কামাল ইবনে ইউসুফের জানাজায় মানুষের ঢল ফরিদপুরে

42

সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে চিরনিদ্রায় সমাহিত হলে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। শুক্রবার বিকালে ফরিদপুর শহরের কমলাপুর এলাকার ময়েজ মঞ্জিলের পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। এরআগে বাদ জুমা ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজ ময়দানে অনুষ্ঠিত তার জানাজায় রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। মানুষের ঢল রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ছাড়িয়ে পার্শবর্তী ফরিদপুর শেখ জামাল স্টেডিয়াম পর্যন্ত গিয়ে ঠেকে।  ফরিদপুর ছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ জানাজায় অংশ নেন।

উল্লেখ্য, করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত বুধবার দুপুর পৌনে ১টায় রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন কামাল ইবনে ইউসুফ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। এছাড়া তিনি স্ত্রী ও তিন কন্যা সন্তান রেখে যান। বুধবার রাতে গুলশান আজাদ মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের সিনিয়র নেতারা অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার ফরিদপুর পৌরসভা নির্বাচনে তার মেয়ে নায়াব ইউসুফের অংশগ্রহণের কারণে মরদেহ রাজধানীতে হিমঘরে রাখা হয়। এরপর শুক্রবার দুপুরে তার মরদেহ নেয়া হয় ফরিদপুরে। বাদ জুমা শহরের রাজেন্দ্র কলেজ ময়দানে নেয়া হয় কামাল ইবনে ইউসুফের লাশ। এসময় সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বেলা ৩টার দিকে শহরের চকবাজার জামে মসজিদের খতিব ও সামমুল উলুম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি মাওলানা কামরুজ্জামানের ইমামতিতে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। প্রিয় নেতার দাফন কার্যে অংশ নিতে আগত জনতার পদচারণায় সেখানে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। জানাজা শেষে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তাঁর লাশ ময়েজ মঞ্জিলে নেয়া হয়। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয় পিতা চৌধুরী ইউসুফ আলী চৌধুরী মোহন মিয়ার কবরের পাশে। জানাজাপূর্বে সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন পরিবারের পক্ষ হতে মরহুমের জ্যেষ্ঠ মেয়ে চৌধুরী নায়াব ইবনে ইউসুফ, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, শরীয়তপুরের বাহাদুরপুর দরবার শরীফের প্রতিনিধি হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ হানজেলা, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া, এফবিসিসিআই-এর সাবেক সভাপতি শিল্পপতি এ কে আজাদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু, ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দ মোদাররেস আলী ঈসা, অধ্যাপক এবিএম সাত্তার, জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আব্দুত তাওয়াব ও যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সহ-সভাপতি মাহবুবুল হাসান ভুঁইয়া পিংকু।

জানাজার পর রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁর কফিনে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। এসময় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে মোদাররেস আলী ঈসা, জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন, কোতয়ালী থানা বিএনপি, শহর বিএনপি, রাজবাড়ি ও মাদারীপুর জেলা বিএনপি, জেলা যুবদল, মহানগর যুবদল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল, জেলা তাঁতী দল, জেলা ছাত্রদল, মহানগর ছাত্রদল, ফরিদপুর প্রেসক্লাব, চকবাজার বণিক সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পুস্পমাল্য অর্পণ করা হয়।
উল্লেখ্য, কামাল ইউসুফ ফরিদপুর-৩ (সদর) আসন থেকে পাঁচ দফা সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিএনপি সরকার গঠনের প্রতিবারই তিনি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্য মন্ত্রী,  সর্বশেষ ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একটি সমৃদ্ধ বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেন কামাল ইউসুফ। তিনি ফরিদপুর শহরের কমলাপুর মহল্লার ময়েজ মঞ্জিলের সন্তান। তার পিতামহ ছিলেন জমিদার চৌধুরী মঈজউদ্দীন বিশ্বাস। বাবা ইউসুফ আলী চৌধুরী। ইউসুফ আলী চৌধুরীকে কিং মেকার বলা হয়। তাঁর চাচা চৌধুরী আবদুল্লাহ জহিরউদ্দীন লাল মিয়া আইউব সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। আরেক চাচা এনায়েত হোসেন চৌধুরী পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য ছিলেন।