Home / অন্যান্য / অপরাধ / গ্রেপ্তার ৫ প্রেমের ফাঁদে ফেলে মুক্তিপণ আদায়

গ্রেপ্তার ৫ প্রেমের ফাঁদে ফেলে মুক্তিপণ আদায়

ধনাঢ্য কোনো ব্যক্তিকে টার্গেট প্রথমে সহজ-সরল। এরপর মুঠোফোনে আলাপ। একপর্যায়ে গড়ে তোলা হয় প্রেমের সম্পর্ক। তারপর দেখা করার নামে টার্গেট করা ব্যক্তিকে বাড়িতে ডেকে অন্তরঙ্গ মুহুর্তের ছবি ধারণ। এরপর ছবি ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়। এক্ষেত্রে ভুয়া পুলিশ সেজে ভয়ভীতি দেখানো হয় আটকে রাখা ব্যক্তিকে। রাজশাহী মহানগরীতে থাকা এমন একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার সন্ধ্যায় নগরীর মথুরাডাঙ্গা এলাকার শেফালি বেগম নামে এক নারীর বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এই অভিযান চালায়।

গ্রেপ্তাররা হলেন- নগরীর বখতিয়ারবাদ মালদা কলোনি মহল্লার সোহেল রানা (৩৮)ও সুইতেম শেখ (৩০), চারঘাট উপজেলার চকশিমুলিয়া গ্রামের আরিফুল ইসলাম (৩৫), নগরীর মথুরাডাঙ মহল্লার শেলি খাতুন (২৮) এবং  নাটোরের বনপাড়া কালিকাপুর গ্রামের রাবেয়া খাতুন (২০)। অভিযানের সময় ফরিদা পারভিন নামে আরও এক নারী পালিয়ে গেছেন। তার বাড়ি ঢাকায়।

মহানগর ডিবি পুলিশের পরিদর্শক রাশেদুল ইসলাম জানান, তারা জানতে পারেন, বাড়ি ভাড়া নিয়ে একটি চক্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে নারীদের সহায়তায় মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায় করছে। এটি জানার পর তারা এ নিয়ে তদন্ত শুরু করেন। সত্যতা পাওয়ায় অভিযান চালিয়ে দুই নারীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাশেদুল আরও জানান, গ্রেপ্তার সোহেল রানা নিজেকে ডিবি পুলিশের পরিদর্শক পরিচয় দিতেন। আর সুইতেম এবং আরিফুল পরিচয় দিতেন ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই)। তাদের সঙ্গে থাকা তিন নারীরা প্রেমের অভিনয় করতেন। তারা টার্গেট করা ব্যক্তিকে বাড়িতে ডেকে গোপন ক্যামেরায় তার সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহুর্তের ছবি তুলতেন।

এরপর তা দেখিয়ে সে ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করতেন। অনেক সময় একই ঘরে অবস্থানের সময় ওই তিন ভুয়া ডিবি সেখানে অভিযান চালাতেন। এরপর গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে তারা আদায় করতেন টাকা। কয়েকজন ভুক্তভোগির দেওয়া অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে এই চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেপ্তারের পর ওই পাঁচজনের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অপহরণ, মানবপাচার, ভুয়া পুলিশের পরিচয় দেওয়া এবং মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। রবিবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*