‘কিছু কারসাজি’ চিহ্নিত ডলারের দামে

27

‘কৌশল’ ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার পেছনে আইএমএফের ঋণ চাওয়া প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বললেন‘কিছু কারসাজি’ চিহ্নিত করা হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, এর দাম বাড়িয়ে আমদানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। গতকাল বুধবার সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে এসব অনিয়ম চিহ্নিত করা ও নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। খবর বিডিনিউজের।
কিছুদিন স্থিতিশীল থাকার পর গত সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে ডলারের দাম আবারও বাড়তে শুরু করে। গত মঙ্গলবার এক লাফে ৬ টাকা বেড়ে তা ১১২ টাকা হয়ে যায়। পরদিন বুধবার তা আবার ১০৮ টাকায় নেমে আসে।
ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার কী উদ্যোগ নিচ্ছে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ডলারের দাম কারা বাড়াচ্ছে, কী উদ্দেশ্য আছে আমি জানি না। ইমপোর্ট পর্যায়ে কিছু অব্যবস্থাপনা ছিল। সেগুলো আমরা হাতে নিচ্ছি। দায়িত্ব নিয়েই বলছি যে, যাতে করে এগুলো না ঘটে সেজন্য আমরা টুলসগুলো ব্যবহার করব।
ডলারের দাম নিয়ে কোনো ধরনের কারসাজি হলে সেটা নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যবস্থা নেবে বলে জানান মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, মার্কেট ডিমান্ড অনুযায়ী ডলারের সাপ্লাই দিতে হবে এটা ঠিক আছে। কিন্তু যদি আর্টিফিসিয়াল ওয়েতে যদি কিছু করা হয়, ওই পর্যায়ে যদি নিয়ে যাওয়া হয়, ইন দ্যাট কেস আমরা নিয়ন্ত্রণ করব। সরকারের বিভিন্ন মেশিনারিজ আছে।
আইএমএফের ঋণ চাওয়া প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী : আর্থিক খাতের আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার বিষয়ে দুই রকম কথার ব্যাখ্যা দিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাংলাদেশ যে আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ পাওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছে, তা স্বীকার করে গতকা তিনি বলেছেন, ‘দর কষাকষির সুবিধার জন্য’ তিনি চার দিন আগে সংবাদমাধ্যমকে অন্য কথা বলেছিলেন। আমি যদি আমার চাহিদা এঙপোজ করে দিই, তাহলে আমার ওপর ঋণের বার্ডেন বা কস্ট তারা বেশি নেবে। সেজন্য, ‘নেব, নিচ্ছি, বা প্রয়োজন নেই,’ এই কথাগুলো বলে ম্যানেজ করতে হয়। তাতে করে আমরা লাভবান হই।
চলমান অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে আইএমএফফের কাছ থেকে বাংলাদেশের ঋণ চাওয়ার বিষয়টি বেশ কিছু দিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। গত সপ্তাহে সংস্থাটির একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে এসে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করলে সেই আলোচনা আরও জোর পায়।
তবে গত সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তা নাকচ করে বলেন, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত আইএমএফের কাছে কোনো অর্থ সহায়তা চায়নি। আইএমএফও বাংলাদেশের কাছে এ ধরনের কোনো প্রস্তাব করেনি। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের আইএমএফের কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন নেই।
কিন্তু মঙ্গলবার কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে আইএমএফ এর কাছে বাংলাদেশের ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা চাওয়ার খবর আসে।