Home / আর্ন্তজাতিক / ওআইসি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারকে চাপ দেবে

ওআইসি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারকে চাপ দেবে

ইসলামী দেশগুলোর সহযোগিতা বিষয়ক জোট অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশান (ওআইসি) মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে মিয়ানমারকে চাপ দেবে ।

বুধবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে বৈঠক শেষে ওআইসির মানবাধিকার সংস্থার ইন্ডিপেন্ডেন্ট পারমানেন্ট হিউম্যান রাইটস কমিশনের (আইপিএইচআরসি) প্রতিনিধি রশিদ আল বালুসি এ কথা বলেন।

বালুসি বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে এবং তাদের সকল প্রকার নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করারর জন্য চাপ দেবে ওআইসি।’

এরই মধ্যে বিশ্বের একাধিক ফোরামে রোহিঙ্গা ইস্যুটি তুলে ধরেছে ওআইসি এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন আইপিএইচআরসির এই প্রতিনিধি।

এ সময় বাংলাদেশের প্রশংসা করে বলেন ওআইসি কর্মকর্তা বলেন, ‘পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দুর্দিনে বাংলাদেশ যেভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তা খুবই প্রশংসনীয়। এরই ধারাবাহিকতায় অবহেলিত এই জনগোষ্ঠীর নাগরিকত্বের অধিকার আদায়ে বাংলাদেশের পাশে থাকবে ওআইসি।’

রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে বালুসির নেতৃত্বে আইপিএইচআরসির ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে আসে। দলটি বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) থেকে শনিবার (৬ জানুয়ারি) পর্যন্ত কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবে।

গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। তিন ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকের পর যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন ও এর টার্মস অব রেফারেন্সের সম্মতিপত্রে সই হয়। বাংলাদেশের পক্ষে সম্মতিপত্রে সই করেন পররাষ্ট্র সচিব এম শহিদুল হক এবং মিয়ানমারের পক্ষে দেশটির পার্মানেন্ট সেক্রেটারি মিন্ট থো। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীও। দুই দেশের মধ্যে চুক্তি সইয়ে বলেছেন, শিগগির এই কমিটি কাজ শুরু করবে।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই কমিটিতে দুই দেশের ১৫ জন করে মোট ৩০ জন কর্মকর্তা থাকবে।

রাখাইন রাজ্যে বসবাসকারী মুসলিম রোহিঙ্গাদেরকে নিজের নাগরিক বলে স্বীকার করে না মিয়ানমার। এক সময় তাদের নাগরিক অধিকার থাকলেও তা বাতিল করা হয় ১৯৮২ সালে। মিয়ানমারের দাবি, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি এবং তাদেরকে বাংলাদেশে ফিরে আসতে হবে।

নানা সময় রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী এবং নানা সময় বাংলাদেশে প্রাণ বাঁচাতে এসেছে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা। এদেরকে ফিরিয়ে নিতে বারবার আলোচনা হলেও মিয়ানমার সেই উদ্যোগ নেয়নি।

আগস্টের শেষ দিকে রাখাইন রাজ্যে কয়েকটি পুলিশি চেকপোস্টে হামলার জেরে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। প্রাণ বাঁচাতে ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশের দিকে ছুটে আসে রোহিঙ্গারা। আর মানবিক কারণে সীমান্ত খুলে দেয় বাংলাদেশ। এরপর দুই মাসে ছয় থেকে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। সব মিলিয়ে এখন বাংলাদেশে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে বলে সরকারের তথ্য বলছে।

রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারে অস্থায়ী শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় দেওয়া বাংলাদেশ এই বিষয়টি এবার জাতিসংঘে তুলে ধরেছে বেশ জোরালভাবে। সাধারণ অধিবেশনের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার নির্যাতনের কথা তুলে ধরে তাদেরকে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহায়তা চান।

এরপর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ ও তাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের প্রস্তাব বিপুল ভোটে পাস হয়েছে জাতিসংঘে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চেষ্টার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে যায় ঢাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*