Home / রাজনীতি / ‘শান্তিপূর্ণ’ কর্মসূচি খালেদার ইচ্ছায় বিএনপির

‘শান্তিপূর্ণ’ কর্মসূচি খালেদার ইচ্ছায় বিএনপির

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় বিরুদ্ধে গেলে কোনো হটকারী কর্মসূচি না দিতে এবং শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখতে নেতাদের নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন। আর কারণেই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি কোনো ‘ধ্বংসাত্মক’ কর্মসূচি দেবে না বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আগামীকাল শুক্র এবং শনিবার দেশজুড়ে ‘শান্তিপূর্ণ’ বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন ফখরুল। প্রতিটি শহরের পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়েও কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব।

বৃহস্পতিবার বিকালে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

ফখরুল বলেন, ‘গতকাল আমাদের চেয়ারপারসনের সংবাদ সম্মেলনের পর আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, যদি রায় আপনার বিরুদ্ধে যায় তাহলে আমরা কী করব। তিনি আমাকে জোর দিয়ে বলেছেন, কোনো হটকারী কর্মসূচি দেয়া যাবে না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, নেত্রীর নির্দেশের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তারা শুধু শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি দিয়েছেন। পরবর্তী পরিস্থিতি অনুযায়ী তারা কর্মসূচি দেবেন।

বহুল আলোচিত এই মামলায় বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে ঢাকার বিশেষ জজ-৫ আখতারুজ্জামান রায় ঘোষণা করেন। বয়স বিবেচনায় খালেদা জিয়ার সাজা পাঁচ বছর কমানো হয়েছে। অন্য পাঁচ আসামির প্রত্যেককে ১০ বছর করে কারাদণ্ডের পাশাপাশি দুই কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করেছে আদালত।

খালেদা জিয়া নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানান ফখরুল। তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। সরকারি দলের লোকেরা কোনো উস্কানি না দিলে কোনো সহিংস রূপ নেবে না।’

‘আমরা আমাদের নেতার্মীদের অনুরোধ জানাব, দেশনেত্রীর শেষ কথা ধৈর্য ধরতে হবে। গণতন্ত্রের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, এই ত্যাগ স্বীকার করে জনগণের স্বার্থে আমাদেরকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিতে হবে।’

জনপ্রিয়তম নেত্রীকে রাজনীতি থেকে সরানো লক্ষ্য

খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা আখ্যা দিয়ে ফখরুল বলেন, এই জনপ্রিয় নেতাকে রাজনীতি ও আসন্ন নির্বাচন থেকে দূরে রাখবার জন্য ভুয়া ও মিথ্যা মামলা তৈরি করে নথি তৈরি করে তাকে সাজা দিয়েছে।’

এই রায় দেশের জনগণ কোনদিনও গ্রহণ করবে না এবং ইতিমধ্যে তা প্রত্যাখ্যান বলেছে বলেও দাবি করেন ফখরুল। বলেন, ‘আমরাও অত্যন্ত ঘৃণার সাথে এটা প্রত্যাখ্যান করেছি।’

‘শুধু মাত্র তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য, নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখবার জন্য এবং তাদের একদলীয় শাসন ব্যবস্থার নীল নকশা সেটাকে বাস্তবায়িত করার জন্য এই নেতাকে সাজা দিয়েছে।’

সংকট ঘনীভূত হবে

এই রায় দেশের বর্তমান ‘রাজনৈতিক সংকট’কে আরও ঘনীভূত করবে বলেও মনে করেন ফখরুল। বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা চলে যাবে।’

ফখরুল বলেন, ‘এটা দুর্ভাগ্যজনক শুধু নয়, আমরা ক্ষোভের সঙ্গে বলতে চাই আওয়ামী লীগ বরাবরই নিজেরা সংঘাত সৃষ্টি করে সহিংসতা সৃষ্টি করে বাংলাদেশের রাজনীতিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। তারা বরাবরই পুলিশের সহায়তা নিয়ে আমাদের ওপর চড়াও হয়েছে।’

‘এরপরও বলছি, আমরা শান্তি চাই, গণতান্তিক ব্যবস্থাকে এখানে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই, দেশনেত্রীর স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে চাই।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেনসহ আজকে সারা দেশে এক হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ফখরুল। গত কয়েক দিনে গ্রেপ্তারের সংখ্যা সাড়ে তিন হাজার বলেও জানান তিনি।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar