Home / খবর / স্বাগত প্রধানমন্ত্রী বরণে প্রস্তুত পটিয়াসহ চট্টগ্রামবাসী

স্বাগত প্রধানমন্ত্রী বরণে প্রস্তুত পটিয়াসহ চট্টগ্রামবাসী

স্বাগত প্রধানমন্ত্রী।আজ বুধবার চট্টগ্রাম আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা । বিকালে পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি। দীর্ঘ ১৭ বছর পর আজ তিনি পটিয়ায় যাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রীর জনসভা ঘিরে পটিয়ার সর্বত্র সাজ সাজ রব বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত পটিয়া। ইতোমধ্যে মঞ্চ তৈরি ও হেলিপ্যাড নির্মাণ হয়েছে। জনসভাস্থল থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে খরনার জলুয়ারদীঘি পাড় এলাকায় বিলের মাঝখানে নির্মাণ করা হয়েছে দুটি হেলিপ্যাড। তাঁর নিরাপত্তায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত এ জনসভা থেকেই প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের ৪১টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের উন্নয়নে আরো এক গুচ্ছ প্রকল্প ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রীণ্ডএমনটা আশা করছেন পটিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসী।

আজ বুধবার বেলা ২টা থেকে পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে (কলেজ মাঠ) এই জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভাপতিত্ব করবেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ।

প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা গতকাল কর্মব্যস্ত দিন অতিবাহিত করেছেন। ৩ হাজারের অধিক পুলিশ সদস্য, আর্মড পুলিশ ব্যাটেলিয়ন, র‌্যাব, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর), স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সসহ (এসএসএফ) বিভিন্ন আইন–শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা জনসভাকে ঘিরে নিষ্ফিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছেন। আজ জনসভার চারদিকে শতাধিক সিসি টিভি ক্যামেরা ছাড়াও প্রবেশ পথে মেটাল ডিটেক্টর বসানো হয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন এলাকায় সাদা পোশাকে পুলিশ দায়িত্বে থাকবে।

সেনাবাহিনী ও র‌্যাবের ডগ স্কোয়াড ঠিম গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সমাবেশস্থলে জনসভার মঞ্চ ও মাঠে তল্লাশি চালিয়েছে। জনসভার মাইক লাগানো, সার্ব ণিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে মাঠের পাশে জেনারেটরসহ বাড়তি বিদ্যুতের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ধুলোবালি থেকে রক্ষা পেতে দমকল বাহিনীর সদস্যরা গতকাল বিকালে মাঠে পানি ছিটিয়েছে। পুলিশ ও বিভিন্ন সংস্থার লোকজন পাশের বিভিন্ন স্কুল–কলেজ ও কমিউনিটি সেন্টারে অবস্থান নিয়েছেন।

সমাবেশে ৫ লক্ষ লোকের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। সমাবেশস্থল ছাড়াও আশপাশের তিন কিলোমিটার এলাকা লোকে লোকারণ্য হবে বলে জানান তারা। জনসভায় যানজট নিরসনে বিকল্প রাস্তা হিসেবে চন্দনাইশ–আনোয়ারা হয়ে আজ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারগামী যানবাহন চলাচল করবে।

আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে নৌকার আদলে নির্মাণ করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর জনসভার মঞ্চ। দুই হাজার চারশ বর্গফুট আয়তনের এই মঞ্চে ২০০ জনের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মঞ্চটি নির্মাণ করা হয়েছে নজরকাড়া।

স্থানীয় সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী জানান, এই মঞ্চে কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি দক্ষিণ জেলার কার্যনির্বাহী কমিটির ৭০ জন নেতা এবং মহানগর ও উত্তর জেলার ২০ জন করে ৪০ জন নেতা মঞ্চে বসবেন।

জনসভাস্থল এবং এর বাইরে পাঁচ কিলোমিটার জুড়ে লাগানো হচ্ছে ১১০টি মাইক। জনসভাস্থলের বাইরে যারা থাকবেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তাদের সরাসরি দেখাতে লাগানো হয়েছে প্রজেক্টর। তবে জনসভাস্থলে নিরাপত্তার কারণে কোনো ব্যানার–ফেস্টুন লাগানো হয়নি।

পটিয়ায় জনসভা হলেও মহানগরের প্রতিটি সাংগঠনিক ইউনিট থেকে নেতাকর্মীদের নিয়ে জনসভায় গাড়ি যাবে বলে জানান নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। তিনি জানান, আনুমানিক ২০০ গাড়ি ভাড়া করা হয়েছে। এছাড়া বিশেষ ট্রেন, নৌকা ও সাম্পানেও মানুষ জনসভায় আসবেন।

পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রধানমন্ত্রী ২০০১ সালে এসেছিলেন নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতা করতে। অবশ্য তখন তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না। স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে এ মাঠে এসে জনসভা করেছিলেন। সেই কারণে প্রধানমন্ত্রীর জন্য পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠটি স্মৃতি বিজড়িত স্থান। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহর সফর করেছেন এবং জনসভা করছেন। যেসব বিভাগীয় শহরে যাচ্ছেন সেখানে এক গুচ্ছ উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন, উদ্বোধন করছেন এবং প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন।

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ বলেন, জনসভার সার্বিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পটিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বরণে প্রস্তুত। দক্ষিণ চট্টগ্রামের মধ্যে পটিয়া রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছে। ফলে পটিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর আগমনে একটি ভিন্নমাত্রা সৃষ্টি হয়েছে। এক কথায় প্রধানমন্ত্রীর জনসভার জন্য যেভাবে প্রস্তুতি নেওয়া দরকার নেওয়া হয়েছে। এ জনসভার প্রচার দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রতি ঘরে ঘরে করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০০১ সালের পর দীর্ঘ ১৭ বছর পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি পটিয়ায় আসছেন। তাই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি জনগণের আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। এ জনসভায় তিনি ৪১টি প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তুর ছাড়াও জনগণের দাবি দাওয়ার ভিত্তিতে আরো প্রকল্প দেবেন। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে দক্ষিণ চট্টগ্রামে এ জনসভা গুরশুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আজকের জনসভায় কেউ ঘরে বসে থাকবে না। সবাই প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে ছুটে আসবে।

এদিকে গতকাল জনসভার মাঠ পরিদর্শনে আসেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, উপ–প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ–দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপহ্মব চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, এম এ লতিফ এমপি, সামশুল হক চৌধুরী এমপি, ইছহাক আলী খান পান্না এমপি, বদিউল আলম বদি এমপি, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবু সুফিয়ান, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সেক্রেটারি মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাঈনুদ্দীন হাসান রিপন, শাহজাদা মহিউদ্দিন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল আলম সোহাগ, মহানগর যুবলীগের সভাপতি মহিউদ্দিন বাচ্চু।

শেখ হাসিনার পটিয়া সফরকে ঘিরে নানা জল্পনা–কল্পনা শুরশু হয়েছে। অনেকে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী পটিয়াকে জেলা ঘোষণা করতে পারেন। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পটিয়াকে জেলা ঘোষনা করলেও অদৃশ্য কারণে তা আর বাস্তবায়ন হয়নি।

সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বরণে পটিয়া ও দক্ষিণ চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার ৫ লক্ষ মানুষ প্রস্তুত রয়েছে। জনসভার সার্বিক প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। কেন্দ্রীয়, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা এবং মহানগরের আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ জনসভার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। আইন–শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি দুই বার পটিয়ায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর দেড় হাজার কোটি টাকা উন্নয়ন কাজ করেছি। পটিয়ায় আরো ৫ হাজার কোটি টাকার উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। জনগণ তাকে আবার সুযোগ দিলে তা বাস্তবায়ন করবেন। পটিয়া জেলা বাস্তবায়ন, দুটি স্কুল সরকারিসহ যেসব দাবি উঠেছে তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিবেচনায় রেখেছেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর হেলিপ্যাড এলাকা থেকে শুরু করে জনসভাস্থল পর্যন্ত পুলিশ ও আইনশৃংখলা বাহিনীর বিশেষ ‘হিউম্যান ট্রেন’ তৈরি করা হবে। জনসভাস্থল ও আশপাশে এসএসএফ, পিজিডি, পোষাকি পুলিশ ও সাদা পোশাকের চারস্তরের বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হবে। সাথে থাকবে মোবাইল পার্টি। তাছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে ৫০টি উচ্চ মাত্রার ‘ক্লোজ সার্কিট’ বসানো হবে। রাস্তায় ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে চন্দনাইশ থেকে ক্রসিং পর্যন্ত ৫শ ট্রাফিক পুলিশ দেওয়া হবে। জনসভার আশপাশে হাইরাইজ বিল্ডিংগুলোর উপর ও নিচে আইন–শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া সাদা পোশাকে থাকবে ৪–৫ পুলিশ সদস্য।

জনসভাস্থল পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ পরির্দশনে গিয়ে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও রূপালী ব্যাংকের পরিচালক আবু সুফিয়ান জানান, প্রধানমন্ত্রী কোথাও খালি হাতে যান না। যেখানেই যান হাত ভর্তি করে নিয়ে যান এক গুচ্ছ উন্নয়ন প্রকল্প। পটিয়ায়ও প্রধানমন্ত্রী খালি হাতে আসবেন না। সেটা মনে করেন পটিয়া ও দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসী। প্রধানমন্ত্রী এই চট্টগ্রামকে অনেক কিছু দিয়েছেন। এখন চট্টগ্রামবাসীর উচিত প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া। সেটা হবে আগামী নির্বাচনে চট্টগ্রামের সবগুলো আসন প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেওয়া।

এদিকে নগরীর কর্ণফুলী সেতু চত্বর থেকে ২৭ কিলোমিটার পথ বেয়ে পটিয়া পৌরসভায় প্রবেশ করতেই চোখে পড়ল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত রঙ–বেরঙের ব্যানার আর মোড়ে মোড়ে তোরণ। ভাঙাচোরা সড়কে চলছে সংস্কার কাজ। রাস্তার দুই পাশের গাছপালায় রঙের ছোঁয়া। নগরীসহ কর্ণফুলী উপজেলা থেকে শুরু করে পটিয়ার প্রতিটি সড়ক, অলি–গলিতে চলছে জনসভার মাইকিং। রাস্তার পাশে লাগানো মাইকে ভেসে আসছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ। উপজেলা জুড়ে উৎসবের আমেজ। রাস্তায় উৎসুক জনতার ভিড়। সবার চোখ পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে।

সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী এবং দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী আজকের জনসভায় কালুরঘাট সেতুর দ্রুত নির্মাণ কাজ, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেললাইন দ্রুত বাস্তবায়ন, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার চার লাইনের মহাসড়ক, পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ ঘোষণা, পটিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামে গ্যাস সংযোগসহ আরো বেশ কয়েকটি প্রকল্পের ঘোষণা দিতে পারেন।

দুই নেতা জানান, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের চাওয়ার কিছু নেই। চাওয়ার আগেই তিনি চট্টগ্রামকে সবকিছু দিয়ে দিয়েছেন। বিশেষভাবে দক্ষিণ চট্টগ্রামে টানেল হচ্ছে। এটি স্বপ্ন নয়, বাস্তব। দক্ষিণ পাড়ে আনোয়ারা–পশ্চিম পটিয়া অংশে ইকোনমিক জোন হচ্ছে। মেরিন ড্রাইভ হবে। রেললাইন কক্সবাজার হয়ে ঘুমধুম পর্যন্ত যাচ্ছে। বাঁশখালী দিয়ে কক্সবাজারের বিকল্প সড়ক হবে। বহদ্দারহাট থেকে শাহ আমানত সেতুর দক্ষিণ পাড়ে চারলেনের কাজ হচ্ছে। মহানগরে যে ফ্লাইওভারগুলো হয়েছে, সেগুলো দক্ষিণ চট্টগ্রামের জন্যই হয়েছে। আরো অনেক কিছু করবেন প্রধানমন্ত্রী।

জনসভায় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামবাসীকে উন্নয়নের আরো সুখবর দিতে পারেন বলে ধারণা করছেন দলের নেতাকর্মীরা। মূলত চট্টগ্রামে ৫ বছর পর আজ বড় আকারের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৩ সালে সর্বশেষ চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে রাজনৈতিক জনসভা করেছিলেন। ২০১২ সালে সর্বশেষ নগরীর পলোগ্রাউন্ড ময়দানে মহাসমাবেশে এসেছিলেন।

চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর ৬ ঘণ্টা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামে আজ প্রায় ৬ ঘণ্টা অবস্থান করবেন। পটিয়ার জনসভাকে কেন্দ্র করে মূলত প্রধানমন্ত্রীর আগমন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দাপ্তরিক পত্রে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকা থেকে সকালে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে রওনা হবেন। আজ সকাল ১০টা ১০ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর ঘাঁটি বানৌজা ঈসা খানে পৌঁছবেন। সকাল সাড়ে ১০টায় বিএনএ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেখানে তিনি বিএনএ ডকইয়ার্ডকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান করবেন। এছাড়া বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সের উদ্বাধনসহ অন্যান্য কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন।

বেলা আড়াইটা নাগাদ প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে পটিয়ার সমাবেশে যোগদানের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। পটিয়ার সমাবেশে পৌঁছতে ১০ মিনিট সময় লাগবে। প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে ২টা ৪০ মিনিটে পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রস্তুতকৃত হেলিপ্যাডে অবতরণ করার কথা উলেহ্মখ আছে। সেখান থেকে সমাবেশস্থলে যোগদানের পর বিকাল ৩টা পর্যন্ত ব্যস্ত থাকবেন ৪১টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন নিয়ে। এরপর তিনি সমাবেশে যোগ দেবেন। বিকাল ৪টা ২০ মিনিটের মধ্যে জনসভাস্থল ত্যাগ করবেন এবং হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় রওনা হবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের যুগ্ম সচিব, সামরিক সচিবসহ এসএসএফের মহাপরিচালক, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব, ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং প্রধানমন্ত্রীর এডিসির আসার কথা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*