উদ্ধার সাতশ একর ভূমি

9

অবৈধ বসতি উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকায় । এ সময় আলীনগর থেকে ১৭৫টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৭০০ একর পাহাড়ি জমি। গতকাল দুপুরে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান। জঙ্গল সলিমপুর মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নে অভিযানটি পরিচালিত হয়।

এদিকে অভিযান শেষে ফেরার পথে অভিযান পরিচালনাকারী টিম বাধার মুখে পড়ে। উক্ত এলাকায় বসবাসকারীরা মানব ঢাল হয়ে বাধা দিয়েছেন। এতে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টরা এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আটকে থাকেন। বাধা প্রদানকারীদের বক্তব্য ছিল, প্রশাসন কোনো রকম নোটিশ ছাড়াই তাদের স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করেছে। পরে অবস্থান নেয়া লোকজনের যৌক্তিক দাবি-দাওয়া মেনে নেয়ার আশ্বাস দিলে তারা সরে যায়।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, উচ্ছেদের সময় আলীনগরে সরকারি জমিতে ইয়াসিনের নির্মিত অফিস, ঘর ও তার বিশেষ টর্চার সেল গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। পাশাপাশি মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের আওতায় প্রস্তাবিত স্থাপনার সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়। এখানে বিভাগীয় পাহাড় ব্যবস্থাপনা অফিস, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার, স্পোর্টস ভিলেজ, সাফারি ও ইকোপার্ক, র‌্যাব ও পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্পের সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়।

অভিযানে জেলা প্রশাসকের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক, পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মফিদুল আলম, উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আল মামুন, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক বদিউল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাজমুল আহসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মাসুদ কামাল, সীতাকুণ্ডের ইউএনও মো. শাহাদাত হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশরাফুল আলম, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. তৌহিদুল ইসলাম, সীতাকুণ্ড সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল করিম, অফিসার্স ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদসহ ৭০ জন পুলিশ, ৪০ জন র‌্যাব ও ৬০ জন আনসার সদস্য।

পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল আলম বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের বিশাল সরকারি খাস জমি ঘিরে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের পাশাপাশি বিনোদনমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। পরিকল্পিতভাবে সাজানো হবে পুরো এলাকাকে। আমরা জেলা পুলিশ সরকারের এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে যাব। তিনি বলেন, বর্তমানে নিরাপত্তা চৌকিতে ৮ জন সদস্য আছে। এর বাইরে এখানে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প ও একটি র‌্যাবের ক্যাম্পের জন্য জায়গা নির্ধারণ করেছি। জেলা প্রশাসন চূড়ান্তভাবে জায়গা দিলে আমরা এক সপ্তাহের মধ্যে পুলিশ ক্যাম্প বিশালাকারে স্থাপন করব।

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মফিদুল আলম বলেন, জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর খুবই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। এ এলাকায় ৩০ শতাংশ পাহাড় কেটে ফেলা হয়েছে। এটি রক্ষা করতে হবে। এজন্যই সেখানে অভিযান পরিচালনা করা। আগেও একবার এ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। তখন ৩শর বেশি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোমিনুর রহমান বলেন, সরকার সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তারই অংশ হিসেবে আজকের এ উচ্ছেদ অভিযান। আগামী এক মাসের মধ্যে সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। কাউকে পাহাড় কাটতে দেওয়া হবে না। সরকারি জায়গায় একটি পরিকল্পিত নগরী হবে। আর যারা অবৈধভাবে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছে তাদেরও পরিকল্পনা অনুযায়ী স্থানান্তর করা হবে।