Home / সম্পাদকীয় / অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করতে হবে পরিকল্পিতভাবে খালপাড়ের

অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করতে হবে পরিকল্পিতভাবে খালপাড়ের

কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না নগরীর খালপাড়ের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে । ফলে গণমাধ্যমে বারবার সেটি সংবাদ হয়ে জনগণের সামনে আসে। কর্ণফুলীর দুই তীরে নতুন করে যাতে কোনো অবৈধ স্থাপনা গড়ে না ওঠে সে বিষয়টি তদারকি করতে নদীবিষয়ক টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু অপরিকল্পিত নগরায়নসহ ভূমিদস্যুদের বেপরোয়া কার্যক্রমে প্রায় বিলীন হতে যাচ্ছে নগরীর নদী ও খালসমূহ। নগরীর চারপাশের খালসমূহ দখলের কারণে ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। ইতোমধ্যে সরকারের কিছু উদ্যোগ খালসমূহ অবৈধ দখল উচ্ছেদে ভূমিকা রাখলেও বর্তমানে আবার ফিরে এসেছে আগের চেহারায়। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়হীনতায় স্থানীয় প্রভাবশালী ও স্বার্থান্বেসী মহল পুনরায় দখল করে নিয়েছে। গতকাল দৈনিক আজাদীতে ‘খাল পাড়ের দখল উচ্ছেদে দৃশ্যমান তৎপরতা নেই’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, টাস্কফোর্স গঠনের পর মাত্র একটি সভা করেই দায় সেরেছেন এর সদস্যরা। ২০১৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সভা হয়েছিল। এর পর অক্টোবর থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত গত চার মাসে কোনো সভাই হয়নি। এছাড়া কোনো উচ্ছেদ কার্যক্রমও পরিচালিত হয় নি। খাল দখলের চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াসা ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যানের আলোকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন অবৈধ দখলদারদের একটি তালিকা করেছিল। তালিকা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম শহরের ২২টি খালে ১৩৫টি অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে একতলা থেকে শুরু করে আটতলা ভবন পর্যন্ত রয়েছে। রয়েছে টিনশেড ঘর, দোকান, গাইড ওয়াল, টয়লেট, সমিল, সেমিপাকা ঘর, পানির ট্যাংক, ভবনের গেইট, বাউন্ডারি ওয়াল, মসজিদ, মার্কেট ও স্কুলসহ বিভিন্ন স্থাপনা। তালিকা সূত্রে জানা গেছে, নগরীর বালুখালী খালে ৩টি, বামনশাহী খালে ৩টি, বির্জাখালে ১৬টি, চাক্তাই ডাইভারশন খালে ৪টি, চাক্তাইখালে ২টি, ডোমখালী খালে ৫টি, গুপ্তখালে ৪টি, খন্দকিয়া খালে ১৩টি, কৃষ্ণাখালী খালে ১০টি, কুয়াইশ খালে ৫টি, মহেশখালে ১০টি, মির্জাখালে ৩টি, মোগলটুলী খালে ৫টি, নাসিরখালে ৭টি, নিজাম মার্কেট খালে ২টি, নোয়াখালে ৯টি, পাকিজা খালে ২টি, রাজাখালী খালে ৬টি, রামপুর খালে ১৭টি, সদরঘাট খালে ৪টি, টেকপাড়া খালে ২টি, ত্রিপুরা খালে ৩টি এবং শীতলঝর্ণা খালে ১টি অবৈধ স্থাপনা রয়েছে।

বন্দরনগরীর অন্যতম প্রধান খাল চাক্তাই খাল দীর্ঘদিন যাবত অবহেলিত। অতীতে এ খালের ওপর দিয়ে চাক্তাই খাতুনগঞ্জের মালামালবাহী শত শত নৌকা ছুটে যেত বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন গন্তব্যে। আজ সেই খাল মৃতপ্রায়। অব্যাহত দখলে খালটি ধীরে ধীরে অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলছে। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, চাক্তাই খাল বহদ্দারহাট থেকে চকবাজার–চাক্তাই এলাকা হয়ে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় গিয়ে মিশেছে। ৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ৬০ থেকে ৪০ ফুট প্রস্থের এ খালটি ক্রমেই দখল, ভরাট, দূষণে সংকুচিত হয়ে গেছে। চাক্তাই খাল পরিণত হয়েছে আবর্জনার ভাগাড়ে। অন্যদিকে চাক্তাই খালের দু’পাড়ে গড়ে উঠেছে শত শত অবৈধ স্থাপনা, দোকানপাট ও দালান। বসতঘর, দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, আড়ত ও গুদাম তৈরি করে ভাড়া তুলছে দখলবাজরা। ব্যাহত হচ্ছে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ। মজার ব্যাপার, চাক্তাই খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হয়, কিন্তু পরবর্তী সময়ে দখলদাররা আবারও আগের জায়গায় চলে আসে। যেখানে উচ্ছেদের সময় টিনশেডের দোকান ছিল সেখানে এখন পাকা দালান হয়েছে। চাক্তাই খালের প্রস্থ যেখানে ৬০ ফুট ছিল সেখানে সংকুচিত হয়ে ৪০ ফুটে চলে এসেছে।

দখলদার উচ্ছেদ প্রসঙ্গে টাস্কফোর্সের আহবায়ক এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের বক্তব্য উদ্ধৃত করা যায়। তিনি বলেছেন, ‘আসলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপ যে মেগাপ্রকল্প গ্রহণ করেছে সেখানে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের বিষয়টি আছে। তাই আমরা আপাতত করছি না। কারণ, এতে ‘ওভারলেপিং’ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে সিডিএর প্রকল্পের আওতায় যখন উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরশু হবে সেখানে টাস্কফোর্স সমন্বয় করবে। তাছাড়া উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার সাথে আর্থিক ব্যয়ও জড়িত। যা মেগাপ্রকল্পে আছে।

মেগাপ্রকল্পে অবৈধ উচ্ছেদের বিষয়টি যেহেতু আছে, সেহেতু এর কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা দরকার। কেননা, আগামী বর্ষায় নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার কবল থেকে মুক্তি দিতে এ কাজ সম্পন্ন করা জরুরি। পরিকল্পিতভাবেই খালপাড়ের অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*