কিমের বাহিনী ঠিকই ধরে ফেললো লুকিয়ে পর্নো দেখা ছেলেটিকে , কঠোর শাস্তি দিলো

387

বিশ্বজুড়ে পরিচিত অদ্ভূত সব সিদ্ধান্তের জন্য উত্তর কোরিয়ার স্বৈরচারী শাসক কিম জং উন। বিচিত্র সব কারণে সবসময়ই আলোচনার শীর্ষে থাকেন কিম। এবার তিনি পর্নো মুভির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছেন। উত্তর কোরিয়া সরকার দেশজুড়ে পর্নো মুভির বিরুদ্ধে জোরালো প্রচারণা শুরুও করে দিয়েছে। দেশটির ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টি স্কুলগুলোতে পর্নো মুভির বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক প্রচার শুরু করেছে।

উত্তর কোরিয়ায় অশ্লীল ছবি তৈরিতে জড়িত, বা এটি কেনাবেচার সাথে জড়িতদের এমনকি মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হয়। দেশটির স্বৈরশাসক কিম জং উন মনে করেন যে ‘পর্নো মুভি দেখা’ সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। এই কারণেই পর্নো মুভি দেখে ধরা পড়া এক ছেলেকে কিম জং উন ভয়াবহ এক শাস্তি দিয়েছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার অনলাইন ডেইলি এনকে উত্তর পায়াঅংন প্রদেশের এক সূত্রের বরাতে এ খবর জানিয়েছে।

ডেইলি এনকে (যা সাধারণত উত্তর কোরিয়া সংক্রান্ত সংবাদই প্রচার করে থাকে) এক প্রতিবেদনে জানায়- সিনিউজুর স্কুলে পড়া এক ছেলে তার বাড়িতে পর্নো মুভি দেখার মতো মারাত্মক এক ‘অপরাধ’ করে বসে। রাতে যখন তার বাবা-মা বাড়িতে ছিল না ছেলেটি তখন পর্নো মুভি দেখছিল। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার পুলিশ ঠিকই তার ‘আইপি এড্রেস’ বের করে এবং পর্নো দেখার মুহূর্তে ওই ছেলেটিকে হাতেনাতে ধরে ফেলে।

পর্নো মুভি দেখার শাস্তি হিসাবে ওই ছেলে এবং তার পরিবারের সদস্যদের সমাজ থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং দেশটির সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। ছেলেটির অবশ্য নিজেকে ভাগ্যবানই মনে করতে হবে যে তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়নি।

ছেলেটি যে স্কুলে পড়াশোনা করতো সে স্কুলের অধ্যক্ষকেও রেহাই দেওয়া হয়নি। উত্তর কোরিয়ার আইন অনুসারে, স্কুলের বাচ্চাদের যে কোনও অন্যায়ের জন্য স্কুলের অধ্যক্ষকে দায়ী করা হয়। এক্ষেত্রে বলা হয় যে ওই অধ্যক্ষ যথাযথভাবে তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন এবং তাকে শাস্তি হিসাবে ‘লেবার ক্যাম্প’ এ পাঠানো হয়।

উত্তর কোরিয়া বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি, যেখানে যেকোন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে পুরো দেশকে এক বছরের জন্য লকডাউনের আওতায় রাখা হয়েছিল। যদিও উত্তর কোরিয়া দাবি করছিল যে দেশটিতে করোনা ভাইরাসের কোনও সংক্রমণ ঘটেনি। অবশ্য সারা দুনিয়ার বিশেষজ্ঞরাই বিষয়টি নিয়ে সন্দিহান ছিলেন।

এদিকে, জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর অতি সম্প্রতি প্রথম অস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এর আগে বাইডেনকে কড়া হুমকি দিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং বলেন, ‘আগামী চার বছর যদি ভাল থাকতে চান, তাহলে এমন কিছু করবেন না, যাতে আপনার রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়।’ বাইডেন প্রশাসনের দু’জন প্রভাবশালী কর্মকর্তা দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান সফর করার প্রেক্ষিতেই তিনি ওই হুমকি দেন।