Home / খবর / আনফিট গাড়ি অদক্ষ চালকের হাতে

আনফিট গাড়ি অদক্ষ চালকের হাতে

আনফিট গাড়ি ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিত্য চলাচল করছে । গাড়িগুলোর ফিটনেস সার্টিফিকেট নেই। নেই রুট পারমিটও। আবার অদক্ষ চালকের হাতে সেসব গাড়ির স্টিয়ারিং। বাস–ট্রাকের পাশাপাশি কিছু আনফিট লেগুনাও দেখা যায়। এসব গাড়িতে যাত্রীদের ভোগান্তির কোন অন্ত নেই। আবার লক্করঝক্কর মার্কা এ গাড়িগুলোই ছোট বড় দুর্ঘটনার কারণ বলে মনে করছে সচেতন মহল।

গত দু’বছরে একসাথে ৫জন, ৭জনসহ বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনায় অর্ধশতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এমন দুর্ঘটনাগুলো চট্টগ্রাম থেকে ফেনী অংশে বেশি ঘটছে। কিন্তু দুর্ঘটনা কমাতে কার্যকর কোন উদ্যোগ কখনো নেয়া হয় না। একটি দুর্ঘটনা ঘটলে প্রশাসন বা সংশ্লিষ্টরা একটু নড়েচড়ে বসে; কয়েকদিন গেলে সে নড়াচড়া একেবারে বন্ধই হয়ে যায়।

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে চট্টগ্রাম টু বারৈয়ারহাট ভায়া ছাগলনাইয়া রুটেই চলাচলকারী লোকাল গাড়িগুলোর অধিকাংশই আনফিট বলে অভিযোগ যাত্রীদের। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, ফেনী–কুমিল্লা রুটে চলাচলকারী গাড়িগুলো ফিটনেস হারালে সেগুলো নাম পরিবর্তন করে চট্টগ্রাম টু বারৈয়ারহাট ভায়া ছাগলনাইয়া রুটে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। একাজে পরিবহন সেক্টরের কতিপয় অসাধু ব্যক্তি জড়িত বলে অভিযোগ যাত্রী সাধারণের। এছাড়া লক্করঝক্কর এসব গাড়িতে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া হলেও সেবা একেবারে নেই বলেই অভিযোগ যাত্রীদের। একে তো আনফিট গাড়ি, তার উপর চালকের আসনে দেখা যায় হেলপারদের।

গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম থেকে আসা এক যাত্রী ডাঃ নজরুল ইসলাম বলেন, ভালোমানের যাত্রীসেবা পেতে প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে এলাম। কিন্তু গাড়িগুলো লক্করঝক্কর। মহাসড়কে চলাচলকারী গাড়িগুলো আরো উন্নতমানের হওয়া জরুরি। ঝুঁকি নিয়ে এ রুটে লোকাল যাত্রীরা চলাচল করছে উল্লেখ করে নজরুল জানান, গাড়িগুলো দেখতেই আনফিট আর চালকরাও অদ । কিন্তু মহাসড়কে চলাচল করছে বেপরোয়াভাবে। এতে করে ঝুঁকি নিয়েই যাত্রীদের চলাচল করতে হয়।

তিনি আরো বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি সিন্ডিকেট করে বিভিন্ন মহলকে হাত করে এই নিন্মমানের ঝুঁকিপূর্ণ সার্ভিস চালিয়ে যাচ্ছে। মহাসড়কে চলাচলরত আনফিট গাড়িগুলোর বিষয়ে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স প্রয়োজন বলে মনে করেন বারৈয়ারহাটের সচেতন নাগরিক শান্তিনীড় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন সোহেল।

এদিকে হিউম্যান হলার বা লেগুনা নামের কিছু বাহনের মালিক–শ্রমিকরা নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেন না। এসব লেগুনার অধিকাংশ চালকই অদক্ষ ও শিশু–কিশোর। ১২ –১৪ বছর বয়সী অনেক শিশুকেও লেগুনাতে চালক কিংবা চালকের সহকারী (হেলপার) হিসেবে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে নিয়মিত। এই বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ওসি জাহিদুল কবির বলেন, আমরা আনফিট গাড়ির বিষয়ে উর্ধ্বতন মহলের সাথে আলোচনা করে তদারকি বৃদ্ধি করবো শীঘ্রই। ফিটনেস ও কিশোর ড্রাইভারদের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এই বিষয়ে এই রুটের চট্টগ্রাম– ধূম শুভপুর তথা চয়েস বাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম আজাদীকে বলেন, আমি স্বীকার করছি কিছু পুরোনা গাড়ি রয়েছে। তবে ইতোমধ্যে এ গাড়িগুলোর আধুনিকায়ন ও মানোন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই যাত্রীগণ উত্তম সেবাই পাবেন।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেও বারৈয়ারহাটে নিন্মমানের গাড়ি দিয়ে উচ্চ মাত্রার ভাড়া আদায় নিয়ে যাত্রী ও বাস শ্রমিকদের মধ্যে বারৈয়ারহাট বাজারে দফায় দফায় সংঘর্ষেরও ঘটনা ঘটেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*