ইরান নিষেধাজ্ঞার ক্ষতিপূরণ চাইবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে

47

যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেয়া একতরফা নিষেধাজ্ঞার কারণে তাদের অর্থনীতিতে যে এক ট্রিলিয়ন সমমূল্যের ক্ষতি হয়েছে;ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেছেন,তার জন্য তেহরান ওয়াশিংটনের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইবে। খবর আল জাজিরার।

রবিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রেস টিভিতে এক ঘন্টাব্যাপী এক সাক্ষাতকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর বিশ্বশক্তির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তিতে ফেরার পর তেহরান ক্ষতি পূরণের বিষয়ে আলোচনা করবে। আলোচনার সময় আমরা ক্ষতিপূরণের বিষয়টি তুলব। সেটা হতে পারে সরাসরি ক্ষতিপূরণ কিংবা বিনিয়োগের মাধ্যমে অথবা ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের মতো ভবিষ্যতে যেন আর না ঘটে সে জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ।’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালে ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি প্রত্যাহার করেন। উপরন্তু তিনি ইরানের অর্থনীতির সকল সেক্টরের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।

জাভেদ জারিফের তথ্যানুসারে, ইরানের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্প পরমাণু চুক্তির পূর্বেকার ৮০০ নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি নতুন করে আরও ৮০০ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে ফিরতে হলে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে ব্যর্থ হলে ইরান পরমাণু কর্মসূচি বাড়াতে শুরু করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন জাভেদ জারিফ। তিনি বলেন, ‘আইন অনুসরণ করেই ইরান পরমাণু কর্মসূচি বৃদ্ধি করবে। কিন্তু তার জন্য পরমাণু চুক্তি যেটা জয়েন্ট কম্প্রিহেন্সিভ প্লান অব অ্যাকশন নামে পরিচিত ইরান সেটা থেকে বের হবে না।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কোনো হুমকি নয়। আমরা শুধুমাত্র প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছি। ইরান জোরপূর্বক পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে চায় না বরং বিশ্বের সঙ্গে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক চায়। এসময় তিনি বলেন, মহামারির সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে খাদ্য, ওষুধ, ভ্যাকসিন কিনতে না দিয়ে মাস্তানি করেছে।

ইন্টারন্যাশনাল মনিটরি ফান্ড থেকে ইরানের পাঁচ বিলয়ন ঋণের অনুরোধ যুক্তরাষ্ট্র ব্লক করেছে অভিযোগ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেন,যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়াকে ইরানের বিলিয়ন ডলার ফেরত দিতে দেয়নি। তবে ইরান এখন শুধু তেলের ওপর নির্ভরশীল নয়। যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে না ফিরলেও ইরান চলতে পারবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তিতে ফিরবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে বাইডেন প্রশাসন ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ রাখার নীতি অব্যাহত রেখেছে।