Home / মাদক / প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মাদকের গডফাদারদের তালিকা

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মাদকের গডফাদারদের তালিকা

চোরাচালানের মূল হোতাদের একটি তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বাংলাদেশে মাদক বিক্রি। এই তালিকা ধরে কাজ চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার সচিবালয়ে আইনশৃংখলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন আমু। তিনি এই কমিটির সভাপতি।

আমু জানান, মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে সরকার মাদক বিক্রি বা চোরাকারবারে জড়িতদের তালিকা প্রকাশ করতে যাচ্ছে সরকার।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখন বিশেষভাবে মাদক ব্যবসায়ী গডফাদার সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তালিকার ভিত্তিতে কাজ করছি।’

তবে এই গডফাদার কারা, সে বিষয়ে ব্রিফিংয়ে কিছু জানাননি আমু।

দেশে জঙ্গি তৎপরতা নিয়ন্ত্রণের পর্যায়ে এসেছে জানিয়ে আমু বলেন, ‘বেড়েছে মাদক সেবন। তাই আমরা মাদকটাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। মাদক যাতে বেশি পরিমাণে বিস্তারলাভ করতে না পারে সে বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার।’

সরকার মাদককে দেশের ভবিষ্যতের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে বলেও জানানো হয় সভায়। আমু বলেন, ‘এভাবে মাদক সেবন বৃদ্ধি পেলে জাতির ভবিষ্যৎ একটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা বেশ কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। এর মধ্যে রয়েছে জনগণকে সম্পৃক্ত করা। সমস্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা হবে।’

‘দেশের সমস্ত মসজিদে খুদবা শুরুর আগে ইমাম সাহেব যেন এ ব্যাপারে সচেতনতামূলক কথা বলেন এবং মাদকের খারাপ দিক তুলে ধরেন এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হবে।’

‘বিশেষ করে সমাজে যাতে মাদকবিরোধী একটি সামাজিক বিপ্লব হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা এই কর্মতৎপরতা গ্রহণ করেছি। এটা কার্যকর করার জন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

২০১৩ সালে হতে এখন পর্যন্ত ১০ হাজার ১২৩ জন মাদক বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানানো হয় সভায়। বলা হয়, ‘দেশের মাদকদ্রব্য ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সমস্ত গোয়েন্দা সংস্থার তালিকা সমন্বয় করে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা  হবে।’

আইনশৃঙ্খলার উন্নতির দাবি

গত এক বছরে দেশে নানা অপরাধের সংখ্যাগত পরিসংখ্যান দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিরও দাবি করেন আমু। বলেন, ‘আমরা আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা যেসব অবলোকন করেছি সেটা হচ্ছে তুলনামূলক অপরাধ কমেছে।’

২০১৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৭ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরে নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতন, ডাকাতি, খুন, অপহরণ ও চুরি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলেও জানানো হয় সভায়।

২০১৬ সালের জুলাইয়ে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর থেকে এখন পর্যন্ত জঙ্গিবিরোধী ৩২ টি বড় অভিযানে ১৮ জন শীর্ষ জঙ্গি নিহত হয়েছে বলেও জানানো হয় সভায়। এসব অভিযানে নিহত হয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীন আটজন সদস্য।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের রায়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছেন কি না- এমন প্রশ্নে আমু বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার অবনতি বলতে যদি মানুষ পোড়ানো হয়, পেট্রল বোমা মারা হয়, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ব্যাহত করা, তাহলে মানুষের জীবন রক্ষার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবশ্যই কঠিনভাবে মোকাবেলা করবে।’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় তারেক রহমানসহ তিন পলাতক আসামিকে বিদেশ থেকে ফেরত আনা হবে কি না-এমন প্রশ্নে আমু বলেন, ‘এটা আইনশৃঙ্খলা সংস্থার ব্যাপার, এটা কীভাবে করবে এটা তাদের ব্যাপার, আমাদের নয়। আদালত কীভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন সেই বিষয়টি তারা দেখবেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar