Home / প্রশাসন / তবু দাবি ফরহাদ মজহারের অপহরণ করা হয়েছিল

তবু দাবি ফরহাদ মজহারের অপহরণ করা হয়েছিল

বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধারের পাঁচ মাস পর গণমাধ্যমে মুখোমুখি হলেন কবি ও প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহার। তিনি দাবি করেছেন, তাকে সেদিন অপহরণকারীরা খুলনা-যশোর সীমান্তের দিক দিয়ে সীমান্তের ওপারে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল।

শনিবার রাজধানীর শ্যামলীতে নিজ বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন বিএনপিপন্থী এই বুদ্ধিজীবী।

গত ৩ জুলাই ভোরে বাসার কাছ থেকে বের হওয়ার পর ফরহাদ মজহারকে অপরহণের কথা জানায় তার পরিবার। আর পুলিশ ও ব্যাব তৎপর হয়ে তাকে ১৮ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করে। খুলনা থেকে একটি বাসে করে বাড়ি ফেরার পথে তাকে উদ্ধার করে পর দিন ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।

ফরহাদ মজহারের অন্তর্ধানের পর খুলনায় মার্কেটে তার ঘুরে বেড়ানোর, মোবাইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে টাকা পাঠানো এবং নিজে বাসের টিকিট বিক্রিয় কেন্দ্র থেকে টিকিট কেনার ভিডিও প্রকাশ হয়েছে সিসি ক্যামেরার এসব ফুটেজ ফাঁস হয়ে গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

আর পুলিশ এই ঘটনায় তদন্ত করে জানিয়েছে এক নারীর সঙ্গে তার পরকীয়া প্রেম ছিল এবং এর জেরে ওই নারীর জন্য টাকা যোগাড় করতে বের হয়েছিলেন ফরহাজ মজহার। আর সিসি ক্যামেরার ফুটেজে তাকে যে টাকা পাঠাতে দেখা গেছে, সেটি ওই নারীকেই পাঠিয়েছেন তিনি।

পুলিশি প্রতিবেদন পেয়ে এই আদালত অপহরণের ঘটনা সাজানোয় ফরহাদ মজহারের বিরুদ্ধে মামলার অনুমতিও দিয়েছে।

তবে ফরহাজ মজহারের দাবি, তাকে সেদিন অপহরণ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘তিনজন লোক আমাকে ঘিরে একটি সাদা মাইক্রোবাসে জোর করে তুলেই আমার চোখ বন্ধ করে ফেলে। সে সময় আমি আমার স্ত্রীকে ফোন করতে পারি। এরপর বাঁচার জন্য টেলিফোন করা, টাকা পাঠানোসহ যা কিছু অপহরণকারীরা করতে বলে, তা–ই আমি করি। যেখানে তারা ছেড়ে দেয়, তা আমি চিনি না। আমি বুঝতে পারি তারা আমার ওপর নজরদারি করছে ‘

‘তাদের নির্দেশমতো সন্ধ্যায় হানিফ পরিবহনের গাড়িতে উঠলে গাড়িতে তারা আমাকে বাসের পেছনে বসিয়ে দেয়। আমি মৃত্যুভয়ে ভীত হয়ে পড়ি। শোরগোল শুনে জেগে উঠি। এরপর সাদাপোশাকের কিছু লোক জোর করে আমাকে আবার নামিয়ে আনার চেষ্টা করে।’

এই প্রাবন্ধিকের দাবি, বাস থেকে তাকে উদ্ধারের সময় সাদাপোশাকের কিছু লোক র্যা বের দিকে বন্দুক তুলে শাসিয়ে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। আর র্যা ব রীতিমতো ছোটখাটো যুদ্ধক্ষেত্রের মধ্য দিয়ে তাকে তার গাড়িতে ওঠায়। কিন্তু সাদাপোশাকের লোকগুলো র্যা বের গাড়ি থেকে তাকে নামানোর চেষ্টা করে। হত্যা করার জন্য বাস থেকে নামানো হচ্ছে ভেবে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন।

ফরহাদ মজহার বলেন, অপহরণকারীরা তখনো এলাকায় থাকতে পারে ভেবে র্যা ব তাকে খুলনায় নিয়ে চিকিৎসা-বিশ্রামের পাশাপাশি তদন্ত করতে চেয়েছিল। কিন্তু কে বা কারা র্যা বের গাড়ির দুই দিকের রাস্তায় ট্রাক থামিয়ে পথরোধ করে রেখেছিল। পরে র্যা ব গাড়িসহ তাকে এক জায়গায় নিয়ে বলা হয় সেটি অভয়নগর থানা।

পুলিশের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করে ফরহাদ মজহার বলেছেন, ‘আমি ভিকটিম হওয়া সত্ত্বেও আমাকে জোর করে র্যা বের গাড়ি থেকে নামান হয়। আমার সঙ্গে প্রচণ্ড দুর্ব্যবহার করে। জিজ্ঞাসাবাদের নামে বলতে বাধ্য করা হয় যে, আমি বিনোদনের জন্য বেরিয়েছি। একটি গাড়িতে আমাকে নিয়ে উচ্চ স্বরে গান গাইতে গাইতে পুলিশ ঢাকার দিকে রওনা হয়।’

ফরহাদ মজহার বলেন, ‘আমি জীবিত ফিরে আসায় আমাকে সামাজিকভাবে হেনস্তা করে মুখ বন্ধ করার চেষ্টা হচ্ছে। আমি সারা জীবন মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেছি। বাংলাদেশে গুমের এ সংস্কৃতি বন্ধ করতে হলে, সব মান-অপমান সহ্য করে হলেও বাংলাদেশে এযাবৎ গুম হয়ে যাওয়া মানুষ যেন তাদের পরিবারের কাছে ফিরে আসতে পারে, সে ক্ষেত্রে আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে।’

ফরহাদ মজহারের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, গত ৩ জুলাই ভোর পাঁচটার দিকে শ্যামলীর হক গার্ডেনের বাসা থেকে বের হন ফরহাদ মজহার। ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ভোর ৫টা ৫ মিনিটে ফরহাদ মজহার খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে সিঁড়ি ভেঙে নিচে নামেন। ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফরহাদ মজহার স্ত্রী ফরিদা আখতারকে ফোন করে বলেন, ‘ওরা আমাকে নিয়ে যাচ্ছে। ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’ এ ঘটনায় রাজধানীর আদাবর থানায় ফরিদা আখতার বাদী হয়ে মামলা করেন।

সেদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে যশোরের অভয়নগর এলাকায় খুলনা থেকে ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাস থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর প্রথমে ফরহাদ মজহারকে খুলনায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে সেখান থেকে সকাল পৌনে নয়টার দিকে তাঁকে ঢাকার আদাবর থানায় আনা হয়। এরপর নিয়ে যাওয়া হয় মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে, সেখান থেকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। ভিকটিম হিসেবে সেদিন তিনি আদালতে জবানবন্দি দেন। পরে তাকে নিজের জিম্মায় দেন আদালত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar