Home / চট্টগ্রাম / কেজিতে ২২০ টাকা বৃদ্ধি এক সপ্তাহে !

কেজিতে ২২০ টাকা বৃদ্ধি এক সপ্তাহে !

এলাচের দাম দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে বেড়েই চলেছে । গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভালো মানের এলাচের দাম কেজিতে ২২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৩৫০ টাকায়। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বছরের শেষে বিয়ে, মেজবান ও মুসলিমদের ঈদে মিলাদুন্নবীর কারণে এলাচের চাহিদা অন্য সময়ের চেয়ে বেড়েছে। সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে পাইকারি ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে নিচ্ছেন। তবে অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে ব্যবসায়ীরা জানান, খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে সরবরাহকৃত এলাচের বেশিরভাগই গুয়েতামালা অঞ্চলের। সেখানে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সঠিক সময়ে সেখানকার কৃষকরা এলাচি তুলতে পারেনি। অন্যদিকে দাম কমবে এমন আশায় ব্যবসায়ীরা এলাচ আমদানি করতে পারেনি। যার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এলাচের সরবরাহ কমে যায় দাবি করেন ব্যবসায়ীরা।

খাতুনগঞ্জের কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বছরের এই সময়ে এলাচের দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। কারণ অক্টোবরে গুয়েতামালার প্রথম ধাপে ফসল উঠেছিলো সেইসব ফসল ইতোমধ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়ে গেছে। সাধারণত এলাচ একটু ো আইটেম। তাই ব্যবসায়ীরা দেশে যখন চাহিদা বাড়ে তখন সংকটের কথা বলে এলাচের দাম বাড়িয়ে নেয়। খাতুনগঞ্জে ৫ জন বড় মসলা আমদানিকারক সিন্ডিকেট করে এলাচের দাম বাড়িয়ে নিচ্ছেন বলে তারা জানান। জানা গেছে, গত সপ্তাহের শুরুতে পাইকারীতে ভলো মানের এলাচ কেজি প্রতি ১ হাজার ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে সপ্তাহ না ঘুরতেই সেই এলাচ এখন বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৩৫০ টাকায়। এছাড়া দ্বিতীয় ও তৃতীয় গ্রেডের এলাচের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। তবে এইসব এলাচের চাহিদা বাজারে খুব একটা নেই বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

এদিকে খাতুনগঞ্জের কয়েকজন মসলা ব্যবসায়ী বলেন, এলাচের দাম আরো বেড়ে যাওয়ার গুজবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে সকাল থেকে বিকালের মধ্যেই পাইকারিতে এলাচের দামের উত্থান–পতন মসলার বাজারকে অস্থির করে তুলছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশে মসলার বাজার স্থিতিশীল থাকলেও এলাচের দাম ফের বাড়তে শুরু করে। জানতে চাইলে বাংলাদেশ পাইকারী গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সহ–সভাপতি অমর কান্তি দাশ বলেন, গুয়েতামালাতে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সঠিক সময়ে কৃষকরা এলাচ পণ্য ঘরে তুলতে পারেনি। ফলে বাজারে এলাচের সংকট দেখা দেয়। এমনি এলাচ হ্মো আইটেম। ফলে যাদের কাছে এলাচ স্টক ছিলো তারা বিভিন্ন জনের বিক্রি করে। মূলত হাতবদল হওয়ার কারণে এলাচের দাম উর্ধ্বমুখির দিকে রয়েছে। এলাচ ক্রয় বিক্রয়ে কোন ধরণের সিন্ডিকেট হয়নি। অনেক দিন ধরেই ব্যবসায়ীরা কেজিতে ১০০ থেকে ১৫০ পর্যন্ত লোকসান দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবে ব্যবসায়ীরা সেটি পুষিয়ে নিতে চাইবে। মার্কেট নিজের গতিতে চলবে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আবারো এলাচের দরপতন হবে।

স্বাধীন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আবু মোহাম্মদ বলেন, আসলে আন্তর্জাতিক বাজারে এখন এলাচের বুকিং দর বেড়ে গেছে। তাছাড়া গুয়েতামালার থেকে এলাচ পণ্য কৃষক ঘরে তুলে তখন আমরা সঠিক সময়ে আমদানি করতে ব্যর্থ হই। আমাদের ধারণা ছিলো দাম কমবে। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশ এলাচ কিনে নেয়। এছাড়া কিছু ভারতীয় ব্যবসায়ীও এলাচ কিনে মজুদ করে। যার ফলে বাজার এলাচের সরবরাহের সংকট দেখা দেয়।

জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সগীর আহমেদ বলেন, এলাচের দাম কেন বাড়ছে সে বিষয়ে আমি কিছু না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*