অটোরিকশাচালক খুনে তিনজনের ফাঁসির আদেশ ফেনীতে

45

আদালত ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় সিএনজি অটোরিকশাচালক মুলকত আহম্মদ কালা মিয়া হত্যা মামলায় তিন আসামির ফাঁসির আদেশ দিয়েছে । পাশাপাশি অপর এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। সোমবার জেলা ও দায়রা জজ ড. বেগম জেবুন্নেছা এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার ১৬ আসামিকে বেকসুর খালাস দেয় আদালত।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন- হুমায়ুন হাছান রাকীব, আবদুর রহমান মানিক ও আবু তৈয়ব বাবলু। একই সাথে তাদের ৪০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেয়া হয়। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সুমন চন্দ্র রায়। তাকেও ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হাফেজ আহম্মদ জানান, রায় ঘোষণার সময় শুধু আবদুর রহমান মানিক আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত অপর তিন আসামি পলাতক।

খালাসপ্রাপ্ত ১৬ আসামি হলেন- রাসেল, সোহাগ, মোশারফ হোসেন, রুবেল মিয়া, দিদার হোসেন রিপন, আলমগীর হোসেন বাবু, মাঈন উদ্দিন ঝিনুক, জহির, নুর মোহাম্মদ জুয়েল জনি, সাফায়াত আহম্মদ পাটোয়ারী রাকিব, হাছান ইমাম, সাফুল ইসলাম, লোকমান হোসেন, শরীফ প্রকাশ কানা টিপু, তৌহিদ উল্যাহ, এনায়েত হোসেন রাজু।

মামলার নথিপত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ১৮ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে পরশুরাম থেকে সিএনজি অটোরিকশা চালিয়ে মুন্সিরহাটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন মুলকত আহাম্মদ কালা মিয়া। রাত ১২টা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। একপর্যায়ে রাত ৩টার দিকে জগতপুর রোডের টুক্কু মিয়ার পুলের পশ্চিম পাশে পানি থেকে মুলকতের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বড় ভাই ফখরুল আহাম্মদ মজুমদার বাদী হয়ে ফুলগাজী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন ওসি সৈয়দুল মোস্তফা ২০১১ সালের ২৮ মে আদালতে ২০ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে ২০১২ সালের ২৫ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার কাজ শুরু করেন। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ১৫ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।