবে মুখ বিকৃত করে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন, তাতে দলটির দেউলিয়াত্ব আবার প্রকাশ পেয়েছে।

শামসুজ্জামান দুদু যদি দেখতেন, তার বক্তব্য-ভিত্তিক সংবাদ প্রতিবেদনের নিচে সাধারণ পাঠকরা কীভাবে তার কঠোর সমালোচনা করে মন্তব্য করেছেন, তাহলে হয়তো তিনি অনুধাবন করতেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অপমান করে কথা বললে দেশের প্রায় সব মানুষ দলমত নির্বিশেষে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। বঙ্গবন্ধু যে বাংলাদেশের সমর্থক, এই ঐতিহাসিক সত্য কিছু দেশদ্রোহী বাদে প্রায় সব বাংলাদেশি হৃদয়ে ধারন করেন। এই দেশপ্রেমিক মানুষগুলোর হৃদয়ে আঘাত করেছেন শামসুজ্জামান দুদু, অথচ এর কোনো প্রয়োজন ছিল না।

সেই ১৯৪৭ সালে বাঙালির আলাদা একটা রাষ্ট্রের জন্য প্রয়াস চালিয়েছিলেন তৎকালীন যুবনেতা শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু ভারত ও পাকিস্তানের এলিট ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর আঁতাতের জন্য পেরে উঠেননি। তৎকালীন আমাদের লিডাররাও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ আর জহরলাল নেহেরুর চালাকির সাথে তাল মিলিয়ে চলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেননি। তাছাড়া পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর বিরোধিতায় সেই সময়ই বর্তমান বাংলাদেশ, আসামের কাছার, করিমগঞ্জ এবং পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা আর দার্জিলিং নিয়ে বাঙালির আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র কায়েমের স্বপ্ন অকালে মৃত্যুবরণ করতে বাধ্য হয়। পশ্চিমবঙ্গের জমিদার ও এলিট শ্রেণির সাম্প্রদায়িক মনোভাবের আগুনে ঝলসে যাওয়া পূর্ববঙ্গের দরিদ্র মুসলমানদের তাই পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিলনা। তাই পাকিস্তান গঠনের মধ্য দিয়ে পূর্ববঙ্গ, পূর্ব-পাকিস্তান নামে প্রথমবার ‘স্বাধীনতা’ অর্জন করলেও সে স্বাধীনতা ছিল নামে মাত্র। তাই পাকিস্তান ভেঙ্গে বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠনের প্রয়াস শুরু থেকেই লক্ষণীয়। প্রথম প্রকাশ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন দিয়ে। ভাষা আন্দোলনের কঠিন সময়ে জনস্রোতকে আটকে দিতে তৎকালীন মুজিবকে জেলখানায় দীর্ঘসময়ের জন্য বন্দী রেখে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে প্রায় মেরেই ফেলেছিল পাকিস্তানি পুলিশ। জেলে থেকেই ভাষা আন্দোলনে দরকারি সব সিদ্ধান্ত দিয়ে, পরামর্শ দিয়ে ভাষা আন্দোলনকে বেগবান করতে মহাগুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। মুসলিম লীগের ব্যানার বাদ দিয়ে আওয়ামী মুসলিম লীগ, অতঃপর আওয়ামী লীগে রূপান্তর করে একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন পূরণে একের পর এক ধাপ পেরিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। ছয়-দফা দাবি পেশ করে কয়েক ধাপ এগিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। ১৯৭০ এর নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত ছিল আরেক যুগান্তকারী ধাপ। এই নির্বাচনে বিজয় লাভ করে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ও সরকারে আমাদের হক আদায় করার পথে রাজনৈতিক বৈধতা অর্জন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু।

৭০ এর নির্বাচনে অংশ না নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের আন্দোলন করলে, বিশ্ববাসীর সামনে বলা হত, শেখ মুজিব একজন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা, স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র নির্মাণের প্রক্রিয়া একটা বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন। মাওলানা ভাসানী অত বড় নেতা হয়েও তখন ৭০ এর নির্বাচনের তাৎপর্য অনুধাবন করতে পারেননি।

১৯৭১ সালের মার্চ মাসে বঙ্গবন্ধু শুধু ৭ মার্চেই ভাষণ দেননি। ৭ই মার্চ স্বাধীনতা ও মুক্তির সংগ্রামের ঘোষণা দেয়ার পর ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে পুনরায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া ও গ্রেপ্তার হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু  নিয়মিতভাবে মানুষকে স্বাধীনতা ও মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে আহ্বান জানিয়ে গেছেন। সবাইকে চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হওয়ার জন্য তাগাদা দিয়েছেন।

সাত মার্চের আগেও নানা ভাষণে বঙ্গবন্ধু পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের জন্য আলাদা রাষ্ট্র কায়েমের কথা বলেছেন। যেমন ৪ মার্চ, ১৯৭১ সালের সংবাদ পত্রিকার এক প্রতিবেদনে লেখা হয়, ‘আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমান গতকাল (বুধবার) বৈকালে পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসমুদ্রে ভাষণদানকালে মিলিটারি প্রত্যাহার ও জনতার হাতে ক্ষমতা না দেওয়া পর্যন্ত সকল প্রকার খাজনা-কর না দেওয়ার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান।

সে ভাষণে বঙ্গবন্ধু ৬ মার্চ পর্যন্ত সকাল ছয়টা হতে দুপুর দুইটা পর্যন্ত লাগাতার হরতালেরও ঘোষণা দেন। স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর গুলিবর্ষণসহ নানাবিধ অত্যাচারের তীব্র প্রতিবাদ জানানো  ছাড়াও উনি ৭ই মার্চ কী বলতে পারেন তারও একটা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ৩ মার্চের সেই ভাষণে। সংবাদ পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ মুজিব সেদিন মন্তব্য করেছিলেন, ‘৭ তারিখের মধ্যে সরকারি মনোভাব পরিবর্তন না হইলে রেসকোর্সে আমি আমার ভাষণ দিয়া দিব’।

পাকিস্তানী শাসকদের ধমক দিয়ে তিনি আরও বলেছিলেন, ‘মনে রাখিবেন, বাংলার ৭ কোটি মানুষকে গুলি করিয়া মারা যাইবেনা। আর যদি মারেন, তাহলে আমরাও মারিব। যাহারা আমার জন্য জীবন দিয়াছিল, আমি জানি, আমি মরিলে আমার আত্মা দেখিতে পাইবে যে বাংলা স্বাধীন হইয়াছে, বাংলার মানুষ সুখে-স্বাচ্ছন্দ্যে রহিয়াছে’।

আবেগজড়িত কণ্ঠে সেদিন বঙ্গবন্ধু আরও বলেছিলেন, ‘আমার মৃত্যু হইলেও আমি আপনাদের সহিত বেঈমানি করিতে পারিব না। রক্ত দিয়া হইলেও আমি আপনাদের ঋণশোধ করিব’।

সংবাদের এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সাথে ১০ মার্চ এক সভায় বসার আমন্ত্রণও বঙ্গবন্ধু প্রত্যাখান করেন। ইয়াহিয়ার সাথে সেই সভায় বসার বিষয়ে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘রাস্তায় রাস্তায় যখন শহীদদের রক্ত শুকায় নাই, যখন লাশ সৎকারের অপেক্ষায় পড়িয়া রহিয়াছে এবং হাসপাতালে যখন শত শত লোক মৃত্যুর সহিত লড়াই করিতেছে, তখন এই আমন্ত্রণ একটি নিষ্ঠুর তামাশা ছাড়া আর কিছুই নহে। অতএব, আমি এইরুপ আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করিলাম’।

৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু পরিষ্কার ঘোষণা করেন,-এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সরকারি অফিস, আদালতে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১০ই মার্চ এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘মুক্তির লক্ষ্য বাস্তবায়িত ও স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসাবে বাঁচিয়া থাকার অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত বাংলা দেশের মানুষ সংগ্রাম ও সব কিছু ত্যাগ স্বীকারে দৃঢ় সংকল্প থাকিবে’।

১৪ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্বাধীনতা আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, আন্দোলন চলবে, হরতাল, অসহযোগ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। সংবাদপত্রে বিবৃতি আকারে ছাপানো সেই ভাষণে তিনি বলেন, ‘জীবনের বিনিময়ে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ বংশধরদের স্বাধীন দেশের মুক্ত মানুষ হিসেবে স্বাধীনভাবে আর আত্মমর্যাদার সাথে বাস করার নিশ্চয়তা দিয়ে যেতে চাই’।

ইয়াহিয়া খান, বঙ্গবন্ধুর সাথে তৃতীয় দফায় আলোচনায় বসেন ১৮ মার্চ, ১৯৭১ সালে। আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে ১৮ মার্চ দৈনিক পূর্বদেশ সাংবাদিকদের সাথে বঙ্গবন্ধুর কথোপকথন পুরোটাই ছেপে দেয়। বিপুল সংখ্যক দেশি-বিদেশি সাংবাদিক তাঁকে একের এক প্রশ্ন করতে থাকেন। এক প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে এবং লক্ষ্যে উপনীত না হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে’। তিনি সাংবাদিকদের পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘আমি কি আন্দোলন প্রত্যাহার করেছি?’

প্রকৃত অর্থে,  ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তারিখেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বাধীনতা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করলেও ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণেই বাংলাদেশ’ রাষ্ট্রের ‘স্বাধীনতা ও মুক্তি’ অর্জনের রূপরেখা ঘোষণা করেছিলেন। ১৯৭৪ সালের ১৮ই জানুয়ারি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক অধিবেশনে প্রদত্ত ভাষণে শেখ মুজিব বলেছিলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে ৭ মার্চেই স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিল। সেদিন পরিষ্কার বলা হয়েছিলো, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম-এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম’।

২৬ মার্চের স্বাধীনতা ঘোষণা করার পরপরই বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে একজন সামরিক অফিসার হিসেবে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। পুরো নয় মাস মুজিবনগর সরকার এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণার উৎস ছিলেন বঙ্গবন্ধু। স্বাধীন দেশে ফিরে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির উদ্দেশ্যে সেই রেসকোর্স ময়দানে আরেক ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করে জাতি ও রাষ্ট্র গঠনের রূপরেখা প্রণয়ন করেন। জাতীয় শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন নিশ্চিতের প্রচেষ্টায় শোষিতের গণতন্ত্র হিসেবে বাকশাল নামের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠন করেন। ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মাফ করে দেন। ১০০ বিঘার উপর কারো জমি থাকলে সে জমি গরিব, ভূমিহীন মানুষের কল্যাণের জন্য ব্যবহার করার ঘোষণা দেন। সেই নেতাকে স্ত্রী, সন্তান ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনসহ হত্যা করা হয় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীদের পরিকল্পনায়। ছোট ছেলে শিশু শেখ রাসেলকেও মেরে ফেলে খুনিরা। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান ছিলেন বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের অন্যতম নির্দেশদাতা।

যে মহান নেতা আমাদের স্বাধীন রাষ্ট্র উপহার দিতে গিয়ে পাকিস্তান আমলে ১৪ বছর জেল খেটেছেন, পাকিস্তানি চরদের হাতে স্বাধীন দেশে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন সে নেতার প্রতি যারা তাচ্ছিল্য প্রদর্শন করে, তাদের পরিণতি কেমন হয় তার প্রমাণ ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচন। জিয়াউর রহমান নিজেও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু সরকারের অধীনে একজন সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন। ইতিহাসের কুক্ষণে জিয়াউর রহমান খুনি কর্নেল শাহরিয়ার আর কর্নেল ফারুককে নির্দেশ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুকে খুন করতে। সে জিয়াউর রহমান কিন্তু নিজেও স্বাভাবিকভাবে মরতে পারেননি। তার অধীনস্থ অফিসাররাই তাকে হত্যা করেছিলেন। বিএনপির রাজনৈতিক মেরুদণ্ড এতই দুর্বল যে, জিয়া হত্যাকাণ্ড নিয়ে আজ পর্যন্ত বড় গলায় একটা কথাও বলতে পারেনি। অন্যদিকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যাকারিদের বিচার এদেশের রেগুলার আদালতে হয়েছে। নতুন প্রজন্ম ইতিহাসের পুনর্জন্ম নিজ দেখেছে। ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর সাত মার্চের ভাষণকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

নতুন প্রজন্মকে বোকা মনে করে থাকলে, চরম বোকামি করবে বিএনপি। বাংলাদেশ নামের সমার্থক বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ না করলে, মানুষের মন থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে বিএনপি। ইতোমধ্যেই স্বাধীনতা-বিরোধী জামায়াতের ‘বি’ টিম হিসেবে পরিচিত পেয়েছে বিএনপি। তারেক জিয়ার ভাষণ শুনলে মনে হয়, কোনো জামায়াত নেতা ভাষণ দিচ্ছে। বাংলাদেশে রাজনীতি করতে হলে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে ধারন করেই করতে হবে। বিএনপি এদেশে মুজিবনগর দিবস পালন করে না। জাতির পিতার শাহাদাত বার্ষিকীতে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার ভুয়া জন্মদিন পালন করে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে হরতাল-অবরোধ করে। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জামায়াতের নেতৃত্বে হরতাল-অবরোধের নামে পেট্রোল বোমা সন্ত্রাস করে মানুষের জীবনকে জাহান্নাম বানিয়ে দেয়।

জঙ্গিবাদের উত্থান ও অগণতান্ত্রিক উপায় অবলম্বনের জন্য জনগণ বিএনপিকে একবার ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে বড় শাস্তি দিয়েছিল। সামনে ২০১৯ সালের নির্বাচনে কী হবে তার কিছু নমুনা ইতোমধ্যে জাতি লক্ষ্য করেছে।

লেখক: সাংবাদিক ও শিক্ষক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*