গাজায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে অবরোধ দাবি, অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবি বৃটিশ লেবার পার্টির

85

বিরোধী লেবার দল গাজায় ইসরাইলের নৃশংসতার বিরুদ্ধে বৃটেনের হাউজ অব কমন্সে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে । নেতারা ফিলিস্তিনের কাছে বৃটিশ অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ইসরাইলের সরকারের বিরুদ্ধে অবরোধ দেয়ার দাবি তোলা হয়েছে। ইসরাইল-ফিলিস্তিন নিয়ে মুখ খুলেছেন বিরোধী লেবার দলের সাবেক নেতা জেরেমি করবিন। তিনি হাউজ অব কমন্সে জানতে চেয়েছেন- ইসরাইলের সঙ্গে বৃটেনের সামরিক সম্পর্কের প্রকৃতি কি রকম। একই সঙ্গে জানতে চেয়েছেন ইসরাইলের কাছে বৃটেন যেসব অস্ত্র বিক্রি করেছে, গাজায় বোমা হামলায় তা ব্যবহার করা হয়েছে কিনা। তার দলের অন্য নেতারা ইসরাইলের বিরুদ্ধে অবরোধ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, ইসরাইল বার বার আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।

তাই ইসরাইলের কাছে বৃটেনের অস্ত্র বিক্রি বন্ধের এখনই উত্তম সময়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল। উল্লেখ্য, ১১ দিনের যুদ্ধে নির্বিচারে গাজায় বোমা হামলা করে কমপক্ষে ২২৭ জনকে হত্যা করেছে ইসরাইল। পক্ষান্তরে হামাসের রকেট হামলায় ১২ ইসরাইলি নিহত হয়েছে। ইসরাইলের অভিযোগ, হামাসের রকেট হামলার জবাবে তারা বিমান হামলা করেছে। কিন্তু ঘটনার সূত্রপাত আল আকসা মসজিদে নামাজ আদায় করতে যাওয়া মুসলিমদের সঙ্গে ইসরাইলি পুলিশের সংঘর্ষ, জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের অধিকার লঙ্ঘনকে কেন্দ্র করে। এক পর্যায়ে ইসরাইল উন্মত্তের মতো বোমা হামলা শুরু করে গাজায়।

বৃহস্পতিবার এই যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোন করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। কিন্তু তার আহ্বানে কাঁধ ঝাঁকিয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনি হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। এ অবস্থায় জেরেমি করবিন বলেছেন, ওই অঞ্চলজুড়ে মৃত্যুর ভয়াবহতা, ধ্বংসযজ্ঞ এবং প্রাণহানী এখন ভীতিকর পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে। গাজায় যেসব ভবনকে টার্গেট করে বোমা হামলা হয়েছে, পশ্চিম তীরের সরু এলাকায় যে বোমা হামলা হয়েছে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠানকে যেভাবে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে তা জঘন্য। এ সময় তিনি ফরেন অফিস মিনিস্টার জেমস ক্লেভারলির কাছে জানতে চান, মন্ত্রী কি ইসরাইলের সঙ্গে বৃটেনের সামরিক সম্পর্কের ধরন ব্যাখ্যা করবেন এবং এই সহযোগিতা কি পর্যায়ে আছে। তিনি কি হাউজ অব কমন্সে বলবেন, ইসরাইলের কাছে বৃটেন যে অস্ত্রশস্ত্র বিক্রি করেছে, সেগুলোই গাজায় বোমা হামলায় ব্যবহার হচ্ছে কিনা? অথবা যেসব ড্রোন সরবরাহ দেয়া হয়েছে, তা ব্যবহার করে পশ্চিমতীর এবং গাজায় নজরদারিতে ব্যবহার হচ্ছে কিনা। এসব হামলায় ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে বেসামরিক মানুষের জীবন, হত্যা করা হচ্ছে এত্ত এত্ত মানুষকে।

জবাবে জেমস ক্লেভারলি বলেন, বৃটেনের অস্ত্র বিক্রির লাইসেন্স আছে। যেসব অস্ত্র বিক্রি করা হয়েছে তা নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। এ সময় ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত বৃটিশ লেবারেল ডেমোক্রেট দলীয় এমপি লায়লা মোরান হাউজ অব কমন্সে বলেন, ‘ফিলিস্তিনি ৬৩টি শিশুকে গাজায় হত্যা করা হয়েছে। এ কথা বলতে গিয়ে আমার হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে। আমাদের প্রয়োজন একটি যুদ্ধবিরতি। এই সুযোগটি ফ্রান্সের জন্য ছেড়ে দেয়া ঠিক হবে না বৃটেনের। বৃটিশ সরকার তার ঐতিহাসিক দায়িত্ব সঙ্কুচিত করেছে। এই দায়িত্বকে সমৃদ্ধ করার সময় এসেছে এখন।

ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধে চূড়ান্তভাবে বৃটিশ সরকার ব্যবস্থা নেয়ার আগে আর কত ফিলিস্তিনি শিশুকে লাশ হতে হবে, আর কত ফিলিস্তিনি বাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে যাবে, আর কত ফিলিস্তিনি স্কুল-হাসপাতাল বোমা দিয়ে উড়িয়ে দেয়া হবে? এ প্রশ্ন রেখে বক্তব্য রাখেন লিডস ইস্ট থেকে নির্বাচিত লেবার দলের এমপি রিচার্ড বার্গন। ক্ষোভঝরা কণ্ঠে তিনি বলেন, এখনই সময় ইসরাইলের কাছে বৃটেনের সব রকম অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করা। তিনি আরো বলেন, ইসরাইল বার বার আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। তাই এখনই সময় তার বিরুদ্ধে অবরোধ দেয়ার। ফিলিস্তিনিদের যেহেতু টিকে থাকার অধিকার আছে, তাই এখনই সময় ফিলিস্তিনকে একটি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া।