এক দিন আগেই বসন্তবিলাস ফাগুন বিভ্রান্তি

34

দেশে গত বছর পর্যন্ত ১৩ ফেব্রুয়ারি পয়লা ফাল্গুন উদযাপিত হয়েছে। কিন্তু এরপর বাংলা ক্যালেন্ডারে একটু পরিবর্তন আসায় এবার থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি বসন্ত মাস ফাল্গুনের শুরু। বিষয়টি অনেকের জানা না থাকায় তারা এক দিন আগেই আজ শনিবার বসন্তবরণ করেছেন। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তাই দেখা গেছে বাসন্তি রঙা পোশাকে তরুণ-তরুণীদের ঘুরে বেড়াতে। ফুলের দোকানে ছিল বসন্ত সাজের ফুল-মালা আর মাথায় পরা ফুলের রিংয়ের বিপুল চাহিদা।

আজ অনেকের বসন্তবরণের আরও এক কারণ ছুটির দিন। পহেলা ফাল্গুন রবিবার কর্মদিবস। শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি কাটিয়ে রবিবার ছুটি জুটবে না। তাই এক দিন আগেই পহেলা ফাল্গুন উদযাপন করে বসন্তবিলাস করে নিযেছেন অনেকে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হলুদ শাড়ি, খোঁপায় গাঁদা ফুল আর মাথায় ফুলের রিং পরে ঘুরে বেড়িয়েছেন মেয়েরা। পুরুষদের অনেকের পরনে ছিল হলুদ পাঞ্জাবি।

রাজধানীর রমনা এলাকায় হলুদ পাঞ্জাবি পরা মুকুল মুর্শেদের কাছে এক দিন আগে ফাল্গুন পালনের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম আজই পহেলা ফাল্গুন। পরে দেখলাম, না। পহেলা ফাল্গুন কাল।’

মুকুলের পাশাপাশি ঋয়াদ রহমানও একই তথ্য জানতেন। তিনি বলেন, ‘আমি তো জানি ভালোবাসা দিবসের আগের দিন পহেলা ফাল্গুন। এটা যে আবার চেঞ্জ হয়েছে, তা তো জানি না।

ধানমন্ডির বেঙ্গল বইয়ে ফাল্গুন পালন করতে দেখা গেছে সোয়েব হোসেন ও সেহরীন জাহান দম্পতিকে। সেহরীন বলেন, ‘আজ ছুটির দিন পেয়েছি। তাই আগেই উদযাপন করে নিচ্ছি। রবিবার তো প্রিয় মানুষটির ছুটি নেই।

নীলাঞ্জন কুণ্ড দম্পতি হলুদ পোশাকে ঘুরে বেড়িয়েছেন নগরির বিভিন্ন জায়গায়। এ দম্পতির কাছে এক দিন আগে পহেলা ফাল্গুন পালন করার কারণ জানতে চাইলে নীলাঞ্জন বলেন, ‘আমরা দুজনই চাকরিজীবী। কাল ডিউটি আছে। আজ ছুটির দিন। যেহেতু কাল সুযোগ নেই, তাই একদিন আগেই আমরা দিনটি পালন করে নিলাম।’

পঞ্জিকা পরিবর্তনের কারণে পাশ্চাত্য ঢঙের ভালোবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইন ডে ও পহেলা ফাল্গুন একই দিনে পড়েছে। একই দিনে দুটি উপলক্ষ। দুই উপলক্ষ ঘিরেই রয়েছে ফুলের চাহিদা। চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দাম। সব মিলিয়ে রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা ফুলের দোকানে ব্যস্ততা চরমে।

দুটি বিশেষ দিন সামনে রেখে করোনার ভয় কাটিয়ে ঘর ছেড়ে বেড়িয়েছে মানুষ। ভালোবাসা দিবস ও ফাল্গুন বরণ করে নিতে ফুলের দোকানে আগেভাগেই ভিড় করেছে নগরবাসী।

শাহবাগের ফুলের দোকানগুলো থরে থরে সাজানো হয়েছে নানান রকম ফুলের সাজি। বানানো হচ্ছে মেয়েদের মাথায় পড়ার ফুলের রিংসহ হাত ও গলার হার। সবমিলিয়ে ফুলের ঘাটতি নেই দোকানে।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর আগের সময়ের চাইতে চাহিদা অনেকটাই কম, তাই দামও কম।

শাহবাগের অরকিড ফ্লাওয়ার শপের মালিক মমিন হোসেন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘ফাল্গুন আর ভালবাসা দিবস একই দিনে পড়ছে। এই সময় দাম একটু বেশিই থাকে। গত দুই দিন আগে ফুলের দাম বাড়ছে। গত ফাল্গুনের পর তো করোনা আসলো। সেই থেকে ব্যবসার অবস্থা খারাপ। ’

তুলিকা নামের অপর একটি ফুলের দোকানের মালিক মো. জসিম ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘মাঠ থেকে পাইকাররা ফুল এনে আমাদের দিয়ে যায়। মাঠে যদি দাম বাড়ে তাহলে আমাদের এখানেও দাম বাড়বে। তবে এখন পর্যন্ত যে অবস্থা তাতে দাম খুব একটা বাড়ার সম্ভাবনা নাই।

এদিকে ফাল্গুন, ভালোবাসা দিবসসহ বিভিন্ন বিশেষ দিন সামনে রেখে নগরীর বিভিন্ন স্থানে দেখা মেলে মৌসুমি ফুল ব্যবসায়ীদের। যারা শাহবাগ থেকে পাইকারি দরে ফুল নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় খুচরা বিক্রি করেন। এবার সেই মৌসুমি ব্যবসায়ীদেরও দেখা নেই বলে জানিয়েছেন মো. জসিম।

এসব দোকানে প্রতিটি গোলাপ বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়, ক্যালেনডোলা ফুল ১০ থেকে ১৫ টাকা। আবার ক্ষণে ক্ষণে দাম বাড়ছে। যদিও পাইকারি দরে ফুলের দাম অনেকটা কম। গোলাপের শ বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকায়। এছাড়া গাঁদা ফুলের মালা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। জারবেরা ২০ থেকে ২৫ টাকা পিস।

শাহবাগের ফুটপাতে বসে একদল নারীকে দেখা গেছে ফুল দিয়ে মাথায় পরার রিংসহ ফুলের বিভিন্ন উপহার তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। চাহিদা বেশি হওয়ায় তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন পুরুষরাও। দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে তারা বিভিন্ন ফুলের দোকানের হয়ে এই কাজ করেন।

ফাল্গুনসহ উৎসবাদিতে মেয়েদের মাথায় পরা ফুলের রিংয়ের চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশি। সচরাচর ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এসব রিং।