ব্রেকিং নিউজ
Home / এনজিও / এনজিওগুলো সীমিত আকারে হলেও কার্যক্রমে যেতে চায়

এনজিওগুলো সীমিত আকারে হলেও কার্যক্রমে যেতে চায়

বাংলাদেশে বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে । স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের অর্থনীতি। প্রবাসীদের উপার্জিত আয় (রেমিট্যান্স) তেমন আসছে না। রপ্তানি আয়ও কমেছে। একইসঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতিও থমকে গেছে। গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি চায় এনজিওগুলো।

পল্লী-কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জসীম উদ্দিনজানান, এনজিও কার্যক্রম শুধু ক্ষুদ্র ঋণে অর্থাৎ কিস্তি আদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সমৃদ্ধির কাজ করে। উদ্যোক্তা তৈরি থেকে শুরু করে একজন ভিক্ষুককেও স্বচ্ছভাবে বাঁচার পথ দেখায়।

তিনি বলেন, পিকেএসএফ এর অর্থায়নে সমৃদ্ধি কার্যক্রমের আওতায় দেশের ২০২টি ইউনিয়নের আড়াই হাজার স্বাস্থ্য কর্মী দেশে পায় ৬০ লাখ দরিদ্র মানুষকে স্বাস্থ্য সহায়তা দিচ্ছে। একজন কর্মী মাসে পাঁচশত পরিবারের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এসব স্বাস্থ্য পরিদর্শকরা পেপসার, ডায়বেটিক, গর্ভবর্তী মায়ের দেখাশুনা, ব্লাড গ্রুপ নির্ণয় ইত্যাদি করে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে এই কাজগুলো করোনা সংকটের কারণে একবোরেই থমকে গেছে।

জসীম উদ্দিন আরো বলেন, পিকেএসএফের সহযোগি সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে ৩০ কোটি টাকা ত্রাণ বিতরণ করেছে। এটি চলমান রয়েছে। এরমধ্যে নগদ ১২ কোটি টাকা এবং বাকি অর্থ খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী। এটি স্থানীয় জেলা প্রসাশন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও হাসপাতালের সহয়াতায় এনজিওগুলো করেছে।

তিনি বলেন, এনজিওগুলোর উদ্বৃত্ত থেকে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ জনকল্যানে ব্যয় করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া সারা দেশে প্রায় সাড়ে সাত হাজার বৈকালিক স্কুল রয়েছে। এসব স্কুলে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়। এছাড়া পিকেএসএফের সহযোগি প্রতিষ্ঠানগুলো ১ কোটি ৪০ লাখ পরিবারকে ঋণসহ অনান্য সেবা দিয়ে থাকে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান ঢাকা টাইমসকে জানান, ‘সবকিছু যেহেতু সীমিত আকারে খোলা, সেহেতু এনজিও খুলে দেয়া উচিত। সেক্ষেত্রে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি জোর দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে নতুন করে এ ভাইরাস যেন সংক্রমিত না হয়।’

করোনার কারণে যেসব এলাকা রেড জোন ঘোষিত সেসব এলাকায় এনজিও খোলার দরকার নেই উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই গভর্নর বলেন, ‘সরকার যেহেতু সীমিত আকারে দোকানপাট খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেহেতু ক্ষুদ্র ঋণের কার্যক্রমের প্রয়োজন দেখা দিবে। বিশেষ করে যারা সঞ্চয় জমা করেছে তারা এসময় উত্তোলন করতে চাইবে।’

‘এমতাবস্থায় এনজিওগুলো অনলাইনে সেবা দিতে পারে। কারণ এখন প্রত্যেকেরই প্রায় মোবাইল ব্যাংক হিসাব রয়েছে। গ্রাহক টাকা চাইলে তাদেরকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে দেয়া যেতে পারে। আর উঠোন বৈঠক করতে হলে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।’

এনজিওগুলো জানায়, সীমিত আকারে এনজিও খোলার অনুমতি দিলে কর্মীরা স্থানীয় প্রসাশনকে সহায়তা করতে পারে। এছাড়া করোনা সংকটের মধ্যে অসুস্থ রোগীকে হাতপাতালে পৌঁছে দিতে পারে। তাছাড়া এনজিওগুলো গরিব মানুষকে নিয়ে কাজ করে। তাই সীমিত আকারে হলেও তারা গরিব মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায়। অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্থানীয় প্রসাশনকে সহায়তা করছে। মাইকিং বা বাড়ি বাড়ি গিয়ে করোনার সচেতনা করা ইত্যাদি করছে।

এনজিও সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, গ্রাম অর্থনীতি স্বচল রাখতে এনজিওগুলো প্রতিবছর ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করে থাকে। এর মধ্যে ৯০ হাজার কোটি টাকা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কাছে থাকে। কিন্তু বর্তমানে দোকানপাট বন্ধ থাকা, বৈশাখী উৎসব না হওয়া এবং রোজার মধ্যেও ব্যবসা করতে না পারায় এ টাকাগুলো স্থির হয়ে আছে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্র (বিআইডিএস) এর সিনিয়র ফলো ড. নাজনীন আহমেদ ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘অর্থনীতির কথা চিন্তা করলে এমুহুর্তে সবকিছু খুলে দেয়া দরকার। কিন্তু আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। তাই স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা ভেবে অন্তত চলতি মে মাস পর্যাবেক্ষণ করা উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে স্বাস্থ্য খাতের যে এনজিওগুলো আছে তার মধ্যে বেশকিছু এনজিও স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। বাকিরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে কথা বলে কাজ শুরু করতে পারে। আর ক্ষুদ্র ঋণভিত্তিক এনজিওগুলোর বিষয়ে মে মাসের পরে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: