Home / আর্ন্তজাতিক / গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় হুমকি চীন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর স্বাধীনতা

গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় হুমকি চীন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর স্বাধীনতা

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা জন র‌্যাটক্লিফ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য চীন সবচেয়ে বড় হুমকি বলে অভিযোগ করেছেন । তিনি ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে তিনি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের গোপনীয় সব জিনিস চুরি করে চীন ক্রমাগত তার ক্ষমতা বৃদ্ধি করছে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের চুরি করা জিনিস দিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাজার ধরছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এর আগে চীনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি চীনা পণ্যের ওপর শুল্কহার বৃদ্ধি করেন। যুক্তরাষ্ট্রের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ বেইজিং চুরি করছে বলে অভিযোগ করেন।

তবে এসব কথা কোনো জবাব দেয়নি চীন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে শুল্কহার বৃদ্ধি করার জবাব দিয়েছে তারা। তারাও শুল্কহার একই রকমভাবে বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে সরিয়ে এনেছে হুয়াওয়ের প্রযুক্তি। দৃশ্যত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঢিলটি মারলে পাটকেলটি খেতে হবে- এমন নীতিতে চলে যায় চীন। র‌্যাটক্লিফ অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বেইজিং। তারা অর্থনৈতিকভাবে, সামরিকভাবে এবং প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে বিশ্বে প্রাধান্য বিস্তার করতে চায়। এখানে উল্লেখ্য, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এবং এফবিআইয়ের প্রধান ক্রিস্টোফার রে’ও একই রকম কথা বলেছিলেন। সেই কথারই যেন প্রতিধ্বনি শোনালেন র‌্যাটক্লিফ।
এখানে আরো উল্লেখ্য, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে চীনের সম্পর্কে উত্তাপ বিরাজ করছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি পোস্ট করেছেন। তাতে দেখানো হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ার একজন সেনা সদস্য আফগানিস্তানের একটি শিশুর গলা কাটছে। একে কম্পিউটারের সাহায্যে বানোয়াট বলে আখ্যায়িত করেছে অস্ট্রেলিয়া। তার এর প্রতিবাদে চীনকে ক্ষমা চাইতে বলেছে। কিন্তু চীন ক্ষমা চাইবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। উল্টো সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে চীন। ক্যানবেরা তার আচরণে পরিবর্তন আনুক এমন একটি তালিকা প্রকাশ করেছে চীন সম্প্রতি। তার মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার মদ আমদানির ওপর শুল্কহার আরোপের বিষয় রয়েছে। বুধবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাাত্র হুয়া চুনিং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন ভাবে চীনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নিষ্পেষণ চালাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আমরা আশা করি যুক্তরাষ্ট্র প্রতিজন মানুষকে গোয়েন্দা হিসেবে দেখা বন্ধ করবে।
এ অবস্থায় র‌্যাটক্লিফ বলেন, অর্থনৈতিক গুপ্তচরবৃত্তিতে নিয়োজিত চীন। তারা এটাকে চুরি করে। তারপর তার নমুনা বানায় এবং পরে তা প্রতিস্থাপন করে। তিনি বলেন, প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের ৫০০০০ কোটি ডলারের ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি চুরি করে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা চুরির দায়ে চীনা নাগরিকদের গ্রেপ্তারও করেছে এফবিআই। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির রসায়ন বিভাগের প্রধানকে এ জন্য মাসে ৫০ হাজার ডলার দিতো চীন। এ বছরের শুরুর দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে পর্যন্ত তাকে ওই পরিমাণ অর্থ দেয়া হতো। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ঝুঁকিপূর্ণ প্রযুক্তি চালু করেছে চীন এমন অভিযোগও করেন র‌্যাটক্লিফ। বলেন, হুয়াওয়ের মতো প্রযুক্তিগত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য শেয়ার করার চেষ্টা করেছে তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: