Home / খবর / খালেদা যেসব সুবিধা পাবেন কারাগারে

খালেদা যেসব সুবিধা পাবেন কারাগারে

ভিআইপি বন্দি হিসেবে কারাগারে বিশেষ কিছু সুবিধা পাবেন তিনি। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে পাঁচ বছর সাজা পাওয়া খালেদা জিয়া এখন অবস্থান করছেন পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের পর রায় শেষে তাকে বেলা সোয়া তিনটার দিকে  ওই কারাগারে নেয়া হয়। সেখানে মহিলা কয়েদিদের শিশুদের ডে কেয়ার ভবনের নিচ তলায় দুটি কক্ষ তার জন্য বরাদ্দ রাখা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানান, জেলকোড অনুযায়ী খালেদা জিয়া সব সুবিধা পাবেন। তিনি কয়েকবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। ভিআইপি বন্দি হিসেবে তার যা যা সুবিধা দরকার, সব দেয়া হবে তাকে।

কারাবিধি অনুযায়ী এমনিতে প্রথম শ্রেণির বন্দীরা কারাগারে একটি টয়লেটযুক্ত কক্ষ পান। সেখানে একটি খাট, একটি চেয়ার-টেবিল, একটি টেলিভিশন, একটি পত্রিকা, একজন সেবক থাকে তার জন্য।

তবে নাম-পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে একজন কারা কর্মকর্তা ঢাকাটাইমসকে জানান, খালেদা জিয়া যেহেতু সাবেক প্রধানমন্ত্রী সেক্ষেত্রে একজন উপজেলারকে নিয়োগ দেওয়া হবে তার দেখাশোনার জন্য।

এ ছাড়া খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার সাংবাদিকদের জানান, আজই এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত পরিচারিকা  মোছাম্মৎ ফাতেমাকে তার সঙ্গে কারাগারে থাকার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

খাবারের ব্যাপারে জানতে চাইলে ওই কারা কর্মকর্তা বলেন, প্রথম শ্রেণির বন্দীর মর্যাদা পাওয়া ব্যক্তিদের সকালের নাশতায় রুটি, গুড় অথবা ভাজি দেওয়া হয়। দুপুরে সাদা ভাত, সবজি, মাছ অথবা গোশত ও ডাল এবং রাতে দেওয়া হয় সাদা ভাত, মাছ, সবজি ও ডাল। এ ছাড়া তিনি প্রিজন ক্যান্টিন থেকে পছন্দমতো খাবার কিনে খেতে পারেন।

তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার খাবারের ক্ষেত্রে কারা কর্মকর্তারা বিশেষ নজর দেবেন বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
তিনি আরও বলেন, যেকোনো কারাগারেই যখন একজন ভিআইপি বন্দী থাকেন, তখন তাকে নিয়ে ওই কারাগারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু সবাই তার ব্যাপারে সজাগ থাকেন।

দুই কোটি ১০ লাখ টাকা ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আজ বিশেষ জজ আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদ- দেয়। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই সেনা তৎকালীন সেনা-সমর্থিত সরকারের রমনা থানায় করা দুদকের এই মামলায় খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান, মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদকে ১০ বছর করে কারাদ- ও অর্থদ- দেয়া হয়।

৩৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়া এর আগে একবার কারাগারে যান। ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি গ্রেপ্তার হন। তাকে সংসদ ভবন এলাকার স্থাপন করা বিশেষ কারাগারে রাখা হয়। পাশাপাশি আরেকটি ভবনে স্থাপিত বিশেষ কারাগারে ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের আদেশে মুক্ত হন খালেদা জিয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar