Home / আর্ন্তজাতিক / আজ বৃটেন ও তুরস্ক বাণিজ্য চুক্তি

আজ বৃটেন ও তুরস্ক বাণিজ্য চুক্তি

একটি ফ্রি বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করতে চলেছে বৃটেন এবং তুরস্ক আজ মঙ্গলবার । প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ইইউ’র সাথে ব্রেক্সিট পরবর্তী বাণিজ্য চুক্তি সারার পর এটা হচ্ছে বৃটেনের প্রথম কোন বাণিজ্য চুক্তি। জাপান, কানাডা, সুইজারল্যান্ড ও নরওয়ের পর তুরস্কের সঙ্গেই হবে বৃটেনের সবচেয়ে বেশি বাণিজ্যিক লেনদেন।

তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর ঘোষণা করেছেন, তুরস্ক ও বৃটেন মঙ্গলবার ল্যান্ডমার্ক বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে চলেছে। প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেছেন, এই নতুন বাণিজ্য চুক্তি উভয় দেশের জন্য ২০২১ সালে নতুন যুগের সূচনা হবে।
লন্ডন-আঙ্কারার মধ্যে নতুন ব্যবসায়ীক সম্পর্ক নিয়ে বৃটেনের ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেক্রেটারি লিজ ট্রাস বেশ আশাবাদী। রোববার লিজ বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে নতুন সম্পর্ক শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের পরিধি বাড়াবে। এতে বৃটেনের তৈরি গাড়ি ও ইস্পাত শিল্পে হাজার হাজার চাকরির নিশ্চয়তা তৈরি হবে।
সুত্র মতে, এই চুক্তিটি বৃটিশ এবং তুরস্কের পণ্যগুলি শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের বিষয়ে বিদ্যমান বাণিজ্য শর্তগুলির প্রতিলিপি তৈরির চেষ্টা করেছে। ইইউ’র সাথে শুল্ক ইউনিয়নের অধীনে যে সব কৃষি পণ্য তুরস্ক উপভোগ করে তার অগ্রাধিকার যোগ্য শুল্ককে ছাড়িয়ে নিতেও বৃটেন রাজি হয়েছে।
গত বছর লন্ডন-আঙ্কারার মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৯ বিলিয়ন পাউন্ড। আগামী দিনে বিপুল পরিমাণ ব্যবসার পরিধি বাড়ছে।

তবে বিদ্যমান বাণিজ্যিক শর্তগুলোই থাকছে নতুন চুক্তিতে। আজকের চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা হয়তো একটি ভিডিও কলের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

তুর্কি প্রস্তুতকারক আর্সিলিকের প্রধান নির্বাহী হাকান বুলগুরুলু বলেছেন, বৃটেন হল তুরস্কের গৃহজাত যন্ত্রপাতিগুলির বৃহত্তম রপ্তানি বাজার। আমরা তুরস্ক এবং বৃটেনের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে স্বাগত জানাই।
তুর্কি  সাদা পণ্য, গাড়ি এবং টেক্সটাইলের ব্যবসায়ীরা বৃটেনের সাথে বাণিজ্য বৃদ্ধিকে আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন।  বৃটেন হবে তুরস্কের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজার। তবে ইইউ’র সাথে আঙ্কারার বাণিজ্যিক শুল্ক সম্পৃক্ততার ফলে ব্রেক্সিট সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তুরস্কের মুক্ত বাণিজ্য চালু করা যাবে না।
আঙ্কারা কয়েক বছর ধরে ইইউ’র সাথে তার শুল্ক চুক্তিতে একই ধরণের আপগ্রেড চেয়েছিল কিন্তু রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান এবং ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় প্রক্রিয়াটি স্থবির হয়েছে। তবে সুত্র মতে, তুরস্কের সাথে বৃটেনের পক্ষে ‘বাস্তববাদী’ দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করা সহজ হবে এবং একটি আপগ্রেড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হবে দু’দেশেরই ‘জয়’।
তুর্কি বাণিজ্যমন্ত্রী রুহসার পেককান নিশ্চিত করেছেন, দু’দেশের মধ্যে একটি খসড়া চুক্তি ‘স্বাক্ষর করার জন্য প্রস্তুত’ এবং আঙ্কারা কীভাবে প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়ন করতে পারে সে বিষয়ে সফল আলোচনা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: