Home / অন্যান্য / কৃষি / একটি হিমাগারের স্বপ্ন

একটি হিমাগারের স্বপ্ন

এক উপজেলার কৃষকের জীবন একটা হিমাগারই পাল্টে দিতে পারে । সেই উপজেলার নাম মীরসরাই। এখানে উৎপাদিত হয় প্রচুর সবজি। বিশেষ করে উন্নত জাতের টমেটো, শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও বেগুনের ভালো ফলন হয়। এখানকার শিমের বিচি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে সমাদৃত। এই এলাকার উপর দিয়ে গেছে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেলপথ। এখান থেকে দেশের যেকোনো স্থানে সহজে কৃষিপণ্য পাঠানো যায়। অভিযোগ আছে, এক শ্রেণির দালালচক্রের কারণে এখানকার কৃষকেরা লোকসানে পড়েন। কারণ এখানো হিমাগার নেই। হিমাগারের জন্য কৃষকেরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানাচ্ছেন। অথচ স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও গড়ে উঠেনি একটি হিমাগার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ অঞ্চলে একটা হিমাগার থাকলে কৃষকেরা কোটি কোটি টাকার লোকসান থেকে বাঁচতেন। এছাড়া চট্টগ্রামের সবজির বাজারও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হত। কয়েকজন কৃষক জানান, গত বছর তারা মুলা কেজিপ্রতি ২ টাকা করেও বিক্রি করতে পারেননি। সারা বছর এখানকার টমেটো ১০০ টাকা করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হয়। অথচ গত মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি ৫ টাকায় কিনেন পাইকাররা। একটি হিমাগার থাকলে এখানকার ভোক্তারা ৫০ টাকায় সারা বছর টমেটো পেত। তাতে হিমাগার কর্তৃপক্ষ ও পাইকার উভয়েই লাভবান হতেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, গত অগ্রহায়ণ থেকে চলতি পৌষ মাস পর্যন্ত প্রতিদিন ভোরে মহাসড়কের পাশের ছোট–বড় প্রায় ২০টি হাটে সবজির পাইকারি হাট বসছে। চট্টগ্রাম, ফেনী ও কুমিল্লা থেকে পাইকাররা এসব হাটে আসেন। তারা কৃষকদের কাছ থেকে সবজি কিনে ট্রাকে করে নিয়ে যান। উপজেলার সোনাপাহাড়, বারইয়ারহাট, মিঠাছরা, বড়তাকিয়া, ছরারকূল, নয়দুয়ারিয়া, হাদিফকিরহাট, বড়দারোগারহাট, জোরারগঞ্জ অন্যতম হাট।

উপজেলা কৃষি সুপারভাইজার নুরুল আলম জানান, মীরসরাই উপজেলায় মৌসুমী সবজি উৎপাদন হয় প্রায় ৪ হাজার ২শ ১০ হেক্টর জমিতে। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পরও প্রায় কয়েক হাজার টন করে টমেটো, শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, তিতা করলা, মুলা ও অন্যান্য মৌসুমী সবজি উদ্বৃত্ত থাকে। মৌসুমের শুরুতে কৃষকরা মোটামুটি মূল্য পায়। তবে পৌষ মাসের মাঝামাঝি থেকে ফলন পুরোদমে বাজারে আসতে শুরু করলে অনেকটা পানির দরে পাইকারদের কাছে বিক্রি করতে হয়।

সোনাপাহাড় এলাকার টমেটো চাষি ইকবাল হোসেন বলেন, অনেক দিন ধরেই শুনছি, একটি হিমাগার হবে। আমাদের আর সস্তায় বিক্রি করতে হবে না। কিন্তু এক পর্যায়ে পাইকাররা টমেটো ৫ টাকার বেশি দিতে চান না। অথচ তখনো বাজারে ১৫ টাকার কম থাকে না। মৌসুমের পর তো ১০০ টাকায় কিনে খেতে হয়। অন্যান্য সবজিরও একই অবস্থা।

মীরসরাই উপজেলা কৃষি অফিসার বুলবুল আহমেদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা সমন্বয় সভায় আলোচনা করব। একটি হিমাগার হলে সকলের জন্যই মঙ্গল। এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত সবজি এলাকার ভোক্তারা পাবেন। আবার ভালো দামে অন্যত্র বিক্রি করাও সম্ভব হবে। এতে করে কৃষকদের আয় অনেক বাড়বে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*