আন্দোলন করুক, কাউকে যেন গ্রেপ্তার করা না হয় : প্রধানমন্ত্রী

13

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমা মাত্রই বাংলাদেশে সমন্বয় করা হবে বলে জানিয়েছেন। গতকাল সকালে গণভবনে আট বিভাগে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাপী চলমান মন্দার উল্লেখ করে বলেছেন, এ নিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশে বিরোধীদের আন্দোলন হতে পারে, কিন্তু বাড়াবাড়ি দেশের ক্ষতির পাশাপাশি মানুষের কষ্ট বাড়াবে, যেটি তাদেরও বোঝা উচিত। তিনি বলেন, অপজিশনসহ নানাজনে নানা কথা বলবে। এর সুযোগ নেয়ারও চেষ্টা করবে। কিন্তু তারা যদি এসব বেশি করতে যায় তাহলে এর প্রভাবেই তো মানুষের কষ্ট আরো বাড়বে। এটাও তাদের বোঝা উচিত।

তিনি বলেন, তারা আন্দোলন (বিএনপি) করে কতটুকু সফল হবে জানি না। কিন্তু তারা যেভাবে করতে চাচ্ছে তাতে দেশের জন্য আরো ক্ষতি হবে। কিন্তু সেটা আমরা সামাল দিতে পারব, সেই বিশ্বাস আমার আছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের বিরোধী দল একটা সুযোগ পাচ্ছে, তারা আন্দোলন করবে, করুক। আমি আজকেও নির্দেশ দিয়েছি খবরদার যারা আন্দোলন করছে তাদের কাউকে যেন গ্রেপ্তার করা না হয় বা ডিস্টার্ব করা না হয়। তারা প্রধানমন্ত্রীর অফিসও ঘেরাও দেবে, আমি বলেছি হ্যাঁ আসতে দেব। কেননা আমরা যে আন্তরিকতার সঙ্গে চেষ্টা করছি দেশের কাজ করতে দেশের মানুষতো সেটা জানে। খবর বিডিনিউজ ও বাসসের।

জ্বালানি তেলের মূল্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যখনই বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমবে আমরা সাথে সাথে এডজাস্ট (সমন্বয়) করব। সেটাও আমার নির্দেশ রয়ে গেছে। সেটা আমরা করে দিচ্ছি। বিদ্যুতের ব্যবহার সীমিত করার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর হয়ত কিছুকাল আমাদের কষ্ট করতে হবে। আমাদের বিশেষ করে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সেগুলো যখন এসে যাবে তখন আমাদের বিদ্যুতের সমস্যাটা অনেকটা দূর হবে।

আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে যে সমস্ত ওয়াদা করেছিল সেগুলো সম্পন্ন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যদি এই করোনা, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ আর এই স্যাংশন-পাল্টা স্যাংশন না হত তাহলে আমাদের দেশ কখনই সমস্যায় পড়ত না। আমরা এগিয়ে যেতে পারতাম। এর কারণ তুলে ধরে তিনি বলেন, যে বিষয়গুলোয় বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর সেখানে সমস্যাটা দেখা দিচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে তিনি সবাইকে যার যতটুকু জমি আছে তা ফসল উৎপাদনসহ কৃষিভিত্তিক কার্যক্রমে লাগাতে আহ্বান জানান।

রাশিয়াকে ‘শায়েস্তা’ করতে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রতিটি মহাদেশের মানুষকেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সব জিনিসের উপর এর একটা প্রভাব পড়েছে।

পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দেশের কিছু ‘অতিমুনাফা লোভী’ মানুষ জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের কিছু লোক তো থাকে প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে খামোখা জিনিসের দাম বাড়িয়ে দেয়। এই ছুঁতা ধরে। সেটাও হচ্ছে কিছু কিছু। এত দাম তো বাড়ার কথা না প্রত্যেক জিনিসের, কিন্তু দাম বাড়াচ্ছে।
সভায় বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন সংগ্রামের কথা তুলে ধরে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাকেসহ পরিবারের অধিকাংশ সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করার কথাও তুলে ধরেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।