Home / আর্ন্তজাতিক / আমি এক মুহূর্তের জন্য দম নিলাম নিঃশব্দে

আমি এক মুহূর্তের জন্য দম নিলাম নিঃশব্দে

আমি জানতাম এ কাজের যোগ্যতা আমার রয়েছে এবং বিশ্বাস ছিল আমি অতীতের চেয়ে ভালো কিছু করতে পারবো আমার নির্বাচনে লড়ার কারণ ছিল । একই সঙ্গে আমি জানতাম আমার নিজের অভিজ্ঞতার চেয়ে বড় কিছুর প্রতিনিধিত্ব করছি। সেই সময়ে একই সঙ্গে কৃষ্ণাঙ্গ এবং আমার মতো ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল না যারা ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি হতে পেরেছেন। অবস্থা এখনো পরিবর্তন হয়নি। ২০১৫ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, দেশের ৯৫ ভাগ নির্বাচিত প্রসিকিউটর ছিলেন শ্বেতাঙ্গ এবং এর মধ্যে ৭৯ ভাগই পুরুষ। ওই এক দশকের অভিজ্ঞতায় তার দৃষ্টিভঙ্গি অনেক বেশি পরিণত হয়েছে। আমি এর উভয়দিকই জানতাম। বিচার ব্যবস্থাটি কি ছিল, কি ছিল না এবং এটি কি হতে পারতো- সবই আমি জানতাম।

আদালত কক্ষ ন্যায়বিচারের কেন্দ্র হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এটা প্রায়ই অবিচারের বড় কেন্দ্র হয়ে দেখা দিয়েছিল। আমি জানতাম উভয় সত্যই।

আমি আদালত কক্ষে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি সন্ত্রাসের শিকার যারা তারাই বহু বছর পর অপরাধী হয়ে ফিরে আসে। আমি এমন বাচ্চাদের নিয়েও কাজ করেছি যারা এমন সন্ত্রস্ত পরিবেশে বড় হয়েছে তারা যে ট্রমায় ভুগে সেটি ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের মতোই উচ্চ হারে। আমি এমন আশ্রয়স্থলের বাচ্চাদের সঙ্গেও কাজ করেছি যারা তাদের আশ্রয়স্থল ৬ বারের মতো পরিবর্তন করেছে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই। আমি দেখেছি, তারা এক পরিস্থিতি থেকে অন্য পরিস্থিতিতে পালিয়ে বেড়িয়েছে শুধুমাত্র নিয়মের বেড়াজালে আটক থাকায়, নিজেকে মুক্ত করার চিন্তা ছাড়াই। আমি এমন বাচ্চাও দেখেছি যাদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছিল বিবর্ণ ভবিষ্যতের জন্য। এটা করা হয়েছিল কেবলমাত্র তাদের জন্মস্থান ও বেড়ে ওঠার স্থানের জন্য। ডেপুটি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি হিসেবে আমার কাজ ছিল আইনভঙ্গকারীদের জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসা। কিন্তু আইনভঙ্গকারীরা যে বিপথে তাদের এই পরিণতির জন্য আমাদের প্রচলিত ব্যবস্থাই কি দায়ী নয়? এই ব্যবস্থা এবং ব্যাপকহারে কারাবন্দি করায় ইতিমধ্যে যে সুবিধা বঞ্চিত সম্প্রদায় ছিল তা আরো বিপর্যস্ত হলো। বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র অধিক মানুষকে কারাবন্দি করে। সকলেই বলেছিল, এই রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় কারাগারে একুশ লাখেরও বেশি মানুষ কারাবন্দি ছিল। আমেরিকায় অন্তত ১৫টি রাজ্য আছে যার জনসংখ্যাও এর চেয়ে কম।

আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি মাদকবিরোধী লড়াই চলাকালে এতো মানুষকে আটক করা হয়েছে যে, অপরাধীদের লাইনকে মনে হতো অ্যাসেম্বলির মতো। আমার কর্মজীবনের শুরুর দিকে আমাকে নিয়োজিত করা হয়েছিল অ্যালামিদা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিসের একটি অংশে যা ব্রিজ নামে পরিচিত। যেখানে ছোট ছোট অফিসের আইনজীবীরাও শ’য়ের মতো মাদক মামলা নিয়ে কাজ করতেন। সেখানে কিছু বাজে মানুষ ছিল নিশ্চিত করে বলতে গেলে তারা নিরপরাধ শিশুদের কাছে মাদক বিক্রি করতো বা তাদেরকে দিয়ে মাদক বিক্রি করানো হতো।
একজন ব্যক্তির কাছে সামান্য পরিমাণ কোকেন থাকার কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। একজন নারী গ্রেপ্তার হয়েছিল সন্দেহভাজন ভাবে লুকিয়ে থাকার কারণে।

যত সহজে এই মামলাগুলো হয়েছে তত সহজে এগুলো প্রমাণ করা যায়নি। রাস্তা পরিষ্কার করতে গিয়ে আমরা জনস্বাস্থ্যের বিষয়কেও অপরাধের আওতায় নিয়ে এসেছি। আমাদের নিয়ম বা পদ্ধতির চিকিৎসা এবং প্রতিরোধ না হওয়ায় তা মরণ-ঘাতকের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এটি শহরের পর শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মেও।

যখন তরুণ প্রসিকিউটর ছিলাম তখন একা অফিসে বসে একটি ঘটনার কথা মনে করেছিলাম, কথাগুলো শুনেছিলাম হলওয়েতে আমার সহকর্মীদের কাছ থেকে।
‘আমরা কি তাকে কোনো গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত করতে পারি? একজন জিজ্ঞাসা করলো।
‘আমরা কি তাকে দেখাবো সে গ্যাংয়ে ছিল’ আরেকজন বললো।
‘এখানে আসো। দেখো, তিনি তোমাকে কি বলছেন। সে কোন্‌ দিক থেকে তোমাকে দেখছে। আমার লোকেরা এই র‌্যাপারের একটি ক্যাসেট পেয়েছে তার নাম কি?
আমি হলওয়ে দিয়ে যাওয়ার সময় থামলাম, ‘তোমরা কেমন আছো? তোমাদের সঙ্গে পরিচিত হলাম। আমার প্রতিবেশীর পরিচিত পরিবার। আমার বন্ধু ছিল যে একইরকমের পোশাক পরতো। এবং আমার গাড়িতেও এই মুহূর্তে এমন একটি টেপ রয়েছে।

তাদের মধ্যে আমাকে দেখতে পেলাম, আমি কেন এখানে কাজ করছি, আমি তাদেরকে সহযোগিতা করতে এসেছি। বিচার করা এবং বিচার চাওয়ার মধ্যে সামান্যই পার্থক্য তা চিহ্নিত করাই কাজ। সবশেষে আমি তাদের বলি, আমি ভিকটিমের জন্যই এই অফিসে এসেছি। যারা সন্ত্রাসের শিকার এবং যারা এই ভঙ্গুর বিচার ব্যবস্থার শিকার উভয়ই এই ভিকটিম। একজন প্রগতিশীল বিচারক হিসেবে আমাকে দু’টি দিক নিয়েই কাজ করতে হচ্ছে। আমাকে বুঝতে হতো যখন একটি মানুষ আরেকটি মানুষের জীবন কেড়ে নেয়, একটি শিশুকে নির্যাতন করে কিংবা একজন নারীকে ধর্ষণ করে অপরাধীকে ক্ষেত্রবিশেষে বিভিন্ন ধরনের সাজা দেয়া যেতে পারে। বিচারের এটি একটি ধরন। তবে এটিও বুঝতে হবে বিচার ব্যবস্থায় ন্যায্যতার নিশ্চয়তা দিতে হবে। প্রগতিশীল প্রসিকিউটির হিসেবে অপরাধের কারণটিও দেখতে হয়, যাদের কথা কেউ শুনে না তাদের পক্ষে কথা বলতে হয়, অপরাধের কারণ দেখতে হয় এবং চিহ্নিত করতে হয়। শুধু পরিণতি নয় এবং যেই বৈষম্যে ও অন্যায্যতার কারণে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তার ওপরও আলোকপাত করতে হয়।

এটি বুঝতে হবে যে, সকল অপরাধীর শাস্তির দরকার নেই। কারও কারও সাহায্যেরও দরকার রয়েছে।
এমন সময় দরজায় কড়া পড়লো, এটা ছিল ডেবি।
‘তুমি কি তৈরি’। সে হেসে জিজ্ঞেস করলো। আমি বললাম, আমি এক সেকেন্ডের মধ্যে আসছি।
আমি নিঃশব্দে এক মুহূর্তের জন্য দম নিলাম। তারপর আমি আমার ব্রিফকেস থেকে কলম এবং হলুদ নোটপ্যাড নিলাম এবং তালিকা প্রস্তুত করতে শুরু করলাম।
কমালা হ্যারিসের অটোবায়োগ্রাফি
‘দ্য ট্রুথ উই হোল্ড’ বই থেকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: