আজ জেলহত্যা দিবস

18

আজ জেলহত্যা দিবস জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যসহ হত্যার পর দ্বিতীয় বর্বরোচিত হত্যাকা- ঘটে এ দিনটিতে। মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম কা-ারি ও চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এএইচএম কামারুজ্জামান এবং ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীকে এই দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর চার জাতীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করে কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

জাতি আজ মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতাকে যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের ইতিহাসের এ কালো অধ্যায়টি স্মরণ করবে। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠনের উদ্যোগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সারাদেশে পালিত হবে শোকাবহ দিনটি।আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আজ সূর্য উদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের সর্বত্র দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত করা, কালো পতাকা উত্তোলন এবং কালো ব্যাজ ধারণ। সকাল সাড়ে ৮টায় ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ এবং সকাল ৯টায় বনানী কবরস্থানে শহীদ ৩ নেতার কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত। রাজশাহীতে শহীদ কামারুজ্জামানের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাতের কর্মসূচি রয়েছে। জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে বেলা ১১টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ফাউন্ডেশন থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও মনসুর আলীর নাতি শেহরিন সেলিম রিপন। বাদ মাগরিব সোবহানবাগ জামে মসজিদের বিপরীতে ডেন্টাল কলেজ মাঠে জাতীয় চার নেতা স্মরণে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। প্রয়াত নেতা মোহাম্মদ নাসিমের পরিবারের পক্ষ থেকে এই আয়োজন করেছেন তার বড় ছেলে তানভীর শাকিল জয়। জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে

গতকাল মঙ্গলবার বিকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট সমাবেশ, আলোচনাসভা ও প্রদীপ প্রজ্বালন করে। এতে জোটের কার্যকরী সভাপতি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠশিল্পী রফিকুল আলম সভাপতিত্ব করেন। জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুন সরকার রানার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জোটের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারিন জাহান, লায়ন মিজানুর রহমান, সুজন হালদার, প্রণিল সামসাদ জাদিদ ও শিরিন শীলা।

জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পরদিন তৎকালীন ডিআইজি প্রিজন কাজী আবদুল আউয়াল লালবাগ থানায় একটি মামলা করেন। ২৩ বছর পর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় ১৯৯৮ সালের ১৫ অক্টোবর অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মতিউর রহমান রায় ঘোষণা করেন। রায়ে রিসালদার মোসলেম উদ্দিন (পলাতক), দফাদার মারফত আলী শাহ (পলাতক) ও এল ডি (দফাদার) আবুল হাসেম মৃধাকে (পলাতক) মৃত্যুদ- দেওয়া হয়। এছাড়া বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত চার আসামি সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিন আহমেদসহ ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেওয়া হয়। সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা কেএম ওবায়দুর রহমান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, নুরুল ইসলাম মঞ্জুর ও তাহেরউদ্দিন ঠাকুরকে খালাস দেওয়া হয়।