Home / আর্ন্তজাতিক / বৃহস্পতিবার দুই দিনের বৈঠক শুরু : রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

বৃহস্পতিবার দুই দিনের বৈঠক শুরু : রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণহত্যা ও নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেতা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ইস্যুতে আলোচনার জন্য ঢাকায় আসছেন । দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের দুই দিনের বৈঠক আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় শুরু হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বাংলাদেশের পক্ষে এবং মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খ শোয়ে দেশটির পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন।

এই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, ইয়াবার চোরাচালান বন্ধ ও সীমান্তে দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতার বিষয়টি প্রাধান্য পাবে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ছাড়াও মিয়ানমার থেকে চোরাচালান হয়ে আসা ইয়াবা বড়ি নিয়ে ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ। ইয়াবার কারখানা বন্ধে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে গত রবিবার সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তারা মিয়ানমারের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাচ্ছেন না।

আবার মিয়ানমার সরকারেরও স্বার্থ আছে বাংলাদেশের সঙ্গে এই বৈঠকে। রোহিঙ্গাদের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান সালভেশন আর্মি বা আরসার সদস্যরা বাংলাদেশে আছে বলে দাবি জানিয়ে আসছে দেশটি। এই সংগঠনের সদস্যদের বাংলাদেশ থেকে আটক ও হস্তান্তরের বিষয়টি উত্থাপন করার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ অবশ্য তার ভূখণ্ডে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আশ্রয় না দেয়ার নীতির কথা প্রকাশ্যেই জানিয়ে আসছে।

৪ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খ শোয়ের ঢাকা সফরের কথা থাকলেও তা পিছিয়ে যাওয়ায় নতুন করে বৈঠকের এ সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়।

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার পর সেনা অভিযানের মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। আগে থেকে আছে আরও প্রায় পাঁচ লাখ। এদেরকে ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে ফিজিক্যাল অ্যারাঞ্জমেন্ট চু্ক্তি হয়েছে জানুয়ারিতে।

মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ২৩ জানুয়ারি থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল। কিন্তু সে প্রত্যাবাসন এখনো শুরু হয়নি। এই চু্ক্তির পর রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী জানিয়েছেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই তারা প্রত্যাবাসন শুরু করবেন।

বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গারা মিয়ানমার ফিরে গেলে তাদের নিরাপত্তার কী হবে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই বিষয়টিও তুলে ধরা হবে বলে পররাষ্ট্র এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar