Home / খবর / ‘দেশের একটি শ্রেণী মাথা চাড়া দিয়ে উঠে নির্বাচন এলেই ’

‘দেশের একটি শ্রেণী মাথা চাড়া দিয়ে উঠে নির্বাচন এলেই ’

অনেক ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে আমি সাহস নিয়ে দেশের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন। এজন্যই আমাকে হত্যার জন্য বুলেট-গুলি, গ্রেনেড হামলা, বড় বড় বোমা পুঁতে রাখা হয়। তবুও আমি মরি না। আল্লাহ আমাকে কীভাবে যেন বাঁচিয়ে রাখেন। হয়তো দেশের মানুষের জন্য কোনো ভাল করাবেন। আর মৃত্যুকে আমি ভয় পাই না।

কী পেলাম আর কী পেলাম না- সেই হিসাব আমি মেলাই না। বরং দেশের জন্য কী করতে পারলাম, দেশের মানুষকে কতটুকু শান্তি, স্বস্তি ও উন্নতি দিতে পারলাম, সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় কথা। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আজ বুধবার সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন এলেই দেশের একটি শ্রেণী আছে তারা মাথা চাড়া দিয়ে উঠে। দেশে অসাংবিধানিক শাসন বা জরুরি অবস্থা আসলে তাদের গুরুত্ব বাড়ে। এদের মাথায় একটাই জিনিস থাকে যদি অস্বাভাবিক, অসাংবিধানিক, মার্শাল ল’ বা জরুরি অবস্থা কখন আসবে, তাদের গুরুত্ব পাবে। এই শ্রেণীর মানুষরা আঁকাবাঁকা বা অবৈধপথে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে। তাদের নির্বাচনে আসার সাহস নেই, নির্বাচনে গেলে জনগণের ভোট পাবে না। তিনি বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সময়ও তারা ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল। আর ২০১৩ সালেও বিএনপি নেত্রী (খালেদা জিয়া) নির্বাচন বানচাল করে আঁকা-বাঁকা পথে ক্ষমতায় যেতে চেয়েছিলেন। দেশে নির্বাচন এলেই এই শ্রেণীর লোকরা মাথা চাড়া দিয়ে উঠেন। অবৈধভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন। এই শ্রেণীর মানুষরা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য যন্ত্রণাদায়ক। ফখরুল ইমামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তাকে নিয়ে বিভিন্ন বিশেষণ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কী পেলাম বা কী পেলাম না তার হিসাব আমি করি না। কাজ করি দেশের মানুষের জন্য, এদেশের প্রয়োজনে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দীর্ঘ ২১ বছর কেন দেশের উন্নয়ন হয়নি? একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই দেশের মানুষ উন্নয়নের ছোঁয়া পায়। আমি উচ্চবিত্তদের কথা চিন্তা করি না, দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং তারা দু’বেলা পেটভরে খেয়ে স্বস্তি, শান্তি ও মর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে চলছে কি না, সেটিই আমার কাছে সবচেয়ে বড়কথা এবং আমার প্রধান লক্ষ্য। তরিকত ফেডারেশনের সভাপতি সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর সম্পুরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ ও এমপিওভুক্ত করণের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। আমরা নীতিমালার ভিত্তিতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করে যাচ্ছি। বিষয়টি আমরা নিশ্চয়ই বিবেচনা করবো এবং পরবর্তী বাজেট যখন আসবে তখন সিদ্ধান্ত নিতে পারবো। স্কুল-কলেজ সরকারিকরণ বা এমপিওভূক্ত নীতিমালার ভিত্তিতেই হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar