Home / সম্পাদকীয় / আর দেরি করা ঠিক হবে না সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের পূর্ণাঙ্গ তথ্যভাণ্ডার চালু করতে

আর দেরি করা ঠিক হবে না সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের পূর্ণাঙ্গ তথ্যভাণ্ডার চালু করতে

নীতিতে এসেছে নানা পরিবর্তন।সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের সঠিক ও পূণাঙ্গ তথ্যভান্ডার তৈরির প্রথম উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল ২০০২ সালে। এরপর  কর্মপরিকল্পনায় কাগজে কলমে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন সংস্থা। তবে ১৬ বছর পরেও সেই শুরুর অবস্থানে থমকে আছে পূর্ণাঙ্গ তথ্যভাণ্ডারের এ পরিকল্পনা। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থা (বিআরটিএ) বছর বছর দুর্ঘটনায় হতাহতদের সংখ্যা প্রকাশ করলেও সেটির সঠিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা। পত্রিকাকর্মপরিকল্পনায় কাগজে কলমে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন সংস্থা। তবে ১৬ বছর পরেও সেই শুরুর অবস্থানে থমকে আছে পূর্ণাঙ্গ তথ্যভাণ্ডারের এ পরিকল্পনা। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থা (বিআরটিএ) বছর বছর দুর্ঘটনায় হতাহতদের সংখ্যা প্রকাশ করলেও সেটির সঠিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা। পত্রিকান্তরে এসব তথ্য সম্প্রতি পরিবেশিত হয়।ন্তরে এসব তথ্য সম্প্রতি পরিবেশিত হয়।

বিআরটিএর পাশাপাশি কয়েক বছর ধরে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করে আসছে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা। তবে একেকটি সংস্থা একেক রকম তথ্য দিয়ে শুধু বিভ্রান্তিই বাড়াচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যানিরূপণে তথ্যভাণ্ডার তৈরির প্রথম উদ্যোগটি নেয়া হয়েছিল ২০০২ সালে। ন্যাশনাল রোড সেফটি স্ট্রাটেজিক অ্যাকশন প্ল্যান ২০০২–০৪ এ সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্যের জন্য জাতীয় পর্যায়ে একটি তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছিল। সে সময় এর উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়েছিল, সঠিক তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা। পরবর্তীতে আরো আটটি কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল (এনসিআরসি)। যার সর্বশেষটি ২০১৭–২১ সালের জন্য। কর্মপরিকল্পনাতেই একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্যভাণ্ডার তৈরির সুপারিশ রয়েছে, যদিও আজো সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের পূর্ণাঙ্গ তথ্যভাণ্ডাার হয়নি। ২০১৭ সালের সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা জানতে সম্প্রতি যোগাযোগ করা হয়েছিল বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। সেখানে গত বছরের ১১ মাসের দুর্ঘটনায় হতাহতের তথ্য মিলেছে। তথ্য অনুযায়ী ২০১৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দেশে ২ হাজার ৩৮৮ টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ২ হাজার ৩৪৫ জন। আহতের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। ডিসেম্বরের তথ্য এখনো বিআরটিএর হাতে নেই। বিআরটির তথ্য বিশেষজ্ঞ জানান, পুলিশের কাছ থেকে নেয়া তথ্য বিআরটিএ প্রকাশ করে।

দেশের সড়কগুলো যেন মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে, অকালে প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। ভয়াবহ ব্যাপারটি হলো, সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে চললেও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেই। এমন কি সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের পূর্ণাঙ্গ তথ্যভাণ্ডাারও নেই। অথচ সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিরূপণে পূর্ণাঙ্গ তথ্যভাণ্ডার তৈরির প্রথম উদ্যোগটি নেয়া হয়েছিল ২০০২ সালে। কিন্তু ২০১৮ সালে এসেও এই তথ্যভাণ্ডার চালু করা যায়নি। কখন চালু হবে তাও জানে না যথাযথ কর্তৃপক্ষ। সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্যভান্ডার তৈরির উদ্দেশ্য ছিল সঠিক তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ। কিন্তু কেন ১৬ বছর পরও তথ্যভান্ডার চালু করা গেল না, তা বোধগম্য নয়। অথচ এনআরএসসি’র সব কর্মপরিকল্পনায়ও কিন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্যভান্ডার তৈরির সুপারিশ রয়েছে। এটি চালু না করার কারণে দুর্ঘটনায় হতাহতের তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। প্রতি বছর বিআরটিএ দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করলেও সেটি নিয়ে সন্দেহ থেকে যাচ্ছে। আবার বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে বড় পার্থক্য থাকায় বিভ্রান্তি বাড়ছে। অন্যদিকে পুরো বিশ্বেই সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য পুলিশকেই সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে বাংলাদেশের পুলিশ সড়ক দুর্ঘটনার যে তথ্য দেয় তা সঠিক নয়। তারা তথ্য–উপাত্তও রাখে না, আন্ডার রিপোর্টিং করে। অথচ এজন্য পুলিশকে জবাবদিহিও করতে হয় না। আর বিআরটিএ পুলিশের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে প্রকাশ করে। ফলে প্রকাশিত তথ্য ও বাস্তবতার মধ্যে বড় ফারাক থেকে যায়। তথ্যে দুর্ঘটনা কম দেখানো হলে কি বাস্তবতা থেকে দূরে থাকা যায়? আর বাস্তবতা হলো, দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। সরকারকে বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে হবে। তাছাড়া সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে সরকারের কিছু নির্দেশনা রয়েছে। এ নির্দেশনাগুলো সঠিকভাবে পালন করলে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের প্রকৃত তথ্য বের হয়ে আসবে। এ নির্দেশনা প্রতিপালনে সরকারকে কঠোর হতে হবে। হাইওয়ে পুলিশ বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের যথাযথ দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতে হবে।

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে যে কোন উদ্যোগ নিতে হলে সবার আগে জানতে হবে বছরে, মাসে বা দিনে কয়টি দুর্ঘটনা ঘটছে এবং কতজন মানুষ হতাহত হচ্ছে। এজন্য পূর্ণাঙ্গ তথ্যভান্ডার থাকলে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। আমাদের প্রত্যাশা–সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*