Home / স্বাস্থ্য / ‘আমার করোনা না-ডাক্তার বলেছে , এ জন্য বাড়ি চলে এসেছি’

‘আমার করোনা না-ডাক্তার বলেছে , এ জন্য বাড়ি চলে এসেছি’

এখন বাসায় চলে যাও। ডাক্তারের এই কথায় বাড়ি চলে এসেছি। ‘আমার হাতে একটা টোকা (প্রেসক্রিপশন) দিছে। বলেছে, এই ওষুধ খাও। আমি তো ভালো। কোনো রোগ নাই।’- সিলেট শহরতলীর রঙ্গীটিলার করোনা আক্রান্ত প্রসূতি শুক্রবার বিকেলে এ কথা জানান। তার স্বামী সুমন মিয়াও দাবি করেছেন- ‘আমার স্ত্রীর কোনো রোগ নেই। অযথা করোনা হয়েছে বলে মান সম্মান নষ্ট করে দিয়েছে।’ সিলেটের রঙ্গীটিলা।

এয়ারপোর্টের টিক পেছনের এলাকা। রঙ্গীটিলার সুমন মিয়া পেশায় ট্রাকের হেল্পার। এক বছর আগে বিয়ে করেছেন খাগাইলের ওই মেয়েকে। বিয়ের কিছু দিন পর সন্তান সম্ভাবা হন তিনি। রোববার রাতে তার প্রসব ব্যাথা উঠে। স্বামী সুমন মিয়া তাকে নিয়ে ছুটে যান ওসমানী হাসপাতালে। সেখানে গাইনী ওয়ার্ডে ভর্তি করেন স্ত্রীকে। বুধবার সকালে হাসপাতালে স্ত্রী জন্ম দেন সন্তান। জন্মের পর থেকে সন্তানের অবস্থা তেমন ভালো না। এ কারনে তাকে নেওয়া হয় ‘স্পেশাল চাইল্ড কেয়ার ইউনিটে’। সেখানে একদিন থাকার পর বৃহস্পতিবার সকালে মারা যায় ওই শিশু। ওসমানী হাসপাতালের গাইনী ওয়ার্ডের ডাক্তাররা বিকেলে সুমনের স্ত্রীকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দিয়ে দেন। এরপর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে তারা নিজের গ্রাম রঙ্গীটিলায় চলে যান। এদিকে- সন্তান জন্ম দেওয়ার আগে করোনা টেস্ট পরীক্ষার জন্য নমুনা নেওয়া হয় সুমনের স্ত্রীর। বৃহস্পতিবার রাতে রিপোর্টে আসে স্ত্রীর করোনা পজেটিভ। এরপর হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে জানান- করোনা টেস্টের রিপোর্ট আসার আগেই বিকেলে ওই মহিলা ছাড়পত্র না নিয়েই পালিয়ে গেছেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তোলপাড় শুরু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মহিলার স্বামী সুমনের মোবাইল নম্বরে ফোন দেওয়া হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে করোনা পজেটিভ আসা ওই মহিলাকে নিয়ে টেনশন শুরু হয়। এদিকে- স্থানীয় লোকদের মারফতে শুক্রবার দুপুরে রঙ্গীটিলায় মহিলার খোজ পায় এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ। স্বাস্থ্য বিভাগকে অবগত করলে দুপুরে এম্বুলেন্স গিয়ে ওই মহিলাকে নিয়ে আসে আইলোশেন সেন্টার শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা তার প্রাথমিক পরীক্ষা করেন। অবস্থা ভালো দেখে ওই মহিলাকে বাড়িতে গিয়ে আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ সময় বাড়িতে খাওয়ার জন্য কিছু ওষধের নাম লিখে প্রেসক্রিশনও দেওয়া হয়। জানিয়ে দেওয়া হয়- শাররীক অবস্থার অবনতি হলে খবর দিতে। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে সঙ্গে থাকা স্বামীর সঙ্গে বাড়ির পথে রওয়ানা দেন করোনা আক্রান্ত ওই মহিলা। তাদের সঙ্গে টাকা ছিলো না। ফলে তারা বেকায়দায় পড়েন। ফোন দেন বাড়িতে। বিকাশে টাকা আনেন সুমন মিয়া। এরপর স্ত্রীকে নিয়ে শামসুদ্দিন হাসপাতাল থেকে হেটে হেটে চলে যান চৌহাট্রা এলাকায়। সেখানে তারা কিছু সময় অবস্থানের পর একটি সিএনজি অটোরিক্সা রিজার্ভ করে বাড়ি যান। সুমন ও তার করোনা আক্রান্ত স্ত্রী বাড়ি আসার খবরে গ্রামের মানুষ ছুটে যান তার বাড়িতে। এ সময় প্রতিবেশীর কাছে সুমন মিয়া জানান- ‘তার স্ত্রীর কোনো রোগ নেই। হাসপাতালের ডাক্তারের বলেছেন- সে ভালো আছে। অথচ তার স্ত্রীকে করোনা আক্রান্ত বলে প্রচার করে তার মান সম্মান নষ্ট করা হয়েছে।’ সুমনের করোনা আক্রান্ত স্ত্রী জানিয়েছেন- ‘দুপুরে একটি এম্বুলেন্সে করে তাকে নিয়ে আসা হয় শামসুদ্দিন হাসপাতালে। সেখানে একটি তাপমাপার মেশিন দিয়ে তার জ¦র পরীক্ষা হয়। এরপর এক ডাক্তার জানান- উনি তো ভালো। কেন উনাকে হাসপাতালে আনছেন। পরে তিনি টোকা (প্রেসক্রিপশন) লিখে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। ডাক্তার বলেছে- আমার করোনা না, এ জন্য বাড়ি চলে এসেছি’। সুমনের স্ত্রী জানান- তিনি করোনা আক্রান্ত না হওয়ার কারনেই তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আসার সময় তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। পরে সাধারন যাত্রীর মতো তারা সিএনজি অটোরিক্সা রিজার্ভ করে বাড়ি চলে এসেছেন। বাড়িতে আগের মতই সবার সঙ্গে মিলেমিশে রয়েছেন। রঙ্গীটিলার স্থানীয় সমাজকর্মী শিবলী বেগম মানবজমিনকে জানিয়েছেন- সুমনের বিয়ে হয়েছে এক বছর। এর মধ্যে স্ত্রীর করোনা রোগ ধরা পড়ার খবরে সুমন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছেন। এখন হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে বলছে- স্ত্রী করোনা আক্রান্ত নয়। এ কারনে সবার সঙ্গে মিলেমিশেই বসবাস করছে তার সুমন ও তার স্ত্রী। আর প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার বাড়ি কিংবা এলাকে লকডাউনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন শিবলী। এ ব্যাপারে বিকেলে সিলেটের করোনা আইসোলেশন সেন্টার শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুশান্ত কুমার মহাপাত্র মানবজমিনকে জানিয়েছেন- ‘ওই মহিলা করোনা পজেটিভ। সুতরাং শাররীক অবস্থা ভালো থাকায় আমরা তাকে বাড়িতে আইসোলেশনে পাঠিয়ে দিয়েছি। বলে দেওয়া হয়েছে সে একা এক ঘরে থাকবে। কারো সঙ্গে মিশবে না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: