Home / খবর / করোনায় আক্রান্ত ২৬৫ নার্স ৫৫ হাসপাতালে

করোনায় আক্রান্ত ২৬৫ নার্স ৫৫ হাসপাতালে

বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা করোনার প্রকোপ দেশে যত বাড়ছে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে । নানাশ্রেণি পেশার মানুষ আক্রান্ত হলেও ক্রমেই চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের সংখ্যা বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে। মার্চের ২১ তারিখ থেকে এ পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি ৫৫টি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ২৬৫জন নার্স করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

এদের মধ্যে ৩০ জনের মতো বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাকিরা বাসায় থেকে চিকিৎসা করাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে চারজন সুস্থ হয়ে উঠেছেন বলে জানা গেছে।

‘সোসাইটি ফর নার্সেস সেফটি অ্যান্ড রাইটস’ (এসএনএসআর) নামের একটি সংগঠনের পরিসংখ্যানে এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শাব্বির মাহমুদ তিহান বলেন,‘আমাদের সহকর্মীরা অনেক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। এখন পর্যন্ত ২৬৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন সারাদেশে।’

সংগঠনটি সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মেডিকেলসহ দেশের ৩৭টি সরকারি হাসপাতালে ১৬৬ জন ও বেসরকারি ১৮টি হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৯৯ জন নার্স। মোট আক্রান্তের মধ্যে ঢাকা বিভাগের সর্বোচ্চ ২২৫ জন। বরিশালে চারজন, সিলেটে দুইজন, ময়মনসিংহে ২৩ জন, রংপুরে তিনজন, খুলনায় ছয়জন ও রাজশাহীতে দুইজন রয়েছেন। আক্রান্ত নার্সদের মধ্যে তিনজন সন্তান সম্ভবাও রয়েছেন।

এসএনএসআর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪২ জন, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১২ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাতজন, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে একজন, কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে তিনজন, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চারজন, ঢাকা শিশু হাসপাতালের একজন নার্স করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

ঢাকার বাইরে যেসব সরকারি হাসপাতালের নার্স করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নয়জন, ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল, নারায়ণগঞ্জের একজন, গাজীপুর কাপাসিয়া ইউনিয়ন হেলথ সেন্টারে সাতজন, গাজীপুরের কালিয়াকৈর ইউনিয়ন হেলথ সেন্টারের একজন, গাজীপুরের কালিগঞ্জ ইউনিয়ন হেলথ সেন্টারের সাতজন, নরসিংদী ১০০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আটজন, নরসিংদীর বেলাবো ইউনিয়ন হেলথ সেন্টারে চারজন, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ ইউনিয়ন হেলথ সেন্টারে একজন, কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে একজন, ভৈরব ইউনিয়ন হেলথ সেন্টারে ১০ জন, কিশোরগঞ্জ তাড়াইল ইউনিয়ন হেলথ সেন্টারে চারজন, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী ইউনিয়ন হেলথ সেন্টারে একজন, কিশোরগঞ্জের মিঠামইন ইউনিয়ন হেলথ সেন্টারে একজন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৩ জন, নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি ইউনিয়ন হেলথ সেন্টারে দুইজন, ময়মনসিংহ মুক্তাগাছা ইউনিয়ন হেলথ সেন্টারে একজন, গফরগাঁও ইউনিয়ন হেলথ সেন্টারে তিনজন, জামালপুর সদর হাসপাতালে একজন, জামালপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে দুইজন, জামালপুর বকশীগঞ্জ ইউনিয়ন হেলথ সেন্টারে একজন, শেরপুর সদর হাসপাতালে একজন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনজন, রাজশাহীর নওগাঁর রাণীনগর ইউনিয়ন হেলথ সেন্টারে একজন, পাবনা সদর হাসপাতালে একজন, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল দুইজন, মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে চারজন, শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন, বরিশাল বাবুগঞ্জের ইউনিয়ন হেলথ সেন্টারে তিনজন, হবিগঞ্জের লাখাই ইউনিয়ন হেলথ সেন্টারে একজন ও মাদবপুর ইউনিয়ন হেলথ সেন্টারে একজন।

বেসরকারি ১৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রাজধানীতেই ১৭টি। এর মধ্যে আজগর আলী হাসপাতালে ২৫ জন, পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে ১৫ জন, বারডেম হাসপাতালে ১৬ জন, ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে ছয়জন, এভার কেয়ার এপোলো হাসপাতালে একজন, ইউনাইটেড হাসপাতালে ছয়জন, ধানমন্ডির পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুইজন, আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুইজন, ইনসাফ বারাকাহ হাসপাতালে ছয়জন, মিরপুরের ডেল্টা হাসপাতালে একজন, ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন, ইবনে সিনা হাসপাতালে দুইজন, ইম্পালস হাসপাতাল দুইজন, ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন, আইসিডিডিআরবি একজন, বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল দুইজন ও গ্রীন লাইফ হাসপাতালের দুইজন নার্স করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

এছাড়া ঢাকার বাইরে একমাত্র বেসরকারি হাসপাতাল গাজীপুর কে পিজি হাসপাতালে আটজন নার্স করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

এই অবস্থায় সরকারের কাছে সব ধরণের হাসপাতালে দায়িত্বরত নার্সদের যথাযথ ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবারহের দাবি জানিয়েছে নার্সদের জন্য কাজ করা এই সংগঠন।

সংগঠনটির সম্পাদক শাব্বির মাহমুদ বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে ধরণের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম সুপারিশ করেছে, করোনা এবং সাধারণ রোগীদের যেখানেই চিকিৎসা হচ্ছে সেখানকার নার্সদের এটা দিতে হবে। কারণ সবাই ঝুঁকিতে আছে। একইসঙ্গে সুরক্ষা সরঞ্জাম যথাযথভাবে যাতে সবাই ব্যবহার করতে পারেন, সেজন্য যেভাবেই হোক নার্সদের প্রশিক্ষণও দিতে হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: