খেলার সাথী যখন সাপ!

28

friend1‘আম পাতা জোড়া-জোড়া/মারবো চাবুক চড়বো ঘোড়া/ওরে বুবু সরে দাঁড়া/আসছে আমার পাগলা ঘোড়া/পাগলা ঘোড়া ক্ষেপেছে/চাবুক ছুঁড়ে মেরেছে।‘ শৈশবের একটি কবিতা যা এখনো মনে দাগ কেটে দখল করে বসে আছে মনের কোণে। তবে এটি শুধুই কবিতা। বাস্তব নয়। বাস্তবে কিন্তু ছোট্ট খোকা কখনো ঘোড়ায় চড়তে পারবে না, তাও আবার পাগলা ঘোড়া! আচ্ছা, কবিতাটি যদি এমন হতো- আম পাতা জোড়া জোড়া/আসছে আমার কোবরা জোড়া..? তাহলে কেমন হতো বলুন তো? তাও যদি হতো বাস্তব? চমকে গেলেন তো? খুব স্বাভাবিক, ছোট্ট কোনো খোকা বা খুকি যদি আপনাকে এই কথা বলে তাহলে চমকে যাওয়াটা অস্বাভাবিক হবে না।

তবে এখন নাহয় একটু সেই চমকের স্বাদটাই গ্রহণ করুন। নাম কাজল খান। বয়স সবে মাত্র ৮ বছর। ভারতের উত্তর প্রদেশের ঘাটামপুর গ্রামে পরিবারের সাথে বসবাস। শৈশবে মেয়েরা সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে পুতুল খেলা অথবা বন্ধুদের সাথে খেলাধুলার ব্যাপারটি তো আছেই। তবে কাজলের খেলার সাথী কোনো মানুষ নয়, তার খেলার সাথী হলো ‘সাপ’!

তাও একটা বা দুইটা নয়, ছয়টা। ছোট্ট এই মেয়েটির বসবাস ছয়টা কোবরা সাপের সাথে। কয়েকবার কোবরা সাপগুলোর কামড় খাওয়া সত্ত্বেও এগুলোই এই ৮ বছর বয়সী মেয়েটির প্রিয় বন্ধু।

কাজল তার বাবার মতো সাপুড়ে হতে চায়। সে ৬টি সাপের সাথে থেকেই খাওয়া-দাওয়া করে, ঘুমায় এবং খেলা করে। এমনকি সাপের প্রতি ভালোবাসার টানে সে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়।

কাজল বলে, ‘স্কুলে মানুষের সঙ্গ আমার ভালো লাগতো না তাই আমি স্কুলে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছি।’

vcnmw2চলুন দেখে নিই সাপের তার সখ্যতার কিছু দৃশ্য।

vcnmw3সাপের সাথেই তার খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে ঘুম, খেলাধুলা সবকিছু। প্রিয় বন্ধুর সাথে খেলায় মগ্ন ছোট্ট কাজল।vcnmw4স্থানীয় লোকজন কাজলকে দেখার জন্য জড়ো হয়েছে।কতটা সাহস থাকলে এরকম দুর্লভ বন্ধুত্ব করা যায়! বলাই যায়, দুঃসাহসী মেয়ে কাজল।