Home / চট্টগ্রাম / জলাবদ্ধতা আগের চট্টগ্রামই ফেরত দেব থাকবে না

জলাবদ্ধতা আগের চট্টগ্রামই ফেরত দেব থাকবে না

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার কারণে অনেকেই বলেন এবং স্ট্যাটাস দেন, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, আমরা চট্টগ্রামকে সিঙ্গাপুর হিসেবে চাই না, আগের চট্টগ্রামই ফেরত চাই। বর্তমান সরকারের পক্ষে আমি এ বিষয়ে দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, আমরা সিঙ্গাপুরও বানাব এবং আগের চট্টগ্রামও ফেরত দেব। গতকাল শুক্রবার দুপুরে নগরীর কোর্ট বিল্ডিং চত্বরে লালদীঘি গণহত্যায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ও আধুনিকায়ন কাজ উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সিডিএর তত্ত্বাবধানে এটি নির্মিত হচ্ছে। তিনি বলেন, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রামে বিশাল কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। সেই কর্মযজ্ঞের একটি হচ্ছে জলাবদ্ধতা নিরসন। ইতোমধ্যে সিডিএ জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য কাজ শুরু করেছে। আশা করি, আগামী বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা দেখবেন না।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতার কারণে চট্টগ্রামের উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান হচ্ছে জানিয়ে গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতায় চট্টগ্রামে আরো উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ চলবে। আমাদের একটি পরিকল্পনা আছে, সমুদ্রের পাড়ে একটি বিশ্বমানের স্মার্ট সিটি গড়ে তোলা।

তিনি বলেন, বিশ্বের সব জায়গায় সমুদ্রের পাড়ে শহর আছে। তেমনি চট্টগ্রাম শহরকে ঘিরেও একটি স্মার্ট সিটি গড়ে তোলা হবে। এখানে একটি পর্যটন শিল্পও গড়ে উঠবে। মুসলিম হল ঘিরে সাংস্কৃতিক বলয় তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রার স্মৃতি বিজড়িত মুসলিম হল ইনস্টিটিউটকে আধুনিক সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স হিসেবে নির্মাণ করতে প্রায় ২৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন হয়েছে। অচিরেই আমরা কাজ শুরু করতে যাব। এতে মুসলিম হলসহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার আধুনিক রূপ পাবে। তিনি জানান, মুসলিম হল ইনস্টিটিউটের নাম পরিবর্তন ছাড়াই এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

গণহত্যার স্মৃতিচারণ করে মন্ত্রী মোশাররফ বলেন, ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে লালদীঘি ময়দানে জনসভায় ভাষণ দিতে আসেন। পতেঙ্গা বিমানবন্দর থেকে একটি খোলা ট্রাকে করে নেতাদের নিয়ে তাঁর গাড়িটি কোতোয়ালি মোড় পার হতেই পুলিশ নির্বিচারে গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করে।

তিনি বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় সরকারি মুসলিম হাই স্কুল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আমরা লালদীঘিতে সমাবেশ আহ্বান করেছিলাম। সেদিন আমি দেখেছিলাম নেত্রীর সাহস। মাইকে তিনি পুলিশের উদ্দেশে বারবার বলছিলেন, মোশাররফ ভাইয়ের ওপর হাত তুলবেন না। এ সময় নেত্রীকে টার্গেট করে গুলি করার সময় এক পুলিশের রাইফেলের কানেকশন বেল্ট খুলে যাওয়ায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান।

মন্ত্রী বলেন, পরে আইনজীবীরা নেত্রীকে পাহারা দিয়ে আদালত ভবনে নিয়ে যান। ওই দিন আমাদের ২৪ জন গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিল। পুলিশ হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম নির্বিশেষে সবাইকে বলুয়ারদীঘির পাড়ে শ্মশানে নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে ফেলেছিল। পরে সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি মরহুম এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী সেদিনের বীর শহীদদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। আজ অনেক দেরিতে হলেও সেদিনের বীর শহীদদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করতে পেরেছি। এ জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।

প্রধান অতিথি বলেন, এই স্মৃতিসৌধ একটি ইতিহাস। এই ইতিহাস আগামী প্রজন্মের কাছে আওয়ামী লীগের ইতিহাসের একটা স্বাক্ষী। এ জন্য যেমন–তেমন করে নির্মাণ না করে সুন্দর, শৈল্পিক ও দৃষ্টিনন্দন করে নির্মাণ করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে বাংলাদেশের সেরা আর্কিটেকচার দিয়ে এর নকশা করা হবে। টাকা লাগলে আমি দেব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ চালাম। আগামী পাঁচ বছরে চট্টগ্রামে যেসব উন্নয়ন কাজ হবে, সেগুলো বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম ৫০ বছর এগিয়ে যাবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামবাসীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি গত ৯ বছরে অক্ষরে অক্ষরে পালন করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চট্টগ্রামের উন্নয়ন কাজ একদিনের জন্যও বন্ধ ছিল না।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নে উপযুক্ত প্রকল্প নিয়ে গেলে তিনি আমাকে কখনোই খালি হাতে ফেরত দেননি। ২০০৯ সাল হতে এ পর্যন্ত ২০ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন।

সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, আমি স্বপ্ন দেখি, ৫০ বছরের উন্নয়নের আলোয় আলোকিত এক চট্টগ্রাম। যেখানে একটি আধুনিক নগরীর সব চাহিদা পূরণ হবে। যানজট, জলাবদ্ধতা ও পশ্চাৎপদতামুক্ত, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থায় সমৃদ্ধ একটি নগরী উপহার দিতে চাই।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন বাবুল, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট রতন রায়, সিডিএ বোর্ড সদস্য জসিম উদ্দিন চৌধুরী, কেবিএম শাহজাহান, হাসান মুরাদ বিপহ্মব, সিডিএ সচিব তাহেরা ফেরদৌস, উপ–সচিব অমল গুহ, প্রধান প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাসান বিন শামস, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ শাহিনুল ইসলাম খান, কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী, সোহেল শাকুর প্রমুখ।

আরো উপস্থিত ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, মীরসরাই আওয়ামী লীগের সভাপতি আতাউর রহমান আতা, সাবেক কাউন্সিলর ও নগর আওয়ামী লীগ নেতা পেয়ার মোহাম্মদ, রফিকুল আলম, নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, জাহাঙ্গীর আলম, আবদুল মান্নান, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জসিম উদ্দিন, মনোয়ার জাহান মনি, পংকজ রায়, রাকিব উদ্দিন, সাবেক ছাত্রনেতা দেবাশীষ আচার্য্য, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা রেজাউল করিম বিলাস, যুব নেতা কাজী মামুন, জসিম উদ্দিন, রফিকুল আলম বাপ্পি, চউক কর্মচারী লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*