এখন ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬ দেশে জনসংখ্যা

6

এখন ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬ দেশে জনসংখ্যা । এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৮ কোটি ১৭ লাখ ১২ হাজার ৮২৪ জন এবং নারীর সংখ্যা ৮ কোটি ৩৩ লাখ ৪৭ হাজার ২০৬ জন। মোট জনগোষ্ঠীর মধ্যে গ্রামে বাস করেন ১১ কোটি ৬৩ হাজার ৫৯৭ জন ও শহরে বাস করেন ৫ কোটি ৯ হাজার ৭২ জন। চট্টগ্রামে বাস করছেন ৩ কোটি ৩২ লাখ। গতকাল বুধবার ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রথম ডিজিটাল জনশুমারি ও গৃহগণনার এই প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এর আগে ২০১১ সালের আদমশুমারির হিসেবে দেশের জনসংখ্যা ছিলো ১৪ কোটি ৪০ লাখ ৪৩ হাজার ৬৯৭ জন। এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ছিলো নারীর চেয়ে বেশি। তখন পুরুষের সংখ্যা ছিলো ৭ কোটি ২১ লাখ ৯ হাজার ৭৯৬ জন আর নারী ছিলো ৭ কোটি ১৯ লাখ ৩৩ হাজার ৯০১ জন। অর্থাৎ গত দশ বছরে দেশে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। অন্যদিকে জনসংখ্যা বেড়েছে দুই কোটি ১১ লাখ।
বৃদ্ধির হার বেশি ঢাকায়, কম বরিশালে : এবার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে আর কম বরিশাল বিভাগে। ঢাকা বিভাগে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ। বরিশাল বিভাগে দশমিক ৭৯ শতাংশ। প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভাগভিত্তিক জনসংখ্যার বার্ষিক গড় বৃদ্ধির হার অনুযায়ী দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম। এ বিভাগে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। রংপুর বিভাগে দশমিক ৯৮ শতাংশ, সিলেট বিভাগে দশমিক ৯৬ শতাংশ, খুলনা বিভাগে দশমিক ৯৩ শতাংশ, রাজশাহী বিভাগে দশমিক ৮৬ শতাংশ। আর সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে দশমিক ৭৯ শতাংশ।
কমেছে হিন্দু জনগোষ্ঠী : এবারের জনশুমারির প্রাথমিক প্রতিবেদনে প্রকাশ করা তথ্য অনুযায়ী দেশে ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যার ক্ষেত্রে মুসলিম সংখ্যা বেড়ে ৯১ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে যা ২০১১ সালে ছিলো ৯০ দশমিক ৩৯ শতাংশ। আবার হিন্দু জনগোষ্ঠী ২০১১ সালের ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ থেকে কমে ২০২২ সালের জনশুমারিতে ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ। সামান্য করে কমেছে বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের হারও।
সাক্ষরতায় এগিয়ে পুরুষ : দেশের জনসংখ্যা অনুপাতে মোট সাক্ষরতার হার ৭৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এতে নারীদের তুলনায় এগিয়েছে পুরুষ। পুরুষের সাক্ষরতার হার ৭৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ, নারীদের ৭২ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৫৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
বাসগৃহের সংখ্যা সাড়ে ৩ কোটির বেশি : দেশে সাড়ে তিন কোটির বেশি বাসগৃহ রয়েছে। এর মধ্যে পল্লি এলাকায় ২ কোটি ৭৮ লাখ ১১ হাজার ৬৬৭ ও শহর এলাকায় ৮১ লাখ ৭৯ হাজার ২৮৪টি। সর্বাধিক বাসগৃহের সংখ্যা ঢাকা বিভাগে, ৮১ লাখ ১৯ হাজার ২০৫টি। সর্বনিম্ন সিলেট বিভাগে ১৮ লাখ ৮৫ হাজার ১৭টি। এছাড়া চট্টগ্রামে ৬৪ লাখ ৫০ হাজার ১৩৩টির মধ্যে পল্লিতে ৪৭ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫৫টি, শহরে ১৬ লাখ ৫১ হাজার ৩৭৮টি।
ভাসমান জনসংখ্যা ২২ হাজার : বর্তমানে দেশে মোট ভাসমান জনসংখ্যা ২২ হাজার ১১৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৬ হাজার ৭৮৪ জন এবং নারীর সংখ্যা ৫ হাজার ৩৩৫ জন। বিবিএসের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ভাসমান জনসংখ্যা ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ৪৩৯ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে সর্বনিম্ন ৬৯২ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৫ হাজার ২১৬ জন, বরিশালে ২ হাজার ১৭৭ জন, খুলনায় ১ হাজার ৩২৫ জন, রাজশাহীতে ১ হাজার ৩০৩ জন, রংপুরে ১ হাজার ৭৪ জন এবং সিলেট বিভাগে ৮৯৩ জন ভাসমান লোকের বসবাস।
বস্তিতে বাস করে ১৮ লাখ মানুষ : দেশে বস্তিবাসীর সংখ্যা ১৮ লাখ ৪৮৬ জন। বস্তিবাসীর খানার (একই পাতিলে রান্না করা খাবার খান যারা) সংখ্যা ৫ লাখ ৭ হাজার ৪৮৬ জন।
প্রতিবন্ধীদের অর্ধেকের বেশি পুরুষ : দেশে মোট প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ২৩ লাখ ৬১ হাজার ৬০৪ জন। যা মোট জনসংখ্যার ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এর মধ্যে ১৩ লাখ ৩৪ হাজার ১০৫ জন পুরুষ আর ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৯৯ জন নারী। মোট প্রতিবন্ধী জনসংখ্যার ১ দশমিক ৬৩ শতাংশ পুরুষ আর ১ দশমিক ২৩ শতাংশ নারী। প্রতিবেদনে জানানো হয়, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা, খুলনা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর, সিলেটে প্রতিবন্ধীর হার যথাক্রমে ১ দশমিক ৬১ শতাংশ, ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ, ১ দশমিক ০৮, ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ, ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ, ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ, ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ ও ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
এবারই প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ : ১৯৭৪ সালে প্রথমবারের মতো জনশুমারি (আদমশুমারি) হয় বাংলাদেশে। এরপর ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১, ২০১১ ও ২০২২ সাল মিলে মোট ৬ বার জনশুমারি হয়। তবে এবারই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে সে তালিকায় রাষ্ট্রীয়ভাবে স্থান পেল তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের মোট জনসংখ্যার ১২ হাজার ৬২৯ জন তৃতীয় লিঙ্গের। এলাকাভিত্তিক বিবেচনায় ৪ হাজার ৫৭৭ জনই বাস করেন ঢাকা বিভাগে। সবচেয়ে কম ৮৪০ জনের বাস সিলেটে। অন্য বিভাগের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৫৬৩ জন, চট্টগ্রামে ২ হাজার ২৬, খুলনায় ১ হাজার ১৪৮, ময়মনসিংহে ৯৭২, রাজশাহীতে ১ হাজার ৫৭৪ আর রংপুরে ৯২৯ জন বসবাস করেন।
পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ : চলতি বছরের জনশুমারির প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানেই অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছেন জনসংখ্যা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম। তিনি বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা বেশি। মূলত মেয়েদের জীবনের আয়ুষ্কাল বেশি হওয়া এবং অভিবাসনকেই তিনি নারীর সংখ্যা বেশি হওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ মনে করেন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেবেই বাংলাদেশে নারীদের গড় আয়ু ৭৪.২ বছর। আর পুরুষদের ৭১.১ বছর। আবার জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) এর ‘বিশ্ব জনসংখ্যা পরিস্থিতি ২০২১’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছিলো যে, বাংলাদেশে নারীদের গড় আয়ু ৭৫ বছর, যেখানে পুরুষদের গড় আয়ু ৭১ বছর। অর্থাৎ বাংলাদেশে নারীদের গড় আয়ু পুরুষদের তুলনায় ৩-৪ বছর বেশি।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম বলেন, দেশে নারীর সংখ্যা বেশির আরেকটি কারণ হতে পারে অভিবাসন। দেশ থেকে এক কোটিরও বেশি মানুষ বিদেশে গেছে। এর মধ্যে দৃশ্যত পুরুষের সংখ্যাই অনেক বেশি। সেটিও জনশুমারির তথ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।