এখনো ঘটনার বিচারই শুরু হলো না।‘আসামিরা যেন জামিন না পায়।  এরমধ্যে আসামিরা জামিন নিতে চেষ্টা চালাচ্ছে।’ গতকাল সিলেটের আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম। জানান- ‘সকালেই খবর পেয়েছি আসামিরা জামিন চাইতে পারে। এ কারণে আদালতে ছুটে এসেছি। রায়হানের জন্য আইনি লড়াই চালিয়ে যাবো। বাধা এলেও পিছু হটবো না।’ ১১ই অক্টোবর রাতে সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে খুন করা হয় নগরীর নেহারী পাড়ার যুবক রায়হানকে। কী কারণে রায়হানকে ধরে নিয়ে আসা হয়েছিল বিষয়টি এখনো অজানা।

এ ঘটনায় বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক ইনচার্জ বরখাস্ত হওয়া এস আই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ ৪ পুলিশ সদস্যকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা খুনের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে। আলোচিত এ মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের কাছে তদন্তাধীন রয়েছে। এই অবস্থায় গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশ কনস্টেবল হারুনুর রশীদের পক্ষ থেকে গতকাল মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিনের আবেদন করা হয়। এ খবর শুনে বাড়ি থেকে আদালতে ছুটে আসেন রায়হানের মা সালমা। সঙ্গে আসেন স্বজনরা। মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিন শুনানি শুরু হলে রায়হানের মায়ের পক্ষ থেকে আইনজীবীরা আদালতে আপত্তি জানান। আইনজীবীরা জানিয়েছেন- শুনানির পর আদালত আসামি কনস্টেবল হারুনুর রশীদের জামিন আবেদন নাকোচ করে দিয়েছেন। এরপর আদালত প্রাঙ্গণের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রায়হানের মা সালমা বেগম। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন- ‘আমি আমার ছেলেকে হারিয়ে আজ পথে। কিন্তু পুলিশ কনস্টেবল সজিব ও কনস্টেবল হারুন গোপনে আদালতে জামিন নিতে চাচ্ছে। বিষয়টি আমি জানার পর পরই আদালতে ছুটে আসি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। আমার দাবি একটাই আমার ছেলে হত্যার বিচার। আমি আদালতের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাই আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদেরকে  যেন জামিন না দেয়া হয়। যদি তাদের জামিন দেয়া হয় তাহলে আমার ছেলের আত্মা কষ্ট পাবে। আমি ন্যায়বিচার চাই।’ এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে তার সঙ্গে স্বজনরাও উপস্থিত ছিলেন। গত  সোমবার রায়হান হত্যার তিনমাস পূর্ণ হয়েছে। প্রথম দফা ময়নাতদন্তের পর হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগ ওঠায় পরে ১৫ই অক্টোবর কবর থেকে রায়হানের লাশ উত্তোলন করে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়। নির্যাতনে রায়হানের হাতের দু’টি আঙ্গুলের নখ তুলে ফেলে দারোগা আকবর। রাতভর নির্যাতনে রায়হানের শরীরে ময়নাতদন্তে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এরমধ্যে ১৪টি আঘাত ছিল গুরুতর। নির্যাতনের সময় রায়হানের আর্তচিৎকারে ফাঁড়ির পার্শ্ববর্তী কুদরত উল্লা রেস্ট হাউজের বর্ডারদের ঘুম ভেঙে যায়। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতকদের গ্রেপ্তার দাবিতে দলমত নির্বিশেষে সিলেটবাসী আন্দোলনে নামেন। সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন, মিছিল-সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। বৃহত্তর আখালিয়াবাসী ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলেন। এখনো রায়হানের জন্য আহাজারি করছেন মা-সহ স্বজনরা। এদিকে- ঘটনার পর পরই ভারতে পালিয়ে গিয়েছিল বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ আকবর হোসেন ভূঁইয়া। ঘটনার এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগে সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদউদ্দিনের পরিকল্পনায় কানাইঘাট সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আকবরকে। গ্রেপ্তারের পর আকবর বলেছিল- এক সিনিয়র কর্মকর্তার নির্দেশে সে দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল। এর আগে এএসআই আশেক এলাহীসহ আরো তিন পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে গতকাল জামিনের আবেদন করা কনস্টেবল হারুনও রয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা বর্তমানে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে।
Share Now
September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930