Home / আদালত / ভুয়া তথ্যে হুলস্থুল আদালতে জমিরউদ্দিন নিখোঁজের

ভুয়া তথ্যে হুলস্থুল আদালতে জমিরউদ্দিন নিখোঁজের

আদালতকে জানালেন একজন আইনজীবী।  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমিরউদ্দিন সরকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এই বক্তব্যের বরাত দিয়ে সংবাদও প্রচার হয় গণমাধ্যমে। কিন্তু জমির বসেছিলেন সুপ্রিম কোর্টে নিজের চেম্বারে। কথা বলেছেন সাংবাদিকদের সঙ্গেও।

আদালতে আইনজীবীর এই বক্তব্য নিয়ে হুলস্থুল হয়ে যায়। সুপ্রিম কোর্টে তার চেম্বারে ছুটে আসতে থাকেন আইনজীবী ও সমর্থকরা। এদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদও।

বুধবার জিয়া চ্যারিটেবল মামলায় যুক্তি উপস্থাপনের দ্বিতীয় দিন পুরান ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে যাওয়ার কথা ছিল বিএনপির আইনজীবী নেতা জমির উদ্দিন সরকারের। বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে বেগম খালেদা জিয়া আদালতে গেলেও যাননি জমির।

এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম আদালতকে বলেন, ‘প্রবীণ আইনজীবী জমির উদ্দিন সরকারের আজ আদালতে আসার কথা ছিল। কিন্তু তার সাথে যোগাযোগ করা হলে ফ্যামলি থেকে জানানো হয়েছে, রাতে দুইবার পুলিশ এসেছে। তাকে সকাল আটটায় থাকতে বলেছে। কিন্তু আমরা তাকে আর ট্রেস করকে পারিনি। তিনি আসেননি। তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।’

মুহূর্তে আমিনুল ইসলামের দেয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। আগের রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আটক হওয়ায় জমিরকেও পুলিশ ধরে নিল কি না, চিন্তিত হয়ে পড়েন বিএনপির কর্মী-সমর্থকরাও।

                                                                                   আইনজীবী আমিনুল ইসলাম

সাংবাদিকরাও ব্যস্ত হয়ে পড়েন খবরের সত্যতা যাচাইয়ে। কিন্তু পরে জানা গেল জমির উদ্দিন সরকার নিখোঁজ নন। তিনি সুপ্রিম কোর্টে তার চেম্বারেই আছেন।

নিজের নিখোঁজের খবরে জমির হতবাক হয়ে যান। বলেন, ‘আমি চেম্বারেই আছি। কয়েকটি মিডিয়ায় ভুল খবর প্রকাশ হয়েছে।’

বিকালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জমির। বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত আনুমানিক দুইটায় আমার ধানমন্ডির বাসায় (লা ক্যাসিটা, হাউস নং-৩৫, রোড- ১২/এ) পুলিশ এসেছিল। তারা বাসার দারোয়ানের কাছে আমার খোঁজ করেছিলেন। তখন ভবন মালিক সমিতির সভাপতি মো. রফিক ওই পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানতে চান আমি বাসায় আছি কি না।’

‘তখন আমি রফিক সাহেবকে জানিয়ে দেই, আমাকে যদি আইন-শৃঙ্খখলা বাহিনীর লোকজন নিয়ে যেতে চায় তাহলে তারা (পুলিশ) যেন সকাল আটটায় আসেন। তবে, সকালে আর তারা আসেননি। তাই প্রতিদিনের মতোই আমি সুপ্রিম কোর্টে এসে মামলা পরিচালনা করছি।’

জমির উদ্দিন সরকার বলেন,পুলিশের যে সদস্যরা তার বাসায় গিয়েছিলেন তারা সাদা পোশাকে ছিলেন এবং যারা রাস্তায় গাড়িতে অপেক্ষা করছিলেন তারা পুলিশের পোশাকে ছিলেন।

জমির উদ্দিন সরকার নিখোঁজ-এমন তথ্য কোত্থেকে পেয়েছেন-জানতে চাইলে আদালতে অভিযোগ তোলা আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যোগাযোগ করতে পারিনি, তবে এখন যোগাযোগ করব। আমরা তার বাসায় যাব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*