গৃহকর্মীকে নির্যাতনের পর হত্যা নাস্তা বানাতে না পারায়

9

গৃহকর্মীকে বলা হয়েছে বাসায় অতিথি এসেছে। তাদের জন্য নাস্তা তৈরি করতে । কিন্তু শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় নাস্তা তৈরি করতে পারেনি গৃহকর্মী। পরে অতিথিরা চলে যান। এর জের ধরে গৃহকর্তার লোমহর্ষক নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ দিতে হয়েছে গৃহকর্মীকে।

ময়মনসিংহ সদরের ঘাগরা এলাকার গৃহকর্মী সাবিনাকে হত্যার প্রায় আড়াই মাস পর মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

ঘটনার মূল অভিযুক্ত গৃহকর্তা ইঞ্জিনিয়ার আবুল খায়ের। নিহত গৃহকর্মী সাবিনা ময়মনসিংহ শহরের তৈমুর এক্সেল টাওয়ারের ১৪ তলায় ইঞ্জিনিয়ার আবুল খায়েরের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন। সেখানেই হত্যা করা হয় তাকে।

শুক্রবার দুপুরে পিবিআই ময়মনসিংহ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অভিযুক্ত ইঞ্জিনিয়ার আবুল খায়ের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। স্বামী-স্ত্রী উভয়কে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

পিবিআই জানায়, নিহত গৃহকর্মী সাবিনার বয়স প্রায় ২১ বছর। গত চার বছর ধরে ওই বাসায় কাজ করছিল সাবিনা। এই সময়ের মধ্যে কখনো তাকে তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হয়নি। নিয়মিত খাবারও দেয়া হতো না তাকে। খাবারের অভাবে সাবিনার শরীর শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। লাশ উদ্ধারের অন্তত দুই দিন আগে তার মৃত্যু হয় বলে ধারনা করা হচ্ছে।

তদন্তে জানা গেছে, বাসায় আসা অতিথির জন্য নাস্তা বানাতে সাবিনাকে নির্দেশ দেন গৃহকর্তা। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে নাস্তা বানাতে না পারায় অতিথিরা চলে যাওয়ার পর সাবিনার উপর নেমে আসে অমানবিক নির্যাতন। এক পর্যায়ে হত্যা করা হয় তাকে। পরে সাবিনার লাশ লাগেজে ভরে ফেলে আসা হয় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের পাশে।

গত ৯ নভেম্বর ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের গৌরিপুরে লাল রঙের লাগেজ থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর ঘটনার রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে ময়মনসিংহ পিবিআই। একপর্যায়ে লাশটি ময়মনসিংহ সদরের ঘাগরা এলাকায় সিরাজুল ইসলামের মেয়ে সাবিনার বলে শনাক্ত হয়।

পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, এ হত্যার ঘটনায় গত বুধবার রাতে বাড়েরার একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় গৃহকর্তা ইঞ্জিনিয়ার আবুল খায়ের ও তার স্ত্রী রিফাত জেসমিনকে। গ্রেপ্তারের পর অপরাধ স্বীকার করে তারা জবানবন্দি দিয়েছেন।

এ ঘটনায় হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন নিহতের বাবা-মা।