Home / আর্ন্তজাতিক / ট্রাম্পের ‍হুমকি ফিলিস্তিনে সহায়তা বন্ধের

ট্রাম্পের ‍হুমকি ফিলিস্তিনে সহায়তা বন্ধের

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনিদের জন্য যে সহায়তা দিয়ে থাকে, তা বন্ধ করে দেয়ার কথা ভাবছেন। শান্তি আলোচনা না চালানোর বিষয়ে ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসার পর ক্ষিপ্ত হয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান যুক্তরাষ্ট্রের ‘খেপাটে’ রাষ্ট্রপ্রধান।

এক টুইটবার্তায় ট্রাম্প লেখেন, ‘সহায়তার বদলে যুক্তরাষ্ট্র কখনো সম্মান বা প্রশংসা পায়নি।’

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি বিতর্কিত ইস্যুটিকে নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরুর একটি উপায় হিসেবেও বর্ণনা করেন ট্রাম্প।

তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণায় তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে ফিলিস্তিনে। তারা বলছে, এই ঘোষণার মাধ্যমে শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের নিরপেক্ষ অবস্থান ভঙ্গ হয়েছে।

গত ডিসেম্বরে ট্রাম্পের এই ঘোষণা জাতিসংঘেও সমালোচিত হয়েছে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ১২৮ টি ট্রাম্পের এই অবস্থানের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে।

ট্রাম্প কী বলেছেন?

ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে ট্রাম্পের এই টুইট এলো পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রতারণা করে অর্থ নেয়ার অভিযোগ আনার পরপর। এই টুইটে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, পাকিস্তান ছলনা এবং মিথ্যা বলে ৩৩ বিলিয়ন ডলার নিয়ে গেছে।

পরে অন্য এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প লেখেন, ‘আমরা কেবল পাকিস্তানকে অযথাই বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার দিয়ে যাইনি।’

উদাহরণ দিয়ে ট্রাম্প আরও লেখেন, ‘আমরা ফিলিস্তিনিদেরকেও বছরের পর বছর ধরে শত শত মিলিয়ন ডলার দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এর জন্য কোনা সম্মান বা প্রশংসা পাইনি। তারা ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ মিটিয়ে আলোচনাও করতে চাইছে না।’

‘ফিলিস্তিনিরা শান্তি আলোচনায় আগ্রহই দেখাচ্ছে না। তাহলে আমরা কেন তাদেরকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে যাব?’

যে কারণে ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বের যেসব শহরের দখল নিয়ে একাধিক শক্তির মধ্যে টানাটানি রয়েছে, তার মধ্যে একটি জেরুজালেম।

ইসরায়েল এই শহরটিকে তাদের রাজধানী হিসেবে দাবি করে। ফিলিস্তিনিরা চায়, ১৯৬৭ সালে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মাধ্যমে দখল করে নেয়া শহরটি যেন ইসরায়েল ছেড়ে দেয়। এই শহরটিকে ভবিষ্যতের ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জন্য রাজধানী করতে চায় তারাও।

সম্প্রতি ট্রাম্প এই শহরটিকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এই ঘোষণা এই এলাকায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে, এমন সতর্কতাকে উপেক্ষা করেছেন তিনি।

তেল আভিভ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস সরিয়ে জেরুজালেমে স্থানান্তরের কথাও বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। বিশ্বের হাতে গোনা দুই একটি রাষ্ট্রই এর সঙ্গে একমত হয়েছে।

এই ঘোষণার পর প্যালেস্টাইনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে আর কোনো প্র্স্তাব গ্রহণ না করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র প্রমাণ করেছে তারা একটি অসৎ মধ্যস্ততাকারী।’

জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের প্রকৃত রাজধানী হিসেবেও আখ্যা দেন মাহমুদ আব্বাস।

ফিলিস্তিনিদেরকে কী ধরনের সহায়তা দেয় যুক্তরাষ্ট্র?

সহায়তা বন্ধে ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির পর জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি নিকি হ্যালির একটি বক্তব্য সামনে চলে আসে। তিনি জাতিংঘে বলেছিলেন, ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের রিলিফ এজেন্সিতে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা বন্ধ করে দিতে পারে।

এই এজেন্সি ফিলিস্তিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কিছু সামাজিক উদ্যোগ চালায়। এতে সবচেয়ে বেশি সহায়তা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৬ সালে তারা প্রায় ৩৭০ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে এই কাজে।

এক সংবাদ সম্মেলনে নিকি হ্যালি বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট যেটা বলেছেন, সেটা হলো ফিলিস্তিনিরা যদি আলোচনার টেবিলে ফিরে না আসে তাহলে তিনি (ট্রাম্প) আর নতুন কোনো অর্থ দিতে চাইছেন না বা অর্থ বন্ধ করে দিতে বলেছেন।’

নিকি হ্যালি বলেন, ট্রাম্পের ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘ সে প্রস্তাব পাস করেছে সেটা সমস্যার সমাধানে সহায়তা করবে না।

‘এখন ফিলিস্তিনিদেরকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে সদিচ্ছা দেখাতে হবে। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত আলোচনায় আসতে চাইছে না, কিন্তু ঠিকই সহায়তা চাইছে।’

‘তাদেরকে আলোচনার টেবিলে আসার নিশ্চয়তা চাই, এর আগ পর্যন্ত আমরা তাদেরকে কোনো সহায়তা দিচ্ছি না।’

যুক্তরাষ্ট্র যদি এই অর্থ প্রত্যাহার করে, তাহলে ফিলিস্তিতে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় জাতিসংঘ ঝামেলায় পড়বে। কারণ এই একটি দেশই মোট অর্থের প্রায় ৩০ শতাংশ দিয়ে থাকে।

ত্রাণ কার্যক্রমে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ যোগানদাতা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেক মাত্র সহায়তা দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*