Home / ভোক্তা অধিকার / চালের দাম কিছুটা বাড়ুক সরকার চেয়েছে : অর্থমন্ত্রী

চালের দাম কিছুটা বাড়ুক সরকার চেয়েছে : অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত কৃষক যেন ন্যায্যমূল্য পায়, সে জন্য সরকার নিজেই চালের দাম কিছুটা বাড়াতে চেয়েছিল বলে জানিয়েছেন।

তবে এই দাম কেজিতে ৫০ টাকার বেশি হোক-এটা সরকার চায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

আবার চালের দাম বাড়ায় দারিদ্র্য বৃদ্ধির বিষয়ে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন সঠিক নয় বলেও মনে করেন অর্থমন্ত্রী। বলেছেন, এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগে।

রবিবার সচিবালয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের লভ্যাংশ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদেরকে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

চলতি বছর মার্চ-এপ্রিলে হাওরে বন্যা এবং উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও বন্যায় বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আর ফসলহানির পর চালের দাম বেড়ে যায় অস্বাভাবিক হারে। এক পর্যায়ে মোটা চাল কেজিপ্রতি ৫০ টাকা এবং চিকন চাল ৭০ টাকায় উঠে যায়।

এরপর সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি করে চাল আমদানি করেছে। পাশাপাশি শুল্ক তুলে দিয়ে বেসরকারি পর্যায়েও চাল আমদানিতে ‍উৎসাহ দিয়েছে। এতে চালের বেড়ে যাওয়া দাম কিছুটা কমেছে। তবে এখনও তা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেশি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার চেয়েছে চালের দাম কিছুটা বাড়ুক। কিন্তু প্রতি কেজি চালের দাম ৫০ টাকার বেশি হওয়াটা মানুষের জন্য বড় ধরনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা অসহনীয় হয়ে গেছে।’

চালের দামে স্থিতিশীলতার বিষয়ে কোন ঠিক ঠিকানা নেই মন্তব্য করে মুহিত বলেন, আগামীতে উৎপাদন বাড়লেই চালের দাম কমে আসবে।

চালের দাম বাড়ায় দারিদ্র্য বাড়ার বিষয়ে গবেষণা প্রতিবেদনের ফলাফলকেও নাকচ করে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘চালের দাম বাড়ায় দেশের মানুষ কিছুটা বেকায়দায় আছে ঠিক আছে। কিন্তু এতে দারিদ্র্য বাড়ার কারণ নেই।’

শনিবার রাজধানীতে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনোমিক মডেলিং-সানেমের এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এতে দাবি করা হয়েছে, গত এক দশক ধরে দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ যে সাফল্য রেখে চলেছে চালের দাম বৃদ্ধিতে তা ছেড় পড়েছে।

সানেমের গবেষণা বলছেন চলতি বছর চালের দাম বাড়ায় দারিদ্র্যসীমা থেকে বের হয়ে আসা পাঁচ লাখ ২০ হাজার মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমায় ঢুকেছে। অর্থাৎ চলতি বছর দারিদ্র্যের হার কমার বদলে বেড়ে যাবে ০.৩২ শতাংশ।

তবে সানেমের এই গবেষণা প্রতিবেদন মানছেন না। অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি তাদের নিজেদের পর্যবেক্ষণ, এটা সঠিক নয়।’

‘চালের দাম বাড়ার কারণে কত শতাংশ দারিদ্র্যে হার বেড়েছে সেটা এখনই নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু এটা সঠিক চালের দাম বাড়ার কারণে সাধারণ মানুষের অনেক অসুবিধা হয়েছে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এগুলো তাৎক্ষণিক রিপোর্ট। এগুলো বিশ্বাস করা উচিত হবে না। গরিব লোক কমছে, বাড়ছে এটার জন্য অন্তত পক্ষে বছরখানেক দেখা দরকার। বছর শেষে কী হবে আমি জানি না।’

এর আগে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রতন কুমার লাল অর্থমন্ত্রীর কাছে সরকারের লভ্যাংশ হিসেবে ৬ কোটি ১৭ লাখ ৪০ হাজার টাকার চেক তুলে দেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংক আগের চেয়ে ভাল করছে। বাংলাদেশের সাধারণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ব্যাংকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar