Home / ফিচার / করোনাকাল ও যৌক্তিক ধর্ম পালন

করোনাকাল ও যৌক্তিক ধর্ম পালন

মূলত সমস্যা হল আমরা ধর্মের অস্তিত্ব ও ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব বলতে বুঝি ও খুঁজি অলৌকিক কর্মকান্ড৷ ধর্মীয় বিধান, ধর্মীয় বই, ধর্মীয় গ্রন্থে স্রষ্টার ধারণা, ধর্মের উৎপত্তি এগুলো কতটা যৌক্তিক, বাস্তবিক ও বৈজ্ঞানিকভাবে সত্য তার চেয়ে আমাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল ধর্মে কতটা অলৌকিকত্ব আছে ৷

যেমন- হয়তো যুদ্ধের মুখোমুখি হতে হবে, কিন্তু যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি না নিয়ে উল্টো যুদ্ধক্ষেত্রে যেন যেতে না হয় তাই আমরা আশায় থাকি ও দোয়া করি আল্লাহ ফেরেশতা পাঠাবেন৷ ফেরেশতারা এসে জালিমদের ধ্বংস করবে ৷

অর্থাৎ অলৌকিকভাবে ফেরেশতা পাঠানো হলেই মনে হয় ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ হবে৷ আরেকটা উদাহরণ – আমি পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করতে চাই কিন্তু ভালো রেজাল্টের জন্য আমি প্রস্তুতি নিতে চাই না, কিন্তু যেহেতু পর্যাপ্ত প্রস্তুতি বা কষ্ট-পরিশ্রম ছাড়া ভালো

রেজাল্ট করতে হবে এর জন্য নামাজ রোজা ইত্যাদি করি ৷ ধর্মের ব্যাপারে আমাদের অধিকাংশই এই অযৌক্তিক ধারণায় বিশ্বাসী ৷ বর্তমানে মুসলিমদের বলা হচ্ছে যে কোন জমায়েত থেকে তারা যেন দূরে থাকে ৷ তাদের বলা হল বাসায় ইবাদত করুন ৷

এটা হল বৈজ্ঞানিক ও যৌক্তিক বক্তব্য এবং আমার ধর্মটাও মহামারি চলাকালীন সময়ে সেই একই যৌক্তিক ও বৈজ্ঞানিক বক্তব্য দিচ্ছে কিনা আমরা সেটা জানতে আগ্রহী নই ৷ বরং আমাদের ধারণা যেহেতু ইবাদত সওয়াবের কাজ অতএব পূর্বের ন্যায় জমায়েত করে ইবাদত করলে আল্লাহ খুশি হবেন ও আমাদের রক্ষা করবেন ৷

অর্থাৎ সেই অলৌকিকত্ব খোঁজা ৷ অথচ ইসলাম বলছে মহামারি চলাকালীন সময়ে সংস্পর্শ এড়িয়ে চল ৷ মহামারিতে আক্রান্ত এলাকাতে প্রবেশ করো না এবং মহামারিতে আক্রান্ত এলাকার মানুষও যেন অন্য এলাকায় না যায় ৷ প্রয়োজনে ঘরে ইবাদত কর ৷

এই বক্তব্যগুলো কতটা যৌক্তিক, কতটা বৈজ্ঞানিক সেটা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ না ৷ ইসলামের এসকল বক্তব্যও যে বিস্ময়কর হতে পারে এবং ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের ক্ষেত্রে যথেষ্ট হতে পারে সেটা জানতে ও বুঝতে আমরা আগ্রহী নই ৷ আমরা আবেগ তাড়িত হয়ে অযৌক্তিক ও ধর্ম বহির্ভূত কাজ করে আল্লাহর সান্নিধ্য পেতে চাই ৷

লেখক: শিক্ষার্থী, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: