ব্রেকিং নিউজ
Home / স্বাস্থ্য / আইসিইউ সংকট তীব্র সরকারি হাসপাতালে

আইসিইউ সংকট তীব্র সরকারি হাসপাতালে

দেশে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে শীতের প্রকোপ শুরু হওয়ার আগেই। ঢাকার হাসপাতালগুলোতে গত এক সপ্তাহ ধরে আচমকা করোনা রোগী ভর্তির সংখ্যা বেড়েছে। সাধারণত করোনা রোগীর পাশাপাশি জটিল রোগীদের সংখ্যাও বাড়ছে। জটিল রোগীদের জন্য সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ সংকট দেখা দিয়েছে। ঢাকার সরকারি ৫টি হাসপাতালের ৬২টি আইসিইউ শয্যার সবক’টিতেই রোগী ভর্তি। এতে করে ওই হাসপাতালগুলোর জটিল করোনা রোগীরা আইসিইউ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আইসিইউ সেবা পেতে জটিল রোগীর স্বজনরা এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে দৌড়ঝাঁপ করছেন। যদিও বেসরকারি কিছু হাসপাতালে সীমিত আইসিইউ শয্যা খালি আছে।

ব্যয়বহুল হওয়াতে সাধারণ রোগীর স্বজনরা সেগুলোতে আগ্রহ কম দেখাচ্ছেন।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যেভাবে সংক্রমণ বাড়ছে এভাবে আর কিছুদিন চলতে থাকলে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে কিনা সেটা বলা যাবে। আর শীত মৌসুমে এমনিতেই জটিল রোগীদের সংখ্যা বাড়ে। ওই সময় আইসিইউ চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ সংকটের জন্য অনেক রোগী সমস্যায় পড়তে পারে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, আইসিইউ সাপোর্ট দেয়ার জন্য যথেষ্ট যন্ত্রপাতি তাদের কাছে আছে। কিন্তু আইসিইউ পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবলের অভাব। দক্ষ জনবল পাওয়া গেলেই আরো অন্তত চার শতাধিক আইসিইউ সাপোর্ট দেয়া যাবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র বলছে, ঢাকার ১৯টি করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ৩ হাজার ৫১৯টি সাধারণ করোনা শয্যার পাশাপাশি ৩১৪টি আইসিইউ শয্যা আছে। গত কয়েকদিন ধরে এসব শয্যাতে রোগী বাড়ছে। ১২ই নভেম্বর ঢাকার সরকারি-বেসরকারি করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের ৩১৪টি আইসিইউ শয্যাতে রোগী ভর্তি ছিল ১৮৬ জন। শয্যা খালি ছিল ১২৮টি। ১৩ই নভেম্বর সমান সংখ্যক শয্যায় ১৯৪ জন রোগী ভর্তি ছিল। খালি ছিল ১২০টি শয্যা। ১৪ই নভেম্বর ভর্তি ছিল ২০২ জন রোগী। খালি ছিল ১১২টি শয্যা। গতকাল ১৬ই নভেম্বর ৩০৯টি শয্যায় ২০২ জন রোগী ভর্তি ছিল। খালি ছিল ১০৭টি শয্যা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সরকারের করোনা ডেডিকেটেড সরকারি  কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে আইসিইউ’র ১৬টি শয্যা আছে। ১২ই নভেম্বর থেকে গতকাল পর্যন্ত এই ১৬টি শয্যার সবক’টিতেই রোগী ভর্তি। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের ১০টি আইসিইউ শয্যার সবক’টিতে গত এক মাসের বেশি সময় ধরে রোগীর চাপ কমছে না। সবক’টি শয্যায় রোগী ভর্তি। মুগদা জেনারেল হাসপাতালের ১৪টি আইসিইউ শয্যাতে গত দশ দিনের মধ্যে ১০ ও ১৪ই নভেম্বর দুইদিনে মাত্র তিনটি শয্যা খালি ছিল। এর বাইরে গতকাল পর্যন্ত হাসপাতালটিতে কোনো আইসিইউ শয্যা খালি ছিল না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬টি আইসিইউ শয্যার সবক’টিতে গতকাল পর্যন্ত রোগী ভর্তি ছিল। সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের ৬টি আইসিইউ শয্যার একটিও খালি নাই। বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের ১২টি আইসিইউ শয্যার সবক’টিতে দীর্ঘদিন ধরে রোগী ভর্তি। বেসরকারি হাসপাতাল ইবনে সিনাতে ৬টি আইসিইউ শয্যা আছে। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে হাসপাতালটিতে আইসিইউ’র কোনো শয্যা খালি পাওয়া যাচ্ছে না।
এই হাসপাতালের বাইরে গতকাল পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৪টি আইসিইউ শয্যার ২০টিতে রোগী ভর্তি ছিল। এই হাসপাতালে চারটি আইসিইউ শয্যা খালি আছে। রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালের ১৫টি শয্যার মধ্যে ১০টিতে রোগী ভর্তি। খালি আছে ৫টি।  বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০টি আইসিইউ শয্যার ৬টিতে রোগী আছে। খালি আছে ৪টি শয্যা। ইউনাইটেড হাসপাতালের ২২টি শয্যার ১৫টিতে, ইবনে সিনা হাসপাতালের ৬টি শয্যার ৫টিতে, এভার কেয়ার হাসপাতালের ২০টি শয্যার ১৮টিতে রোগী ভর্তি আছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম মানবজমিনকে বলেন, আগে আইসিইউ শয্যা অনেক কম ছিল। এখন অনেক শয্যা বাড়ানো হয়েছে। পরিপূর্ণভাবে আইসিইউ ব্যবস্থাপনা করতে যেরকম দক্ষ জনবল দরকার সেটি আমাদের নাই। যন্ত্রপাতির সংকট একসময় ছিল এখন সেটি নাই। এখন শুধু দক্ষ জনবলের দরকার। ৪০০ ভেন্টিলেটর আছে কিন্তু পরিচালনা করার লোক নাই। অনভিজ্ঞ লোক দিয়ে এটি পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
ওদিকে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে সাধারণ করোনা রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। এতে করে খালি শয্যার সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। গতকাল ১৬ই নভেম্বর ঢাকার ১৯টি করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের ৩ হাজার ৫১৯টি সাধারণ করোনা শয্যাতে রোগী ছিল ১ হাজার ৯৩৯ জন। শয্যা খালি ছিল ১ হাজার ৫৮০টি। ১৫ই নভেম্বর সমান সংখ্যক শয্যায় রোগী ভর্তি ছিল ১ হাজার ৮৭০ জন। শয্যা খালি ছিল ১ হাজার ৬৪৯টি। ১৪ই নভেম্বর রোগী ভর্তি ছিল ১ হাজার ৮৬৩ জন। শয্যা খালি ছিল ১ হাজার ৬৫৬টি। আর ১৩ই নভেম্বর ভর্তি রোগী ছিল ১ হাজার ৮৩০ জন। শয্যা খালি ছিল ১ হাজার ৬৮৯টি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: