কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ১২ টাকা চাউলের দাম

64

চালের দাম চট্টগ্রামের আড়তে কমেনি । ধানের ভরা মৌসুম এবং চালের পর্যাপ্ত উৎপাদন থাকলেও নগরীর পাহাড়তলী বৃহত্তর চালের আড়তে পূর্বের দামে বিক্রি হচ্ছে চাল।
সেপ্টেম্বর মাসে চালের দাম যেমনটি ছিল চলতি মাসে উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়া স্বত্ত্বেও চালের দামে কোন কমতি দেখা যায়নি।

পাহাড়তলী চালের আড়তের ব্যবসায়ীরা বলছেন, চালের দাম তো কমেনি। তবে যে দুটো চালের জাত (জিরা সিদ্ধ চাল এবং কাটারি আতপ) চাহিদা বেশি এগুলো প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) ১০০ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে।

পূর্বে জিরা সিদ্ধ চাল ছিল বস্তা প্রতি (৫০ কেজি) ২,৬০০ টাকা বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২,৭০০ টাকা। কাটারি আতপ চালের দামও পূর্বের তুলনায় প্রায় ৫০-৬০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।দেশের উত্তরবঙ্গ বিশেষ করে নঁওগা, দিনাজপুর, মোহাদেবপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া ,নাটর এবং নীলফামারী থেকে চাল চট্টগ্রামের পাহাড়তলী বাজারে আসে।

চালগুলোর মধ্যে অন্যতম জাত হলো মোটা সিদ্ধচাউল ,স্বর্ণা সিদ্ধ চাউল,ইন্ডিয়ান সিদ্ধ চাউল,পারিজা সিদ্ধ চাউল,জিরা সিদ্ধ চাউল,পাইজাম সিদ্ধ চাউল, জিরা সিদ্ধ চাউল, পাইজাম সিদ্ধ চাউল, জিরা সিদ্ধ চাউল, বালাম সিদ্ধ চাউল,মিনিকেট সিদ্ধচাউল, বেতী আতপ চাউল, বার্মা আতপ চাউল, মিনিকেট আতপ চাউল,চিনি আতপ চাউল,কাটারী আতপ চাউল ,পারিজা আতপ চাউল,নাজিরা শাইল চাউল ইত্যাদি। আড়ত থেকে নগরীর পাশাপাশি চট্টগ্রামের ১৪ টি উপজেলায় খুচরা বাজারে চাল সরবরাহ করা হয়। তাছাড়া চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের কক্সবাজার ও টেকনাফ জেলায়ও চাল পাঠানো হয়।

পাহাড়তলী চালের আড়তে (৫০ কেজি) প্রতি বস্তা দামের তালিকা : মোটা সিদ্ধ চাল ২,২১০ টাকা, পারিজা সিদ্ধ চাল ২,৫০০ টাকা, পাইজাম সিদ্ধ চাল , ২,৪৫০ টাকা, জিরা সিদ্ধ চাল ২,৬০০-২,৬৮০ টাকা , মিনিকেট সিদ্ধ চাল ২,৪৫০ টাকা, চিনি আতপ চাল ২,৯০০ থেকে ৪,২৫০ টাকা, কাটারী আতপ চাল ২,৬০০ থেকে ২,৬৫০ টাকা, পারিজা আতপ চাল ২,৩৫০ থেকে ২,৪০০ টাকা , নাজির শাইল চাল ২,৭৫০ টাকা।

পাহাড়তলী বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস. এম নিজামউদ্দিন বলেন, উত্তরবঙ্গ থেকে বিগত ২ মাস পূর্বেও ১০০ গাড়ি (১ গাড়িতে ১৩ টন করে) চাল পাহাড়তলী বাজারে আসতো। বর্তমানে আসে মাত্র ৬০ গাড়ি। সারাদেশের রাইস মিলের মালিকরা এবং কিছু সংখ্যক (মধ্যস্বত্তকারী) চাল ব্যবসায়ীরা মিলে সিন্তিকেট করে চাল মজুদ রেখে চালের দাম বাড়িয়ে দেয়। আমরা প্রতি বস্তায় ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি দিয়ে তাদের কাছ থেকে চাল কিনে নিই।

তবে, তারা যে দামে আমাদের কাছে চাল বিক্রি করে আমরা স্বল্প লাভে ক্রেতাদের কাছে চাল বিক্রি করে থাকি। পাহাড়তলী বাজারে মোট ১৫০ টি আড়ত ছিল, বর্তমানে ১০০ টি আছে। প্রায় ৫০ টির দোকান বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পাহাড়তলী ছাড়াও চাক্তাইয়ে চালের আড়ত রয়েছে তবে, বৃহত্তর হলো পাহাড়তলী চালের বাজার। বন্ধ হয়ে যাওয়ার মূল কারণ হলো বৃহৎ চালের পার্টির কাছে তাদের প্রাপ্য টাকা বাকি রয়ে গেছে। পুনরায় টাকা দিয়ে চাল ক্রয় করতে পারছেনা।

সরকার যদি পুনরায় ফুড গ্রেইন লাইসেন্সের কার্যক্রম পুরোদমে চালু করতো তাহলে সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকতো চালের বাজার। রাইসমিলস মালিক এবং মধ্যস্বত্তকারীরা সিন্ডিকেট করে অবাধ বাণিজ্য করতে পারতো না। নগরীর খুচরা চালের দোকানগুলোতে দেখা যায়, যে চালের দাম কেজিতে ৪৫-৪৮ টাকা ছিল বর্তমানে তা ৫৮ থেকে ৬০ টাকা।