Home / ভোক্তা অধিকার / গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি মানা হচ্ছে না

গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি মানা হচ্ছে না

বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমশ বেড়েছে। দীর্ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। এতে প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন নাম। এদিকে দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে টানা ৬৬ দিন বন্ধ থাকার পর চালু হয়েছে গণপরিবহন। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা থাকলেও অনেকক্ষেত্রে তা মানছে না কেউ।

ঢিলেঢালাভাবে সোমাবার সকাল থেকে রাজধানীতে চলাচল শুরু করেছে গণপরিবহন। একইসঙ্গে দূরপাল্লার পরিবহনও রাজধানী থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাচ্ছে।

গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে থেকে ঢাকায় আসছে বাস। গাবতলী থেকেও ছেড়ে গেছে দূরপাল্লার বাস। তবে বাস টার্মিনালে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় রয়েছে। টিকেট কাউন্টারগুলোতে মানা হচ্ছে না শারীরিক দূরত্ব। সরকারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে টিকেট বিক্রির কথা থাকলেও বেশি ভাগ ক্ষেত্রে তা কাজে আসছে না। সরকারি নির্দেশনায় বাসে উঠার আগে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিস্কার করার কথা। তবে অনেক বাস কাউন্টারে নামে মাত্র স্যানিটাইজার রাখা হয়েছে। এসব স্যানিটাইজার ব্যবহারে আগ্রহ দেখাচ্ছে না আগত যাত্রীরা। যাত্রী ওঠানোর আগে তার শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করার যন্ত্র নেই অনেক বাসে।

এদিকে, রাজধানী থেকে ছেড়ে যাওয়া দূরপাল্লার পরিবহনগুলোতে এক সিটে যাত্রী, অপরটি ফাঁকা রেখে যাত্রী তোলা হচ্ছে। এসব বাসে লাইন ধরে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে যাত্রী ওঠানো হয়। যাত্রীদের মাস্ক ছাড়া বাসে ওঠতে দেয়া হয়নি। যাদের মাস্ক নেই, তাদেরকে পরিবহন থেকে একটি করে মাস্ক দেয়া হয়েছে। নির্দেশনায় ট্রিপের শুরুতে এবং শেষে বাধ্যতামূলকভাবে গাড়ির অভ্যন্তরভাগসহ পুরো গাড়িতে জীবাণুনাশক স্প্রে করার কথা থাকলেও কোথাও তার বাস্তবায় চোখে পড়েনি। টার্মিনালে বাস আসার সঙ্গে সঙ্গেই ফের নতুন করে যাত্রী তুলে আবার ট্রিপ দিচ্ছে চালকরা। এমনকি নেমে যাওয়া যাত্রীর বসা সিটও পরিস্কার করছে না তারা। এক সিট পরপর যাত্রী বসানো হলেও ওঠা-নামার সময় শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত হচ্ছে না। এমন কি বাসস্ট্যান্ড ছাড়া যেখানে সেখানে যাত্রী উঠা-নামা করাতে দেখা গেছে। ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে বাক-বিতন্ডা জড়াতে দেখা গেছে অনেক বাসশ্রমিককে।

বাসচালক হেমায়তে উদ্দিন জানান, ট্রিপ শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীরা তড়িঘড়ি করে ওঠে যাচ্ছে। এতে আমরা বাস পরিস্কার করার সময় পাচ্ছি না। অনেক দিন পর বাস নিয়ে রাস্তায় নেমেছি। এখন অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাস চালাতে হয়। তারপরও আমারা সবাইকে সর্তক করছি। হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিস্কার করতে বলছি। মাস্ক না পড়লে বাসে ওঠতে দেই না। সব নিয়ম কি আর মেনে চলা সম্ভব।

সাভার থেকে আসা যাত্রী মো. কামাল হোসেন জানান, বাসে এক সিট পরপর যাত্রী বসানো হয়। তবে বাসের সিটগুলো পরিস্কার করা হচ্ছে না। একজন যাত্রী নামানোর পর সেই সিটে নতুন করে আরেকজনকে বসানো হয়। অনেক দিন পর বাস রাস্তায় নেমেছে। আগের ময়লা সিটের বাসগুলো এখনো দেখা যাচ্ছে। এর ফলে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই বিষয়ে সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে।

গাবতরী বাস মালিক শ্রমিক সমিতির এক নেতা জানান, আমরা পর্যাপ্ত চেষ্টা করছি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে। এখানে সবধরনের ব্যবস্থা নেয়া আছে। অনেকদিন পর বাস চলাচল করায় যাত্রীদের ভিড় আছে। তবে কয়েকটি কাউন্টারে শারীরিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। এটা আমাদের নজরে পড়েছে। আমরা তাদেরকে এই বিষয়ে সর্তক করেছি। আশা করি, কয়েক দিনের মধ্যে এইসব নিয়মে আমরা অভ্যস্থ হয়ে যাবো।

বাসস্ট্যান্ডে ডিউটিরত এক সার্জেন্ট জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চলবে বাস। আমরা আগের চেযে কঠোর অবস্থানে আছি। কোনো বাসে যেন বেশি যাত্রী না উঠাতে পারে, সেদিকে আমাদের দৃষ্টি আছে। সরকারের নিয়ম মেনে না চললে আমরা আইনের আওতায় আনবো।

এর আগে গণপরিবহন চালানোর জন্য বেশ কিছু নির্দেশনা দেয় সরকার। গণপরিবহন চালাতে ৬০ ভাগ বর্ধিত ভাড়ার প্রজ্ঞাপনে যে সব শর্তাবলি উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো হলো- একজন যাত্রীকে বাস/মিনিবাসের পাশাপাশি দুইটি আসনের একটি আসনে যাত্রী, অপরটি অবশ্যই ফাঁকা রাখতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি অনুসারে শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট উল্লেখিত মোট আসন সংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি যাত্রী বহন করা যাবে না এবং দাঁড়িয়ে কোনো যাত্রী বহন করা যাবে না। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণপূর্বক বাস-মিনিবাস পরিচালনা করতে হবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যে ১২ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন সেগুলো হলো- স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক দূরত্ব ও শারীরিক দূরত্ব কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। বাস টার্মিনালে কোনোভাবেই ভিড় করা যাবে না। তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখে যাত্রীরা গাড়ির জন্য লাইনে দাঁড়াবেন এবং টিকিট কাটবেন। স্টেশনে পর্যাপ্ত হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। বাসে কোনও যাত্রী দাঁড়িয়ে যেতে পারবে না। বাসের সব সিটে যাত্রী নেয়া যাবে না। ২৫- ৩০ শতাংশ সিট খালি রাখতে হবে। পরিবারের সদস্য হলে পাশের সিটে বসানো যাবে অন্যথায় নয়। যাত্রী, চালক, সহকারী, কাউন্টারের কর্মী সবার জন্য মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক। ট্রিপের শুরুতে এবং শেষে বাধ্যতামূলকভাবে গাড়ির অভ্যন্তরভাগসহ পুরো গাড়িতে জীবাণুনাশক স্প্রে করতে হবে। যাত্রী ওঠা-নামার সময় শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে। যাত্রীদের হাত ব্যাগ, মালামাল জীবাণুনাশক দিয়ে স্প্রে করতে হবে। ফলে এসব নির্দেশনা বেশি ভাগ ক্ষেত্রেই বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: