Home / আদালত / খালেদার জামিনের শুনানি রোববার অর্থদণ্ড স্থগিত

খালেদার জামিনের শুনানি রোববার অর্থদণ্ড স্থগিত

হাইকোর্ট কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন । সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে নিম্ন আদালতের দেয়া অর্থদণ্ডের আদেশ স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদনের শুনানির জন্য রোববার দিন ঠিক করে দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল এসব আদেশ দেন। হাইকোর্ট এ মামলার নিম্ন আদালতের নথিও তলব করেছেন। যা ১৫ দিনের মধ্যে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

গত ৮ই ফেব্রুয়ারি ঢাকার আলিয়া মাদরাসায় স্থাপিত বিশেষ আদালত খালেদা জিয়াকে ৫ বছর এবং অন্য আসামিদের ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন।

তাদের অর্থদণ্ডও দেয়া হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার হাইকোর্টে আপিল করেন খালেদা জিয়া। গতকাল এ আপিলের গ্রহণযোগ্যতার  শুনানির শুরুতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এজে মোহাম্মদ আলী আদালতের উদ্দেশ্যে বলেন, ক্রিমিনাল ল অ্যামেন্ডম্যান্ট অ্যাক্ট ১০ (১) ধারায় এই আপিলটি করা হয়েছে। আপিল শুনানি গ্রহণের জন্য আবেদন করছি। আপিল গ্রহণ করলে জামিনের আবেদন দেয়া হবে। আদালত বলেন, কী প্রেয়ার আছে? শুধুই আপিল অ্যাডমিশন চেয়েছেন?  জবাবে এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, এ ধরনের আবেদনে সাধারণত যা যা থাকে তাই আছে।  আদালত নথি দেখে বলেন, কনভিকশন কি স্থগিত করা যায়? ক্রিমিনাল ল অ্যামেন্ডম্যান্ড অ্যাক্টে কনভিকশন স্থগিতের বিধান নেই। আপনারা তো কনভিকশনও স্থগিত চেয়েছেন। জবাবে এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, আবেদন গতানুগতিক হয়েছে। আমরা ঠিক করে দেব। আমরা প্রথা অনুযায়ী আবেদন করেছি।

একপর্যায়ে আদালত আপিল গ্রহণ করে আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়, খালেদা জিয়াকে এই মামলায় বিচারিক আদালতের দেয়া অর্থদণ্ড আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। একই সঙ্গে এই মামলার বিচারিক আদালতের নথি আদেশের ১৫ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে পাঠাতে হবে।

শুনানিতে এজে মোহাম্মদ আলী খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন উপস্থাপন করেন। আদালতের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বেগম জিয়া গত ১৫ দিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। তিনি বয়স্ক। তার সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করবেন আশা করি। তার সাজাও কম। তাই তার জামিন প্রাপ্য। তাকে জামিন দেয়া হোক। এ সময় দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন, আমরা আজ (গতকাল) সকালে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের কাছ থেকে নথিপত্র পেয়েছি। শুনানির জন্য আমাদের সময় প্রয়োজন। দুদক আইনে বলা আছে দুদককে কোনো  মামলায় পক্ষভুক্ত করলে শুনানির জন্য যুক্তিসঙ্গত সময় দিতে হবে। আদালত বলেন, তারা (আসামিপক্ষের আইনজীবী) তো এখন মেরিটে যাচ্ছে না। পুরো রেকর্ডের কী প্রয়োজন আছে?

খুরশিদ আলম খান বলেন, এই মামলায় অনেক বড় গ্রাউন্ড রয়েছে। আদালত বলেন, এজন্যই তো আপনারা টকশো তে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন। খুরশিদ আলম খান বলেন, ফৌজদারি আইনে কম সাজার ক্ষেত্রে জামিনের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু দুদক আইনে এ সুযোগ নেই।

একপর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতের উদ্দেশ্যে বলেন, আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন। জরিমানা স্থগিত করেছেন। বিচারিক আদালতের নথিও তলব করেছেন। কিন্তু আমরা আজ সকালেই নথিপত্র পেয়েছি। নথি পর্যালোচনার পর আমরা শুনানি করবো। জামিন আবেদনের শুনানির জন্য এটি কার্যতালিকায় রাখা হোক। আদালত বলেন, আপিল বিভাগের অনেক আদেশ আছে সাজা কম হলে জামিন দিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু সেগুলো বিশেষ আইন প্রণয়নের আগের। যেহেতু দুদক আইনে বলা আছে তাদের যুক্তিসঙ্গত সময় দেয়ার তাই আমরা রোববার দুপুর ২টায় শুনানির জন্য রাখলাম। খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের মধ্যে আদালতে আরো উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, খন্দকার মাহবুব হোসেন, জয়নুল আবেদীন, সানাউল্লাহ মিয়া, মাহবুব উদ্দিন খোকন, আমিনুল ইসলাম, কায়সার কামাল প্রমুখ।

গতকাল খালেদা জিয়ার এই মামলাটি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে কার্যতালিকার ৬ নম্বরে ছিল। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সবাইকে আদালতের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বলেন। এ সময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহম্মেদ বলেন, আমরা খুব অল্প সময় আগে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের কাছ থেকে আপিল ও জামিন আবেদনের কপি পেয়েছি। শুনানির আগে আমাদের সময়ের প্রয়োজন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বেলা ২টা পর্যন্ত সময়ের প্রার্থনা করেন। আদালত শুনানির জন্য দুপুর ১২টা নির্ধারণ করে দেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এজলাসে উভয়পক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতি দেখে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি বলেন, যেহেতু দুই পক্ষের আইনজীবীরাই উপস্থিত আছেন, সেহেতু আগেই শুনানি শুরু হতে পারে। তবে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের জ্যেষ্ঠ একজন আইনজীবীর জন্য কিছু সময় অপেক্ষা করার কথা বলেন। এর মধ্যেই এজলাস কক্ষে প্রবেশ করা নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে কয়েক দফা কথাকাটাকাটি, হৈ চৈ ও হট্টগোল হয়। এ সময় উভয়পক্ষের সিনিয়র আইনজীবীদের এজলাসের সামনের বেঞ্চে এসে বসতে বেগ পেতে হয়। এ সময় এজলাসকক্ষের শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি উভয়পক্ষের আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান। একপর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম দুই পক্ষের আইনজীবীর সংখ্যা সীমিত করে দিতে  আদালতের প্রতি অনুরোধ জানান। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনিও সহমত পোষণ করেন। একপর্যায়ে আদালত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কথা বলে কিছুক্ষণের জন্য বিরতিতে যান। দুপুর ১২টায় আবারো আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar