Home / আর্ন্তজাতিক / অভিবাসন দুই মাসের জন্য স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রে

অভিবাসন দুই মাসের জন্য স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রে

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রাথমিকভাবে দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে প্রাণঘাতী ভাইরাস করোনায় মহামারীজনিত কারণে। এই বিষয়ের একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই মাস নতুন করে কোনো ব্যক্তিকে অভিবাসন দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। মূলত যারা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য গ্রিন কার্ডের আবেদন করছেন তাদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে।

ট্রাম্প বলেন, এই পদক্ষেপ নেয়ার ফলে করোনাভাইরাস মহামারিতে তৈরি হওয়া সঙ্কটে আমেরিকান নাগরিকদের কর্মসংস্থান সুরক্ষিত থাকবে। খবর বিবিসির।

অস্থায়ী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত থাকা ব্যক্তিদের ওপর এই সিদ্ধান্তের কোনো প্রভাব পড়বে না। সমালোচকদের মতে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ ওঠায় এখন অন্যদিকে মনোযোগ সরিয়ে নিতে চাচ্ছেন তিনি।

এর আগে হোয়াইট হাউজে করোনাভাইরাস সম্পর্কিত প্রেস ব্রিফিং এর সময় ট্রাম্প জানিয়েছিলেন সিদ্ধান্তের নির্বাহী আদেশ বুধবারে স্বাক্ষর করা হতে পারে এবং মার্কিন অর্থনীতির গতিবিধির হিসেবে এই নিষেধাজ্ঞা ‘বেশ দীর্ঘায়িত’ হতে পারে।

গত সোমবার রাতে ‘সব ধরণের অভিবাসন’ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করলেও পরে কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতার সমালোচনার শিকার হয়ে খামারের শ্রমিক, হাই টেক কারখানার কর্মীদের মত কিছু বিশেষ খাতের অভিবাসী শ্রমিকদের নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেছেন, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে ২ কোটির বেশি আমেরিকান তাদের চাকরি হারিয়েছে এবং তারা যেন তাদের কর্মসংস্থান ফিরে পায়, তা নিশ্চিত করা সরকারের ‘পবিত্র দায়িত্ব।’

তিনি বলেন, ‘ভাইরাসের কারণে চাকরি হারানো আমেরিকানদের জায়গায় যদি বিদেশি অভিবাসী শ্রমিকরা কাজ পায়, তাহলে তা অ্যামেরিকানদের প্রতি অন্যায় হবে। আমরা মার্কিন কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চাই এবং আমি মনে করি ভবিষ্যতে আমরা তাদের সুরক্ষার প্রতি আরো বেশি জোর দেব।

তবে প্রেসিডেন্টের এই আদেশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ফোরামের সদস্য আলী নুরানি টুইটারে লিখেছেন:=, ‘যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা খাতের ১৭ শতাংশ কর্মী এবং সরাসরি সেবা খাতের ২৪ শতাংশ কর্মী অভিবাসী।’

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন কাউন্সিল টুইটে জানিয়েছে, ‘করোনাভাইরাসে আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ মারা যাওয়ার বিষয়টি থেকে আমাদের মনোযোগ বিচ্ছিন্ন করছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কার্যক্রম।’

গ্রিন কার্ড কী?

# অভিবাসীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের বৈধতা এবং মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সুযোগ দেয় গ্রিন কার্ড।

# সাধারণত, প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে ১০ লাখ গ্রিন কার্ড অনুমোদন করা হয়।

# মার্কিন সিনেটের ২০১৮ সালের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ১০ লাখ গ্রিনকার্ডের প্রায় ৭০ শতাংশ পায় এমন অভিবাসীরা, যাদের আত্মীয়-স্বজন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন।

# চাকরি সংশ্লিষ্ট গ্রিনকার্ডের প্রায় ৮০ শতাংশ দেয়া হয় এমন অভিবাসী শ্রমিকদের, যারা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: